১৯ জানুয়ারি ২০২০

টঙ্গীতে পাল্টা পাল্টি ঝাড়ু মিছিল

টঙ্গীতে বস্তির নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত সোমবার বস্তি উচ্ছেদের পক্ষের গ্রুপ উচ্ছেদের বিপক্ষের গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বস্তিবাসীদের সাথে নিয়ে ঝাড়ু মিছিল করেছে উচ্ছেদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া গ্রুপটি। অপরদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কাঠাল দিয়া এলাকা থেকে বস্তি উচ্ছেদের পক্ষের গ্রুপ বিপক্ষের গ্রুপের বিরুদ্ধে অপর একটি ঝাড়ু মিছিল বের করে। মিছিলটি স্থানীয় দেওড়া ফকির মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

ছিন্নমূল বস্তিবাসীরা জানান, তারা রাজউকের পরিত্যাক্ত শিল্প প্লটে অস্থায়ী ঝুপরি ঘর উঠিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত বাস করছেন। রাজউকের শিল্প জোনের স্থানীয় কাঠালদিয়া বস্তির একটি অংশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয় তাদের ওই প্লটে ঢাকার কেমিক্যালের গোডাউন স্থানান্তরের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ওই শিল্প প্লট থেকে বিদ্যমান বস্তি উচ্ছেদের জন্য মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বিতর্কিত একজন আওয়ামীলীগ নেতার মাধ্যমে অতি গোপনীয়তার সহিত বস্তিবাসীদের ওই ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া হচ্ছে।

বস্তিবাসীর অভিযোগ, ওই আওয়ামীলীগ নেতা বস্তিবাসীদেরকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে নামেমাত্র ক্ষতিপূরণের টাকা ধরিয়ে দিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় বস্তিবাসীরা মহানগর যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতার শরণাপন্ন হন। ওই নেতা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া বস্তি না ছাড়ার জন্য বস্তিবাসীদের পরামর্শ দেন। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া উচ্ছেদের চেষ্টা করা হলে তিনি বস্তিবাসীদের পাশে থাকবেন বলে বস্তিবাসীদের আশ্বস্ত করেন। ইতিমধ্যে একটি হত্যাকা-ের ঘটনায় বিতর্কিত ওই নেতার ফাঁসির দাবিতে এলাকায় ব্যাপক পোস্টারিং হয়। এঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। গত সোমবার ওই বিতর্কিত নেতার ভাইয়ের নেতৃত্বে আলোচিত হত্যা মামলার আসামীরা বস্তি উচ্ছেদের বিপক্ষের গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় একপর্যায়ে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সোমবারের হামলার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া বস্তি উচ্ছেদ চেষ্টার প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল বের করে বস্তিবাসী। ঝাড়ু বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক সমাবেশে শেষ হয়।

এসময় বস্তিবাসীর পক্ষে বস্তি নেতা তানিয়া ও আলামিন সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, একটি মহল বস্তি উচ্ছেদের লীজে এনে বস্তিবাসীদের বিনা ক্ষতিপূরণে উচ্ছেদ করার পায়তারা করছে। ইতিমধ্যে ওই মহলটি বস্তি উচ্ছেদের জন্য ভাগাটে মাস্তান দিয়ে বস্তিতে কয়েকবার হানা দেয়। বস্তিবাসীর প্রতিরোধের মুখে উচ্ছেদকারীরা পালিয়ে গেলেও তারা বস্তি নিয়ন্ত্রণে নিতে সারাক্ষণ একের পর এক অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া বস্তি ছাড়া হবে না বলে সমাবেশে ঘোষণা দেয়া হয়। বক্তারা আরো বলেন, জান দিবো তো ক্ষতিপূরণ ছাড়া বস্তি ছাড়বো না। এদিকে টঙ্গীর কাঁঠালদিয়া, জিন্নাত, নামাবাজার, কলাবাগান, বেঙ্গল ও কড়ইতলা বস্তি নিয়ন্ত্রণে নিতে পাল্টা সভা সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে বস্তি উচ্ছেদ চেষ্টাকারী দল। এমন পরিস্থিতিতে বস্তিগুলোতে যে কোন সময় সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন বস্তিবাসীর দিকে কড়া নজর রাখছেন।

উল্লেখ্য, টঙ্গীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৯টি বস্তি রয়েছে।


আরো সংবাদ