১৯ নভেম্বর ২০১৯

‘ভাত দে-কাজ দে, নইলে রিকশা চালাতে দে’

ফরিদপুরে কাফনের কাপড় পরে রিকশাচালকদের অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের লাঠিপেটায় ছাত্রসহ সাতজন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর সেখান থেকে রিকশাচালকদের হটিয়ে দেয়া হয়। তবে আন্দোলনরত রিকশা চালকেরা ঘোষণা দিয়েছেন যে, আগামী রোববার সকালে তারা পুনরায় কাফনের পড়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে সমবেত হবে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘ভাই দে-কাজ দে, নইলে রিকশা চালাতে দে’ এই শ্লোগানে ফরিদপুর শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলার দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে সমবেত হন রিকশা চালকেরা। তারপর তারা মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। এসময় সড়কের দুই পাশে এবং স্টেশন সড়ক এলাকায় সবধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিকশা চালকরা ইজিবাইক ভাংচুর করেছে এ অভিযোগে আন্দোলনকারী রিকশা চালকদের উপর নির্বিচার লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। এতে তিন ছাত্রসহ সাত জন আহত হন। এসময় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের লাঠিপেটায় আন্দোলনকারী রিকশা শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে আবরার নাদীম, শীতাংশ ভৌমিক ও অরবিন্দু বিশ্বাস নামে রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র তিনজন ছাত্র রয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম আন্দোলনরত রিকশাচালকদের উপর লাঠিচার্জের কথা স্বীকার করে বলেন, আন্দোলনকারী রিকশাচালকদের যানবাহন চলাচলের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য সড়কের একাংশ ফাঁকা করে দিতে অনুরোধ করে পুলিশ। রাস্তার কিছু জায়গা ফাঁকা হলে ইজিবাইকসহ প্রাইভেট কার চলাচল শুরু হয়। এসময় রিকশাচালকরা প্রায় ১০টি গাড়ি ভাংচুর করে। ফলে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে রিকশা চালকদের অবস্থান কর্মসূচি চালাকালে বেলা পৌনে ১১টার দিকে সেখানে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটি (সিপিবি) এর সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মনজুরুল আহসান খান ও রিকশা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ সেপ্টেম্বর জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির এক সভায় ফরিদপুর শহর থেকে ব্যাটারি চালিত রিক্সা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিক্সা থেকে ব্যাটারি ও মোটর খুলে ফেলার নির্দেশ দেয় পৌর মেয়র।

এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শহরে ব্যাটারি চালিত রিক্সার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে পৌরসভা। এর ফলে ফরিদপুর শহরে রিক্সার সংকট সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবনে অবর্ণনীয় দুর্দশা নেমে আসে।


আরো সংবাদ