২০ নভেম্বর ২০১৮
টিকফা বৈঠক অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি পণ্যের ন্যায্যমূল্য দাবি 

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি পণ্যের ন্যায্যমূল্য দাবি  - সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি পণ্যের ন্যায্যমূল্য ও বাজার সুবিধা সম্প্রসারন চেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের শ্রম সংস্কারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শ্রম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

শুক্রবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা রুপরেখা চুক্তির (টিকফা) চতুর্থ সভায় দুই দেশ এই অবস্থান তুলে ধরেছে। সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসু। প্রতিনিধি দলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মুহম্মদ হাবিবুর রহমান খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও (বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা) সেলের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মইনুল ইসলামসহ ১২ জন ছিলেন।

আর যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মার্ক লিন্সকট। মার্কিন প্রতিনিধি দলে উপ-সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি জেবা রেয়াজুদ্দিন, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অর্থনৈতিক কাউন্সিলর বিল মোলারসহ ২০ জন ছিলেন।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য সহযোগিতাকরণ চুক্তি (টিএফএ) বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারিত করার অনুরোধ জানানো হয়। এক্ষেত্রে ডব্লিউটিও’র বালি মিনিস্টিরিয়ালের সিদ্ধান্তের আলোকে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। নার্স, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য সেবাখাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ সহজীকরণের জন্য অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।

সভায় বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের তথ্যাদি তুলে ধরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশী পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বাণিজ্য বিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে টেকসই উত্তরনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বাজারে বিশেষ করে তুলা ও ওষুধ রফতানি, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, সরকারি ক্রয় পদ্ধতি ও শ্রম ইস্যুতে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশে মার্কিন পণ্য ও সেবা বিক্রির বাধা দূর করার অনুরোধ জানানো হয়। বাংলাদেশের খসড়া ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ডাব্লিউটিও’র নোটিফিকেশনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টিকফা স্বাক্ষর হয়। ২০১৪ সালের ২৬ এপ্রিল টিকফার প্রথম সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর ওয়াশিংটনে এর দ্বিতীয় সভা এবং ২০১৭ সালের ১৭ মে ঢাকায় তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন :  শ্রিংলা যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রবাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস
কূটনৈতিক প্রতিবেদক ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৯

বিশ্বজুড়ে কূটনীতিক মিশনে ব্যাপক রদবদল আনতে যাচ্ছে ভারত। এর অংশ হিসাবে বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হতে পারে। আর বাংলাদেশে হাইকমিশনারের দায়িত্ব নিতে পারেন রিভা গাঙ্গুলী দাস। তিনি এখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংস্কৃতিক বিভাগ আইসিসিআর’র ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন নাভতেজ স্বর্ণা। চলতি বছর শেষে তার অবসর গ্রহণের কথা রয়েছে।


সব মিলিয়ে ৯টি দেশে নিযুক্ত কূটনীতিকদের মধ্যে রদবদল আনতে চলেছে ভারত। এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে মিয়ানমার, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, ব্রিটেন, স্পেন ও রাশিয়া।

চীনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে গৌতম বাম্বাওয়ালেকে প্রতিস্থাপন করতে পারেন বিক্রম মিসরি। বর্তমানে মিয়ানমারে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করছেন মিসরি। আর মিসরির জায়গায় বদলি হতে পারেন ইরানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সৌরভ কুমার।

এদিকে জাপানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সুজন চিনয় খুব শিগগিরই অবসরে যাবেন। তবে আগামী অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টোকিও সফর পর্যন্ত চিনয়কে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। এরপর তার জায়গায় নিযুক্ত হতে পারেন বর্তমান অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় বর্মা।

এছাড়া থাইল্যান্ডে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভগবন্ত বিষ্ণুর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বর্তমানে কেনিয়ায় নিযুক্ত হাইকমিশনার সুচিত্রা দুইরাইয়ের। ব্রিটেনে নিযুক্ত হাইকমিশনার যশ সিনহার জায়গায় বদলি হতে পারেন রুচি ঘনশ্যাম।

রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে পঙ্কজ শরনের জায়গায় বদলি হতে পারেন বর্তমানে স্পেনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভেঙ্কাটেশ বর্মা। আর তার জায়গায় পাঠানো হতে পারে বর্তমানে প্রোটোকল প্রধানের দায়িত্ব পালন করা সঞ্জয় বর্মাকে। 

আরো পড়ুন : শেখ হাসিনা-বার্নিকাট আলোচনায় যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলো
বাসস ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২৩:৩১

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সা বার্নিকাট আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মার্সা বার্নিকাট পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁদের আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এবং বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো উঠে আসে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘অনেক নির্বাচনেই আমরা পরাজয় বরণ করেছি, এমনকি খুব সামান্য ব্যবধানেও পরাজিত হয়েছি। কিন্তু কোনো নির্বাচনেই প্রভাব খাটিয়ে বিজয়ী হওয়ার চেষ্টা করি নাই।’ শেখ হাসিনা বলেন, যেকোনো ধরনের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলকে আগামী নির্বাচনকালে স্বাগত জানাতে তাঁর দল প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে তাঁর দেশের বিনিয়োগের আগ্রহ ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে এলএনজি রপ্তানি করতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করছে, কারণ উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই এর উদ্দেশ্য।

বার্নিকাট প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আগামী সভাপতি হিসেবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করবে।

প্রেস সচিব বলেন, দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পায়। রাষ্ট্রদূতকে প্রধানমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ গত বছর ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