২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

‘চেয়ারটা চলে যাওয়ার পর মানুষ দূরের কথা আপনার বাড়িতে মাছিও যাবে না’

চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী - ছবি : সংগৃহীত

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এসএসসি ফরম পূরনে দুর্নীর্তি ও অনিয়ম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। একই সাথে তিনি বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাংচুর নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় দলীয় নেতারা সম্পৃক্ত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় নেয়া হবে ও দল থেকে বহিস্কার করা হবে বলে ঘোষণা দেন। দল থেকে বহিস্কার করা হবে দোষীদের।

স্থানীয় ছাত্রলীগ সভাপতির নাম এসেছে । তাকে দল থেকে বাদ দিতে বলেছি। ক্ষোভের সাথে তিনি নেতাদের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন চেয়ারটা চলে যাওয়ার পর বুঝবেন মানুষতো দূরের কথা আপনার বাড়িতে মাছিও যাবে না।

বৃহস্পতিবার উপজেলার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ ঢাকাস্থ শিবচর উপজেলা সমিতির বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর এমন হুশিয়ারিমূলক কঠিন বক্তব্যে উপস্থিত সকলে মুর্হুমুহু করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল। একই দিন সন্ধ্যায় পৌর আওয়ামী লীগের ত্রী-বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে সর্বসম্মতক্রমে মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন খানকে (তোতা খান) সভাপতি এবং শংকর চন্দ্র ঘোষকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করে ৬৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ শাহাবুদ্দিন মোল্লা, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুনির চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিয়াজ উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বাবু কাজল কৃষ্ণ দে, শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ খালিদ হোসেন ইয়াদ, শিবচর পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন খান উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল লতিফ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ সেলিম প্রমুখ।

চীফ হুইপ আক্ষেপ করে আরো বলেন, কুতুবপুর স্কুলে মিলাদের জন্য ৫শ টাকা করে বেশি নেয়া হয়েছে। মিলাদের মিস্টির জন্যতো ৫০ টাকার বেশি লাগার কথা না। বাকি টাকা কোথায় যায়? কোন কমিটির ব্যর্থতা শিক্ষকদের অনৈতিক কাজের দায় আমরা নেব না। কমিটি করার সময় সভাপতি সহসভাপতি লাগবে সুপারিশ করেন। আবার ২ বছরে মিটিং এ আসবেন না। তা হবে না। স্কুলের ঘটনায় তারাই আসামী হবেন। শিক্ষকরা তাদের দলাদলিতে ছাত্রদের কাজে লাগাবেন, তা হবে না। কাউরে বাসায় গিয়ে আমরা পোস্ট দেই না। পোস্ট পেলে পদের সম্মান করবেন। কুতুবপুরে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনও গেছে। তদন্ত হতো। ব্যবস্থা গ্রহন করতো। প্রধান শিক্ষক অপসারন করতেই হবে। ও অপসারন হলে কি ফেরেসতা আসবে? ‘যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ ’পরেরটা আরো খারাপ। এভাবে আন্দোলন ঠিক না।

নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাকালে অনেক কষ্ট করে শিবচরের সম্মান এ পর্যায়ে এনেছি। আজ সবাই শিবচরের প্রশংসা করে। দুই একজনের জন্য এর বদনাম হবে। এর দায় আমি বা আমার দল নেবে না। ভবিষ্যতে শিক্ষকরা যেকোন সিদ্ধান্ত ভেবে নেবেন। পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত টাকাই নিবেন । এক টাকাও বেশি নিতে পারবেন না।

সরকার টাকা বাড়ালে ভবিষ্যতে বাড়াবেন। কোনো স্কুল কলেজ যদি অনৈতিকভাবে টাকা নেয়। তাহলে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যে টাকা পায় টোটাল টাকা আমি বন্ধ করে দেব। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমি টাকা দেব না। এমপিওর টাকা নিয়েই চলতে হবে। আগামী দিনে শিবচরের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল। ঘরের কাছে আমরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করে দিচ্ছি। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা একাধিক ভবন করে দিচ্ছি। ১ তলার জায়গায় ৪ তলা ভবন করে দিচ্ছি। এখনো ৩৬ টি ভবন নির্মান কাজ চলছে। এমপিওভুক্ত হতে হবে প্রতিযোগিতায়। কোনো তদবিরে হবে না। আমরা ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৫ লাখ টাকা করে এফডিআর করে দিয়েছি। এমনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ৫০ লাখ ৭০ লাখ টাকা এফডিআর করে দিযেছি। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এফডিআর দেব। যাতে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী শিক্ষকদের কাজে লাগে। সরকারও সহযোগিতা করবে আমরাও করবো। আমাদের ইচ্ছা ছেলেমেয়েরা শিবচরের নাম উজ্জ্বল করবে ।


আরো সংবাদ