১৪ নভেম্বর ২০১৯

মেঘনায় জেলেদের উপর পুলিশের গুলি, অবস্থা আশঙ্কাজনক

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার এলাকায় এক জেলেকে মাথায় গুলি করার অভিযোগ উঠেছে নৌ ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে মেঘনা নদীতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ওই জেলেকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। তবে পুলিশ শর্টগান থেকে রাবার বুলেট ছুড়েছে বলে স্বীকার করেছেন।

ঘটনার পর মাসুম আলী (৪৭) নামে আহত ওই জেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই জেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবী স্বজনদের।

আহত মাসুম আলীর বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলার লেঙ্গুরকান্দি গ্রামে। এ ঘটনায় নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে আহত পুলিশের এএসআই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আহত জেলে মাসুম আলীর ছেলে আব্দুল আলী জানান, সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার ও নুনেরটেক এলাকায় বুধবার সকালে তিনি ও তার বাবা দুপুরের খাবারের জন্য নদীতে মাছ ধরতে যান। এসময় সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশ এসে তাদেরকে মাছ ধরতে নিষেধ করে।

এসময় তারা দুপুরের খাবারের জন্য শুধু অল্প মাছ ধরবেন বলে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা তাদেরকে গুলি করার নির্দেশ দিলে একজন পুলিশ সদস্য তার বাবার মাথায় গুলি করেন। এতে তিনি নৌকার মধ্যে লুটিয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা তাকে প্রথমে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি আনোয়ারুল হক জানান, মা ইলিশ মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা নিয়মিত নদীতে অভিযান পরিচালনা করি। সকালেও দুটি নৌকার অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল ধ্বংস করার জন্য নদী থেকে জাল উঠাচ্ছিলাম। হঠাৎ মাসুম আলী ও তার ছেলে একটি নৌকায় ও আরো কয়েকটি ছোট ছোট নৌকায় কিছু জেলে এসে বৈঠা দিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।

এসময় আত্মরক্ষার্থে আমরা রাবার বুলেট ছুড়লে এতে মাসুম আলীর কানের উপর দিকে একটি গুলি লাগে। পরে তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

তবে তিনি দাবী করেন, জেলেদের হামলায় ফাঁড়ির সহকারি উপ পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার ও কনস্টেবল রেজাউল আহত হয়েছেন। তারাও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী কার্যক্রম অগ্রসর হবো।


আরো সংবাদ