০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

শ্রুতি ও স্মৃতির সোনালি শিখা

যেমন দেখেছি তাঁকে
-

পঁয়ত্রিশ.
নিজেকে বুঝতে বুঝতেই বোধহয় জীবন চলে যায় মানুষের। তবু কি বোঝার শেষ হয়? বোঝে সব? না। বোঝে না। সব বোঝার মতো ঘটনা নয় জীবন। যেভাবেই হোক পথ চলে মানুষ। চলতে চলতে বোঝে নিজেকে। নিজের কাজ ও অভিরুচিকে। প্রিয় বিষয়গুলো থাকেই। থাকে অপ্রিয় যত। নিজের কাজেও থাকে পছন্দ, থাকে অপছন্দ। বাকিটা পছন্দ-অপছন্দের দুই দেয়ালের মধ্যবর্তী ঠিকানায়। পছন্দের তালিকা খুব দীর্ঘ হয় না। অপছন্দেরও নয় দীর্ঘতা। তবুও অপছন্দ বা অপ্রিয় বিষয়গুলো মানুষের মধ্যেই থাকে। অপছন্দের কিছু থাকে অন্যের সাথে যুক্ত। কিছু নিজের সাথে নিজের। নিজেকে পছন্দ করা অথবা অপছন্দ করার যুক্তিও ফেলে দেয়া যায় না। নিজের ভেতর কিছু অপ্রিয় বিষয় নিজেই স্বীকার করে নিতেন আল মাহমুদ।
বলতেন, আমার অপ্রিয় বা অপছন্দ আমার আলসেমি। আমি অলস মানুষ। অলসতা আমাকে অনেক লেখা লিখতে বিরত রেখেছে। মাথায় অনেক পরিকল্পনা জন্ম নিত। অনেক আইডিয়ার জন্ম হতো লেখার বিষয়ে। এর অনেক কিছু লেখা হয়েছে। অনেক কিছুই হয়নি। হয়নি যা আলস্যের কারণই বড়। আনুষঙ্গিক কারণ হয়তো ছিল কখনো কখনো। কিন্তু বড় কারণ আলস্য। এ আলস্য আমার আজীবনের। আলস্যের কারণে অনেক সময় ট্রেন মিস করেছি। বাস ছেড়ে গেছে আমাকে রেখে। এভাবে আমার জীবন আলস্যপূর্ণ।
বলেছেনÑ এতে লাভও যে হয়নি এমনও নয়। আলস্য কখনো কখনো আশীর্বাদ হয়ে জেগে উঠেছে আমার জীবনে। কবিতার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা পেয়েছে এ আলস্য। প্রত্যাবর্তনের লজ্জা নামে যে কবিতাটি ‘সোনালী কাবিন’ গ্রন্থে। কবিতাটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ। আমার আলস্যে ট্রেন ফেল করা নিয়েই লেখা কবিতাটি। এভাবেই কখনো কখনো আলস্য কবিতা হয়ে উঠেছে। তবুও আলস্য আমাকে ধীরগতির মানুষ করে তুলেছে। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে আলস্য না হলে আমি সেগুলো এড়িয়ে যেতে পারতাম। পারিনি শুধু আলস্যের টানে।
পত্র-পত্রিকা থেকে অনেকে আসতেন লেখা চেয়ে। বিশেষ করে আসতেন কবিতার বায়না নিয়ে। হাতে সম্মানী গুঁজে দিতেন অনেকেই। অগ্রিম সম্মানী পেয়ে খুশি হয়ে উঠতেন আল মাহমুদ। অথচ নির্দিষ্ট সময়ে লেখাটি দিতে পারেননি তিনি। কেন পারেননি তার কারণ তিনিই বলেছেনÑ পারিনি, আলস্য তো ছিলই। আরো একটি বিষয় ছিল; এটি কবিদের জীবনে থাকেই। সেটি আমার ছিল পুরোমাত্রায়। ইচ্ছে করলেই কবিতা লেখা হয়ে উঠত না আমার। জোর করে কবিতা লেখা হয়ে ওঠেনি আমার। হতো না। আবার কোনোরূপ চেষ্টা ছাড়াই কবিতা টোকা