১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

ব ই আ লো চ না

-

বইটি লিখেছেন তুর্কিস্তানের অন্যতম বিখ্যাত প্রফেসর ড. ইহসান সুরাইয়্যা সিরমা। তার কয়েক বছরের গবেষণার ফসল এই বই। অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ বুরহান উদ্দিন। সম্পাদক ড. মুহাম্মদ নূরুল আমিন। বের করেছে মেধা বিকাশ প্রকাশন, বাংলাবাজার, ঢাকা।
আজকাল ধর্মীয় বিভেদই বেশি, অথচ ধর্মবিশ্বাস এবং জাতিগতভাবে ৫০টি ভিন্নধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে গড়ে উঠেছিল উসমানি খিলাফত। উসমানিদের পূর্বপুরুষদের আবাসভূমি ছিল মধ্য এশিয়া। ধর্ম ছিল পৌত্তলিক। সেই ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম তাদের মধ্যে একটি ডায়নামিজমের সৃষ্টি করে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সময়কালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্প্রদায়ে পরিণত হয়। দিগি¦দিক ছড়িয়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের সফলতা।
আবার তাদের পতনের কারণও ছিল এই ইসলাম। অর্থাৎ তারা দ্বীনের মহান শিক্ষাকে ত্যাগ করতে থাকে, তখনই মহান আল্লাহ তাদের থেকে এই নিয়ামত কেড়ে নেন। মূলত এই উত্থান-পতনের সব দিক ও বিভাগ নিয়েই রচিত এ বইটি।
প্রথম খলিফা আবু বকর রা:-এর সময় ফিলিস্তিনে বাইজান্টাইনদের নিয়ন্ত্রিত শহরগুলো এবং দ্বিতীয় খলিফা উমর রা:-এর সময় বাইজান্টাইনদের এলাকাগুলো বিজিত হয়। সেই সাথে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা:-এর নেতৃত্বে সমগ্র পারস্য সাম্রাজ্য ইসলামী রাষ্ট্রের অধীনে চলে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য রাষ্ট্র উসমানি শাসনামলে বিজিত হয়। অনুবাদকের ভাষায়Ñ ‘কনস্টান্টিনিয়ার বিজয়ের জন্য মুসলমানগণ অনেক বেশি প্রচেষ্টা চালান, কিন্তু কোনোক্রমেই বিজয় করতে পারছিলেন না, অবশেষে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উসমানি রাষ্ট্রকে বিজয় অর্জন করার তাওফিক দান করেন।’ এরপর ইউরোপ, ইতালি, স্পেনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানেও সফল হন। ইহুদি-খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন জাতীয়র সাথেও রয়েছে যথাযথ ভূমিকা। বিশ্বযুদ্ধেও রয়েছে তাদের যুক্তিযুক্ত অবস্থান।
পরস্পর কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে উষ্ট্রের যুদ্ধও। এসব কিছুই সুন্দরভাবে বইটিতে আলোচিত হয়েছে। হয়েছে এসব বিষয় ও ঘটনার ফলাফল বা মূল্যায়ন।
মূল লেখক বইটি থিসিস হিসেবে লেখার সময় উসমানীয় শেষ খলিফা আব্দুল মাজিদের ব্যক্তিগত সহকারী হুসাইন নাকিব তুরহানের সাথে সময় দিয়েছেন। ফলে বইটিতে অনেক অজানা তথ্য-উপাত্ত উঠে এসেছে। অজানা বিষয়গুলো চুম্বকের মতো টানবে পাঠককে। বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি।
Ñ নূর ইবনে হান্নান

 


আরো সংবাদ