১৮ নভেম্বর ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ থেকে বিদায় নেয়ার আগে কাঁদলেন এসপি হারুন

নারায়ণগঞ্জ বিদায় নেয়ার আগে কাঁদলেন এসপি হারুন - ছবি : নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জ থেকে কেঁদে বিদায় নিলেন আলোচিত পুলিশ সুপার মোহম্মদ হারুন অর রশিদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদায়ী সংবর্ধনায় কাঁদলেন এসপি হারুন অর রশীদ। দুপুরে জেলা পুলিশ লাইনসে বিদায়ী সংবর্ধনায় বক্তৃতা করেন তিনি । বক্তৃতার এক পর্যায়ে কান্না করেন তিনি।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সদ্য বদলি হওয়া পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ৷

বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে সমালোচিত হয়েছি৷ আসলে এটা তদন্তে বের হবে । জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, ব়্যাব-১১ এর সিইও কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন আর রশীদকে পুলিশ হেড কোয়াটারে বদলি করা হয়েছে। নতুন পুলিশ সুপার না আসায় তিনি নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করেন।

এর আগে ৬ নভেম্বর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এসময় এসপি হারুন আর রশীদকে দেখে মুখভার করে নেন মন্ত্রী। এসপি উদ্দেশ্য করে মাথা নেড়ে কিছু বলে চলে আসেন। এরপর থেকে সেই অনুষ্ঠানেও দেখা যায়নি এসপিকে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি হারুনের চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীকে উঠিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এসপি হারুনকে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে সরিয়ে আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের শিগগিরই তদন্ত শুরু হবে।

গত ১ নভেম্বর রাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে বাসা থেকে তুলে আনার অভিযোগ ওঠে এসপি হারুন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিমের বিরুদ্ধে। শওকত আজিজ রাসেলকে ফাঁসানোর জন্য গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নাটক সাজিয়ে দুই নম্বর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এসপি হারুন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ১ নভেম্বর রাত পৌনে ১টায় নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শওকত আজিজ রাসেলের গাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় গাড়িতে থাকা শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে। পরে দুপুরের দিকে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেম ও বড় ছেলে আজিজ আল কায়সার টিটু এসপি অফিস থেকে ছেলের বউ ও নাতিকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেন। তবে শওকত আজিজ রাসেল ও ড্রাইভার সুমনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তবে বিপত্তি বাধে শওকত আজিজ রাসেলের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়িয়ে পড়লে। বিষয়টি খোলাসা হয় যে চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশন থেকে নয়, শওকত আজিজ রাসেলের বাসা থেকে স্ত্রী ও ছেলেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এরই মধ্যে দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন শওকত আজিজ রাসেল।


আরো সংবাদ