দিত মনের দরজায়। এভাবে আমার কবিতা আলস্য ও আয়োজনের দৈব ঘটনার প্রকাশ। কবিতা মনে খেললেও অনেক সময় শুধু আলস্যের বশে লেখা হয়নি। কবিতা তো একরকম হলো। গদ্যের ক্ষেত্রে পরিশ্রমটিতে বেশিই পুঁজি দিতে হয়। এ পুঁজি সব সময় আমি দিতে পারিনি। যারা লেখার জন্য অগ্রিম সম্মানী তুলে দিত হাতে, নির্দিষ্ট দিন লেখাটি না পেলে ভীষণ অসুবিধায় পড়ত। এমন অনেকেই অসুবিধার যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। কতবার ভেবেছিÑ আর আলসেমি নয়। কিন্তু সময়মতো আলস্য আমাকে ঠিকই ঘিরে নিয়েছে। আমাকে দূরে ঠেলে রেখেছে আমার কর্মবীণা থেকে।
আমার আলস্যের আরেকটি সুফল ছিল বইয়ের ভেতর মুখ গুঁজে থাকার অবাক কৌশল। লিখতে ইচ্ছে করছে না! আলস্য কামড় বসিয়ে ধরে রেখেছে বিছানায়। ঠিক শুয়ে শুয়ে তখন বইয়ের পৃষ্ঠায় দৃষ্টি ঢেলেছি। বইয়ের হৃদয় থেকে আলোর জ্যোতি কুড়িয়েছি। নিজের ভেতর নিয়েছি জগতের রহস্য। এভাবে কখনো কখনো বাইরে বয়ে যাওয়া ঝড় ওলটপালট করেছে কত কী, আমি তখনো বইয়ের পাতায় বুঁদ। কে এলো, কে গেল, কী হলো না হলোÑ এ নিয়ে খবর ছিল না আমার।
আল মাহমুদের একটি অপছন্দ ছিল অন্যের চরিত্র নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা। অন্যের দোষত্রুটির সমালোচনা খুব অপছন্দের ছিল তাঁর। মানুষ সাধারণত অন্যের অবর্তমানকে পুঁজি করে। যে উপস্থিত নেই শুরু হয় তার বিরুদ্ধে চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারের পালা। তার যত খারাপ দিক তাকে ফুলিয়ে প্রায় বেলুন করে তোলে। কখনো কখনো ফেটে পড়ার উপক্রম হয়। সাহিত্যাঙ্গনে এ সমালোচনা তীব্র। কবিদের মধ্যে মাত্রাটি আরো অধিক। পরস্পরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ির প্রতিযোগিতা চলে প্রায়। কে কার থেকে এগিয়েÑ এমনই এক বাহাদুরির ঝড় তোলা। হয়তো ঘনিষ্ঠজন। কিন্তু সামনে নেই। নেই বলেই শুরু হয়ে গেল তার বিষয়ে সত্য-মিথ্যার বেসাতি। আল মাহমুদ এসব পছন্দের জায়গায় কখনো নেননি। তাঁর মুখে কারো বিষয়ে সমালোচনা শুনিনি। কারো খারাপ কোনো দিকের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে কথাও বলতেন না। তাঁর স্বভাব ছিল, কারো বিষয়ে সমালোচনা থাকলে লিখে বলতেন। তিনি আক্রান্ত হলে তার জবাবও লেখার মাধ্যমেই দিতেন।
তিনি বলতেনÑ একজন মানুষের সব কিছু প্রশংসার থাকে না। সব কিছু গ্রহণ করারও থাকে না। ভালো-মন্দ দুটো দিকই মানুষের মধ্যে প্রবল। সুতরাং মন্দ দিক আলোচনার বিষয় হতে পারে না।
