২০ নভেম্বর ২০১৯

জি কে শামীমের আলিশান বাড়িতে সুনসান নীরবতা

জি কে শামীমের আলিশান বাড়িতে সুনসান নীরবতা - ছবি : সংগৃহীত

সোনারগাঁওয়ের সনমান্দি ইউনিয়নের চর বলুয়া গ্রাম। চার দিকে গাছগাছালি আর সবুজের সমারোহ। সেখানেই আলিশান তিন তলা বাড়ি। প্রধান ফটকে মনোরম লোহারগেট। ভেতরে রয়েছে দামি দামি ফার্নিচার। বাড়িতে রয়েছে বিশাল বৈঠকখানা। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে এ বাড়ি নির্মাণ করলেও এখানে থাকতেন না জি কে শামীম। মাঝে মাঝে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসতেন। সর্বশেষ এসেছেন গত ঈদুল আজহায়। জি কে শামীমের এ আলিশান বাড়িতে এখন সুনসান নীরবতা। বাড়ির কেয়ারটেকার তালা দিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র। তবে জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকার উৎসুক জনতার নজর বাড়িটির দিকে।

জি কে শামীমের ভাতিজা দেলোয়ার হোসেন জানান, চাচা তো যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা। শেষ ঈদে বাড়ি এসেছিলেন। কেয়ারটেকার চলে গেছে দুই দিন আগে তালা দিয়ে। তবে কোথায় গেছে জানি না।
গুলশানের নিকেতনের কার্যালয় থেকে বিপুল টাকা ও অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেফতার হওয়া জি কে শামীম কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক তা জানেন না প্রতিবেশীসহ তার আত্মীয়-স্বজনরা।

স্থানীয় একটি সূত্রে জানায়, ঢাকার সবুজবাগে এক সময় মেসে থাকতেন জি কে শামীম। মাত্র ৩০০ টাকায় মেসের সিট ভাড়া দিয়ে থাকতেন। অথচ তিনি এত টাকার মালিক কিভাবে হলেন সেটা ভেবে কূল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। কোনো শিল্প কারখানা নেই, বড় ধরনের কোনো কোম্পানি নেই, শুধুমাত্র টেন্ডার-ঠিকাদারি করে শত শত কোটি টাকার মালিক কিভাবে হলেন সেই প্রশ্ন এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে।

সরেজমিনে সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের চর বলুয়া এলাকায় যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের বাড়িতে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া যায়। চর বলুয়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার উদ্দিনের তিন ছেলে ও চার মেয়ে। তাদের মধ্যে বড় মেয়ে লুৎফুনেছা মারা গেছেন। বাকি তিন মেয়ে বেলি, গোলাপী ও ইমামী সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তিন ছেলে হলোÑ গোলাম হাফিজ নাসির, জি কে শামীম ও হোসাইন।
স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, জি কে শামীমের বাবা আফসার উদ্দিন উপজেলার হরহরদী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি প্রায় ৪ বছর পূর্বে মারা গেছেন। বাবার স্মৃতি ধরে রাখতে পৈতৃক সম্পত্তি ৫-৬ শতাংশ জায়গার ওপর করা প্রায় ২-৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন তলা ভবন। কিন্তু বাড়িতে কেউ থাকেন না।

বাড়িতে মাঝেমধ্যে এলে অচেনা লোকদের নিয়ে বৈঠকখানায় সময় দিতেন। আর এত টাকা খরচ করে তিন তলা বিল্ডিং করলেও বাড়িতে শুধুমাত্র একজন কেয়ারটেকার থেকে বাড়িটি দেখাশোনা করেন। কিন্তু জি কে শামীম ঢাকায় আটক হওয়ার পর টিভিতে সংবাদ দেখে বাড়ির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে কেয়ারটেকারও আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে শামীমের বাড়ির পাশের চায়ের দোকানগুলোতে টেলিভিশনের সংবাদ দেখার জন্য বেশির ভাগ সময় এলাকার লোকজন ভিড় জমান।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জি কে শামীম ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। প্রাইমারি কেটেছে বাবার স্কুলে। এরপর সোনারগাঁ বারদী আলিয়া মাদরাসা থেকে এসএসসি সমমান (দাখিল) পাস করেন। এরপর উপজেলার পঞ্চমীঘাট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। ১৯৮৮ সালে লেখাপড়ার উদ্দেশে সোনারগাঁ ত্যাগ করে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় গিয়ে প্রথমে একটি মেসে উঠেন শামীম। সেখান থেকে তার বড় ভাই গোলাম হাফিজ নাসিরের মাধ্যমে ঠিকাদারির একটি লাইসেন্স করেন। একপর্যায়ে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে।

সনমান্দি ইউপি সদস্য ফজলুল হক জানান, শামীম বহু আগেই এলাকা ছেড়ে ঢাকায় বসবাস করত। মাঝে মাঝে সোনারগাঁওয়ে আসতেন। যতটুকু জানতাম, শামীম ঢাকায় বসবাস করে ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। আর যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সে। কিন্তু টিভিতে যখন দেখি জি কে শামীম কোটি কোটি টাকা নিয়ে আটক হয়েছেন। তারপর দেখি শামীমের সব তথ্য বের করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উনি ব্যক্তি হিসেবে খারাপ না। এলাকার সবাইকে সম্মান দিতেন এবং মুরুব্বিদের সম্মান দিয়ে কথা বলতেন।


আরো সংবাদ