১৫ নভেম্বর ২০১৯

ফরিদপুরে নিজ বাড়িতে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরে নিজ বাড়িতে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শহর সংলগ্ন সম্প্রসারিত ফরিদপুর পৌরসভার পশ্চিম গঙ্গাবর্দী গ্রামে বেড়িবাধ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ নিহত ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে।

নিহত ওই গৃহবধূর নাম ঝর্ণা মন্ডল (৪২)। তিনি ওই গ্রামের দুলাল মন্ডলের (৪৮) স্ত্রী। নিহত ঝর্ণা মন্ডল এক ছেলে ও এক মেয়ের মা। নিহতের স্বামী দুলাল মন্ডল রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তার ছেলে কৃষ্ণ মন্ডল (১৯) পড়াশুনার পাশাপাশি বাবার সাথে রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। নিহত গৃহবধূ ঝর্ণার মেয়ে বন্যা (১৭) পূজার আগে মামাবাড়িতে বেড়াতে যায়। মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়িতে ফিরে সে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালের খাবার খেয়ে দুলাল ও তার ছেলে কৃষ্ণ কাজ করতে বেরিয়ে যান। ওই সময় বাড়িতে গৃহবধূ ঝর্ণা বাড়িতে একাই ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে পেরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এসআই বেলাল হোসেন জানান, স্বামী ও ছেলে বেরিয়ে যাওয়ার পর দিনের কোনো এক সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই গৃহবধূর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, বসতবাড়ির যে ঘরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে সেটির দরজা খোলাই ছিল।

ওই এলাকার বাসিন্দা কাদের মোল্লা জানান, দুলাল ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরীহ প্রকৃতির। ২০ বছর আগে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এই পরিবারের সদস্যরা পশ্চিম গঙ্গাবর্দী এলাকার ওই জায়গায় জমি কিনে বসবাস করে আসছেন। তাদের কোনো শত্রু আছে বলে কখনোই শোনা যায়নি।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো: আলিমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশাসহ পুলিশের উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, এটি একটি ‘ক্লিন’ হত্যাকাণ্ড। হত্যাকারীরা হত্যা করতেই এসেছিল। তারা কোনো সহায় সম্পত্তির উপর হাত দেয়নি।

তিনি বলেন, নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


আরো সংবাদ