যাদের ভেতর হামবড়া ভাব এমন মানুষ অপ্রিয় ছিল আল মাহমুদের। সাদা কথায় যাকে বলে অহঙ্কারীÑ এমন মানুষ ছিল তার খুব অপছন্দের। সব অঙ্গনে কিছু মানুষ আপন অহঙ্কারে খানিকটা মোটা হয়ে যান। অন্যকে খাটো করে দেখার প্রবণতা তাদের সহজাত। এমন লোকদের বিষয়ে আল মাহমুদ বরাবরই সতর্ক ছিলেন। নিজেদের উঁচু করে দেখার প্রবণতায় এসব লোক কম দৃষ্টির। নিজেকেই মাথা তোলা ভাবে সবার ওপর। বাস্তবে এদের মাথাই দেখা যায় না। কথায় কথায় কাউকে তুচ্ছ করার চেষ্টায় এরা প্রতিভাধর।
এমন অপছন্দের কিছু প্রকাশক ছিল তাঁর। এসব প্রকাশকেরও হামবড়া ভাব চোখে পড়ার মতো। যার লেখাই প্রকাশ করুকÑ বই করুক একজন লেখকের বই-ই তো করছে। লেখকের বই বিক্রি করেই তার পরিচয়। তার রুটি-রুজির আয়োজন। কোনো লেখক যদি পাণ্ডুলিপি না দেনÑ প্রকাশক হওয়ার কোনো সুযোগ কি থাকে? নিশ্চয়ই না। যে লেখকের বই প্রকাশ করেই তার পরিচয়, সে লেখকের চেয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা কিংবা নিজেকে লেখকের চেয়ে ওপরে ভাবার ইচ্ছের নাম কী রাখা যায়? এই মানসিকতার প্রকাশক নিন্দাযোগ্য। এমনই ভাবতেন আল মাহমুদ। তিনি বারবার বলতেনÑ একজন লেখকের সাথে প্রকাশকের তুলনাই চলে না। লেখক প্রকাশকের একটি সম্পর্ক আছে। থাকে। প্রকাশক বিনিয়োগ করেন। অর্থ খরচ করেন। তার মানে এই নয়, লেখকের সাথে প্রকাশকের তুলনা চলে। লেখকের সাথে একজন লেখকেরই তুলনা হয়। আর কারো নয়। সুতরাং লেখকের চেয়ে প্রকাশক বড়Ñ এমন হামবড়া প্রকাশককে কখনো প্রশ্রয় দেয়া যায় না। হয় এটি শিক্ষার অভাব, নয়তো রুচিহীনতা কিংবা মাত্রাজ্ঞানের দুর্ভিক্ষ। অহঙ্কারী প্রকাশকদের এড়িয়ে চলতেন তিনি।
বলতেনÑ এমন প্রকাশকদের কখনো প্রশ্রয় দেবে না। কোনোভাবেই প্রকাশক লেখকের সমতুল্য নয়Ñ এ কথাই প্রমাণ করে দেবে। তিনি প্রমাণ করেছেনÑ লেখকই বড়। লেখকের লেখা ছাড়া প্রকাশকের মূল্য কী? হ্যাঁ, ওরা টাকার মালিক। কিন্তু টাকার বই বানানো যায় কি? তবে? তবে কথা এটিই সত্য, একজন প্রকাশক অহঙ্কারী না হয়ে বিনয়ী হলেই কল্যাণকর। তার জন্য যেমন, লেখকের জন্যও। পাশাপাশি এ কথাও সত্য, লেখক-প্রকাশকের সেতুটি খুব সুন্দর। বন্ধনটি অনেক মজবুত এবং সম্পর্কটি মধুর।
একটি দুঃখ ছিল মাহমুদ ভাইয়ের। দুঃখটি প্রকাশকদের দায়িত্ববোধ নিয়ে কিংবা বলা যায় লেখকদের প্রতি আচরণ নিয়ে। বেশির ভাগ প্রকাশকই লেখককে ঠকানোর কৌশলে পারদর্শী। লেখকদের রয়ালিটির বিষয়ে স্বচ্ছ মানসিকতা খুব কম প্রকাশকেরই আছে। এর শিকার হয়েছিলেন আল মাহমুদ। সব প্রকাশক তাঁর সাথে সম্মানজনক আচরণ করেননি, বরং কষ্টদায়ক আচরণে বিদ্ধ করেছেন তাঁকে। কিছু প্রকাশকের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ ছিল বেদনার। তাদের কথা লেখা যায়। লিখলে এসব প্রকাশকের মুখ রক্ষা করা মুশকিল হবে। এদের ওপর চড়াও হবে অনেকে। কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হবে প্রকাশকদের প্রতি। কিন্তু এসব প্রকাশক কখনো নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করেনি, করে না; বরং দিনকে দিন আরো অহঙ্কারে তেজি হয়ে উঠছে। এসব প্রকাশককে আল মাহমুদ একরকম ঘৃণাই করেছেন। এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছেন বরাবর।
