২০ নভেম্বর ২০১৯

গোসলের পর কাফন পরানো হলেও জানাজা হল না কিবরিয়ার

গোসল করিয়ে কাফন পড়ানোর হলেও জানাজা হল না রাজবাড়ীর কালুখালি উপজেলার মাছবাড়ী ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের গোলাম কিবরিয়া বিস্কুটের(৪০)।

কাজীপাড়া গ্রামের ধনাঢ্য ব্যাবসায়ী মনজুর হোসেনর মারপিটে আহত কিবরিয়া বৃহস্পতিবার রাতে ফরিদপুর মেডেকেল কলেজ হাসাতালে মারা যায়। কিবরিয়ার স্ত্রী সাবানা বেগমের এমন অভিযোগে কালুখালি থানা পুলিশ শুক্রবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে রাজবাড়ী মর্গে পাঠিয়েছে ময়না তদন্তের জন্য।

এ বিষয়ে সাবানা বেগম কাজীপাড়া গ্রামের মনজুর হোসেনকে আসামী করে কালুখালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার সকাল থেকে ওই ঘাতক মনজুর হোসেন পলাতক রয়েছে।

কালুখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান জানান, সোনাপুর বাজারের পিয়াজ ব্যাবসায়ী মনজুর হোসেনকে গ্রেফতারে পুলিশের কয়েটি টিম কাজ করছে।

এদিকে কিবরিয়ার মুত্যু স্বাভাবিক ও ব্রেন স্ট্রোক বলে প্রচার করে এ ঘটনা থামাচাপা দিতে মনজুর হোসেন তার বড় ভাইসহ এলাকার একাধিক প্রভাবশালীদের দিয়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সাবানা বেগম থানায় তার লিখিত আর্জিতে জানান, তার স্বামী গোলাম কিবরিয়া প্রতিবন্ধী কাজীপাড়া গ্রামের তাদের প্রতিবেশি মনজুর হোসেন বাড়িতে মাসিক দেড় হাজার টাকা বেতনে রাখালে কাজ করত। গত ৬ নভেম্বর সকালে তার স্বামী কাজে যেতে দেরী করলে কাজে ভুল ধরে তাকে বেদমভাবে লাঠি পেটা করে। এতে কিবরিয়া মারাত্মক আহত হলে প্রথমে রাজবাড়ী সদর হাসাপাতালে ভর্তি করলে সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে ওই রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

মাছবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী ফরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, কিবরিয়ার মৃত্যু অস্বাভাবিক। মনজুর হোসেনের মারপিটেই আহত হয়ে সে মারা গেছে। তিনিও মনজুরের শাস্তি দাবি করেন।

অপরদিকে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে, কিবরিয়া প্রতিবন্ধী হওয়ায় সংসারে অভাব মেটাতে তার স্ত্রী সাবানা বেগম সোনাপুর বাজারে প্লাটিকের খেলনার দোকান করছে গত দু’বছর ধরে। একই বাজারে একই গ্রামের লোক বিধায় সাবানার সাথে মনজুরের একটা অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। আর এটাকে আরো সহজ করতে মনজুর তার বাড়ির কাজের লোক কিবরিয়াকে দুনিয়া থেকে সরাতে এ পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। কিন্তু সাবানা বেগম এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


আরো সংবাদ