২০ নভেম্বর ২০১৯

সাবেক জুনিয়র অডিটরের ১৮ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরে দুদকের মামলায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ের সাবেক জুনিয়র অডিটর মো. শামসুল হককে (৬২) বিভিন্ন মেয়াদে ১৮ বছর স্বশ্রম কারাদণ্ড ও নয় লাখ ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতে জজ মো. মতিয়ার রহমান এ আদেশ দেন। রায় প্রদানের সময় জুনিয়র অডিটর মো. শামসুল হক আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মো. শামসুল হক রাজবাড়ী পৌরসভার সজনকান্দা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল থেকে ২০০২ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত পাংশা উপজেলার হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ে জুনিয়র অডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পাংশায় কর্মরত থাকা অবস্থায় শামসুল হক বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মচারীদের নামে ভূয়া জিপিএস (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) এর অগ্রিম বিল তৈরি করে ও মঞ্জুরিপত্র প্রস্তুত করে ওই কার্যালয় থেকে বিল পাশ করিয়ে মোট ৮ লাখ ৯ হাজার টাকা উত্তরা ব্যাংক রাজবাড়ী শাখায় নিজের হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেন। পরবর্তিতে ওই বিল ও মঞ্জুরি পত্র বিনষ্ট করে দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ফরিদপুর কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক গাজী শামসুল আরেফিন বিষয়টি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট পাংশা থানায় নিজে বাদী হয়ে শামসুল হককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তিতে তিনি নিজেই এ মামলার তদন্ত করে গত ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) প্রদান করেন।

দুদুকের ওই মামলার কৌসুলী মো. মজিববর রহমান জানান, আদালত বুধবার (১৬ অক্টোবর) জুনিয়র অডিটর মো. শামসুল হককে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সরকারি কর্মচারী হয়ে অর্থ আত্মসাৎ এর দায়ে ৫ বছর স্বশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম করাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

জালজালিয়াতি করার দায়ে দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারায় ৫ বছর স্বশ্রম কারদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাস বিনাশ্রম কারদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডবিধির ৮৭৭(৩) ধারায় ভূয়া হিসাব তৈরির দায়ে ৩ বছর স্বশ্রম কারদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১ মাস বিনাশ্রম করাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এছাড়া ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছর স্বশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

কৌসুলী মো. মজিববর রহমান আর জানান, তবে দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি একসাথে সব সাজা ভোগ করতে পারবেন। সেই হিসেবে তাকে ৫ বছর স্বশ্রম কারদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান না করা হলে ৬ মাস বিনাশ্রম কারদণ্ড ভোগ করতে হবে।


আরো সংবাদ