১৫ নভেম্বর ২০১৯

রিকশায় চড়ে ভাইরাল শামীম ওসমান

দেশের প্রভাবশালী এমপিদের একজন শামীম ওসমান। জনতার মাঝে তাকে দেখা গেলেও রাস্তাঘাটে রিকশায় খুব একটা দেখা যায়নি। কিন্তু শামীম ওসমানের রিকশায় চড়ার একটি ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজে নবীন বরণ উৎসবে যোগ দেন শামীম ওসমান। অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ২টায় শামীম ওসমান কলেজ থেকে বের হওয়ার পরে পেছনে ছিল শত শত শিক্ষার্থী। তখন ব্যবহৃত গাড়িটি পেছনে পড়ে যায়। পরে শামীম ওসমান রিকশায় চড়ে কলেজের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের উদ্দেশ্যে যান শামীম ওসমান।

পথিমধ্যে অনেক উৎসুক মানুষ শামীম ওসমানকে দেখে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এর আগে তোলারাম কলেজের টর্চার সেল প্রসঙ্গে কথা বলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান।

সরকারি তোলারাম কলেজে নবীণ বরণ উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার কাছে তিনটি কলেজ খুব প্রিয়। তোলারাম কলেজ, মহিলা কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ কলেজ। কিন্তু কষ্ট লাগছে আমার। মেয়েদেরকে বলছি কারণ তোমাদের মা বা মেয়ে হিসেবে বিশ্বাস করি। তোমরা সত্য কথা বলবা তা না হলে আল্লাহর কাছে ঠেকা থাকবা।

এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, তোলারাম কলেজে টর্চার সেল কোথায় আছে? যেখানে মানুষ পিটানো হয়। আছে নাকি নাই? যদি না থাকে তাহলে হাত তুলে দেখাও। নাই? তাহলে আপনারা কারা যারা বলছেন শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে যে তোলারাম কলেজে ছাত্রদের নির্যাতন করা হয়। শুধু শহীদ মিনারে নয় আপনারা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে দাঁড়িয়ে বলেছেন।

তিনি বলেন, আমি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি সাথে সাথে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং বলেছেন, চলেন সমস্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে আমার কলেজে গিয়ে দেখান আমার কলেজে কোথাও একটা ছাত্র নির্যাতন হচ্ছে কিংবা করার জন্য ব্যবস্থা আছে সেখানে। যদি করা হয়ে থাকে তাহলে আমি নিজে পদত্যাগ করবো।

তাহলে যারা বলছেন, তারা কি আফগানিস্তান থেকে এসেছেন? তাতো না। আফ্রিকা থেকেও আসেন নাই। সুন্দরবনে জঙ্গলে থাকা কোনো জংলি পুরুষ তারা না। তারা আমার চেয়ে জ্ঞানী মানুষ। নামের আগে পরে অনেক টাইটেল আছে তাদের কারো নামে কবি, কারো নামে সাহিত্যিক। কারে নামে বিপ্লবী, কারো নামে ওমুক সভাপতি, ওমুক সাধারণ সম্পাদক। বলছেন কেন? কার ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। আপনার বাচ্চার? তোলারাম কলেজকে যদি আপনি বিতর্কিত করেন, মহিলা কলেজকে যদি আপনি বিতর্কিত করেন, নারায়ণগঞ্জ কলেজকে যদি আপনি বিতর্কিত করেন। কাকে বিতর্কিত করছেন? আমাকে? কেন? এই কলেজের ছাত্ররা আমাদেরকে ভালোবাসে একটু বেশি এই জন্য? আপনি এতো স্বার্থপর, এতো জঘন্য! আপনি এতো নিচু মানসিকতার লোক! আপনি আপনার সন্তানদেরকে টাইটেল দিয়ে দিচ্ছেন খুনি, গুন্ডা, মাস্তান।

শামীম ওসমান বলেন, একবার চিন্তা করেন তো যদি এই ছাত্ররা যদি আমাদের আমলের ৮১ সনের ছাত্র হতো আপনার বাড়ির ইট থাকতো কিনা এখন পর্যন্ত। আমাদের সময়ের ছাত্র হলে তো বাড়ির ইট থাকার কথা না। গিয়ে বলতো, ওই আমাদের সন্ত্রাসী বললি কেন?

তিনি বলেন, হাজার ছাত্র যদি রাস্তায় বের হয়। মহিলা কলেজেও ১০ হাজার আছে। নারায়ণগঞ্জ কলেজেও ১০-১৫ হাজার ছাত্র আছে। যদি সবাই মিলে রাস্তায় নেমে বলে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বললি কেন? কে আপনাদের রক্ষা করবে? আমাদের বাচ্চাদের আঘাত কইরেন না। এতে আপনার বাচ্চা আঘাতপ্রাপ্ত হবে। ভুল থাকতে পারে। সংশোধন করেন। আপনার মতামত থাকতে পারে। সেই মতামত বলেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও শামীম ওসমানের স্ত্রী সালমা ওসমান লিপি, সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বেলা রানী সিংহ, উপাধ্যক্ষ শাহ্ মো. আমিনুল ইসলাম, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শিরিন আক্তার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ মোদক প্রমুখ।


আরো সংবাদ