স্বার্থপরতা ছিল আল মাহমুদের খুব অপছন্দের। তিনি মনে করতেন স্বার্থপর মানুষ কখনো ভালো মানুষ হতে পারে না। ভদ্র মানুষও নন। একজন ভদ্র মানুষ স্বার্থপর নন কখনো। সেই সূত্রে বলা যায় স্বার্থপর কখনো ভদ্র নন। খুব ছোট বিষয়েই মানুষ নিজের স্বার্থটি উঁচু করেন। বাড়িয়ে দেন জিরাফের মতো লোভের গলা। সব কিছুতে নিজের স্বার্থকেই আয়না করে তোলার প্রবণতা আছে কিছু লোকের। লেখকদের মধ্যেই আছে এমন চরিত্রের জীবন্ত উদাহরণ। স্বার্থপর লেখকদের কোনো সৌন্দর্য থাকে না। এক ধরনের লোভ থাকে এমন মানুষের। এরা অন্যের পাশে দাঁড়ায় কেবল নিজের স্বার্থে। অন্যের দিকে হাত বাড়ায় তাও স্বার্থবশে। এদের চোখ স্বার্থের চোখ। হাত স্বার্থের হাত। এমন কিছু স্বার্থপর লেখক-কবি মুখোমুখি হতেন আল মাহমুদের। আসতেন বাসায়। আসতেন কিন্তু নিজের স্বার্থ নিয়েই। স্বার্থ উপার্জিত হলেই কেটে পড়তেন। যদি আঘাত লাগত স্বার্থে অমনি গোখরোর ফণা হয়ে উঠতে দেরি হতো না মোটেই। এমন আচরণে বেশ ক্ষুব্ধ হতেন আল মাহমুদ। কষ্ট পেতেন খুব। বলেছেন তিনিÑ স্বার্থপরতা খুবই খারাপ বিষয়। একে গ্রহণ করা যায় না। স্বার্থপর যেই হোক তাকে আমার কাছে ভয়ানক মনে হয়। সে আমার পরিবারের হলেও। হোক আমার সন্তান। স্বার্থপরতা হজম করা আমার জন্য দুষ্কর।
এ বিষয়ে আল মাহমুদের কথা ছিল পরিষ্কার। বলেছেনÑ আমি একা চলার মানুষ। একাকী আমার যাত্রা। একাই আমার পথ। কবির সঙ্গী কে হবে! কবিতার সঙ্গীও কেউ নন।
কবিতা নির্জন পথের যাত্রী। কবিও। যেহেতু আমি একা চলে অভ্যস্ত, সেহেতু আমি অল্পতেই তুষ্ট। লোভ কম আমার। অনেক কিছু পাওয়া কখনো কামনা করিনি। তবুও যারা শুধু স্বার্থবশে আমার প্রতি অবহেলা দেখিয়েছেন, তাদের কর্ম আমাকে আহত করেছে। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা আমার বেদনাকে উসকে দিয়েছে। আমার অধিকার থেকে আমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। বঞ্চিত করেছে আমাকে নানাভাবে। এসব করেছে কিছু স্বার্থপর মানুষ। আমি অবশ্য এসব নিয়ে কখনো ঘাঁটাঘাঁটি করিনি, প্রতিবাদও জানাইনি। আমার মনকে বুঝিয়েছি। আমি জানি আমার অধিকার থেকে যারা বঞ্চিত করেছে আমাকে। একদিন তারাও বঞ্চিত হবে। তারাও বেদনাবিদ্ধ হবে আমার মতন।
