১৮ নভেম্বর ২০১৯

সোনারগাঁওয়ে সাবেক ইউপি সদস্যসহ ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

-

মাছ ধরার প্রজেক্ট থেকে মাছ ধরতে নিষেধ করায় সন্ত্রাসীরা সাবেক ইউপি সদস্যসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করেছে। 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লক্ষীবরদী এলাকায়  এ ঘটনা ঘটে । এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ এর অবস্থা আশংকাজনক।   

থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আঃ মজিদ, তার ভাই ইলিয়াস মিয়া তাদের ২৪ সদস্যের বেশ কয়েকজন বন্ধুদেরকে সাথে নিয়ে লক্ষীবরদী গ্রামের বর্ষার মৌসুমে নিজের বাড়ীর পুকুরে দীর্ঘদিন যাবত মাছের প্রজেক্ট করে ব্যবসা করে আসছিল।

ওই পুকুরের প্রজেক্ট থেকে বেশ কয়েকদিন ধরে একই গ্রামের আঃ খালেকের ছেলে স্বপন মিয়া কাউকে কিছু না বলে জোরপূর্বক মাছ ধরে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে উক্ত পুকুরের প্রজেক্টের ব্যবসায়ীরা সকলে মিলে স্বপনকে মাছ ধরতে নিষেধ করে। কিন্তু স্বপন তাদের কোন কথা কর্নপাত না করে তাদের সবাইকে মারধরসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকী প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার বিকেলে পুনরায় সেই মাছের প্রজেক্টে মাছ ধরতে আসলে তাকে বাঁধা প্রদান করলে উভয় পক্ষে তর্ক বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় বিষয়টি আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকেই মিমাংসা করে দেয়। কিন্তু এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে একই দিন সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বিশনাদী বাজারে ইলিয়াস মিয়ার ভাই আঃ মজিদ মেম্বার, তার ভাই মোস্তফা ও ইলিয়াসের ছেলে পলাশকে একা পেয়ে স্বপনের নেতৃত্বে তার ভাই রতন, মকবুল, সাইদুল, রতনের ছেলে ইয়াছিন, শাহাদাত, শাহপরান, রাসেল, মৃত. কদম আলীর ছেলে মনির, মৃত. নুরু মিয়ার ছেলে জয়নাল, হযরত আলী, মোসলেমের ছেলে হৃদয়, আসকর আলীর ছেলে কবির হোসেন, ইলিয়াসের ছেলে শাকিল এবং বিশনাদী গ্রামের হযরত আলীর ছেলে অহিদুলসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫জন সন্ত্রাসী মিলে তাদের পথরোধ করে। পরে ধারালো অস্ত্র দা, বটি, লোহার রড ও লঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর  অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক মেম্বার আঃ মজিদের মাথায় ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। এসময় মজিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার ভাই মোস্তফা ও ভাতিজা রাসেল সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারাও মারাত্মক আহত হয়।

এদিকে সন্ত্রাসীরা আহত মোস্তফার সঙ্গে থাকা ৪০ হাজার টাকা ও তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহতদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে সাবেক মেম্বার আঃ মজিদের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আহত সাবেক মেম্বার আঃ মজিদের ভাই ইলিয়াছ বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ নেয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