কেউ কেউ পাল্টা শিকার হয়েছেন দেখেছি আমি। সুতরাং আমি বিশ্বাসী মানুষ হিসেবে ভাগ্যের প্রতি আমার আস্থা দৃঢ়। ঠকিয়ে আমাকে ক্ষীণ করা যাবে নাÑ এ শক্তি আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। কেউ আমাকে বঞ্চিত করলেই আমি ঘুরে বসি ভাগ্যের দিকে। আমি জানি আমার নিয়তি আমাকে সেখানেই নেবে যেখানে আমার পৌঁছার কথা। তবে এ কথা আমি বুকে হতে দিয়ে বলতে পারিÑ আমি কোনো মানুষকে ঘৃণার চোখে দেখি না। দেখিনি। কেননা আর যা-ই হোক মানুষকে ঘৃণা করা যায় না। অপছন্দের মুখ থাকতেই পারে। একজন মানুষ সবার পছন্দের হবে, এ কথা বলা যায় কি? মোটেই না। অপছন্দের হলেই তাকে ঘৃণা করতে হবে, এ কথা আমি ভাবতে পারি না। ভাবতে পারি না মানুষ কী করে মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার আয়োজন করে!
গাড়ি কেনার খুব শখ ছিল আল মাহমুদের। কথা উঠলেই বলতেনÑ আমার হাতে পর্যাপ্ত টাকা এলে একটি গাড়ি কিনব। গাড়িতে চড়ে কবিতার আসরে যাওয়ারও একটি আনন্দ আছে। তা ছাড়া গাড়ি তো একেবারে প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। মোবাইল অথবা কম্পিউটার যেমন দরকারি। গাড়িও তাই। কিন্তু গাড়ির পুঁজিটি বেশি ভারী। বহন করা সবার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। যেমন আমার হচ্ছে না, হয়নি। অবশ্য এই নিয়ে কোনো আফসোস নেই আমার। হলে ভালো হতো। হয়নি বলে খারাপ হয়েছে এমন তো নয়।
জীবনভর একটি ভয় ছিল আল মাহমুদের। ভয়টি দুর্ঘটনার। রিকশায়, গাড়িতে, বাসে এমনকি বিমানে চড়ার ক্ষেত্রেও তার এ ভয়টি কাজ করত। তার মনে হতো এই বুঝি ঘটে গেল দুর্ঘটনাটি। জীবনে বেশ ক’বার দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছেন। ট্রেন এক্সিডেন্টে পড়েছেন। বাস এক্সিডেন্টেও পড়েছিলেন। তাঁর ভাষ্যানুযায়ী, অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিতে বারবার রক্ষা পেয়েছেন তিনি। অবশ্য এ কথা সত্য, দুর্ঘটনার ভয়ে কখনো কোথাও যাওয়া থেকে বিরত থাকেননি কখনো। বরং আগ্রহের সাথেই ঘুরেছেন দেশ-বিদেশ। চড়েছেন রিকশা থেকে বিমানে। যানবাহনে যখনই চড়তেন, আল্লাহর নাম নিয়েই চড়তেন। বলতেনÑ বিসমিল্লাহ, আল্লাহ তোমার ভরসা। তুমিই রক্ষা করো আমাদের। দুর্ঘটনার ভয়টি তার মনে জাগ্রত থাকত সব সময়। ভয়ের কাছে হার না মেনে ছুটেছেন সর্বত্র।
কবি আবদুল মান্নান সৈয়দের কথাটি এখানে বলা যায়। তিনিও দুর্ঘটনা ভয়ে কাতর ছিলেন। বিশেষ করে বিমানে চড়ার কথায় তিনি কেঁপে উঠতেন। তাঁর এ কম্পন এতটা প্রবল ছিল যে, এ ভয় থেকে তিনি বিদেশ সফর করেননি। শুধু বিমানে চড়তে হবে, এ ভয়ে তিনি দেশ ভ্রমণের অনেক দাওয়াত দু’হাতে ঠেলেছেন। [চলবে]

 


আরো সংবাদ