১৯ আগস্ট ২০১৯

হাজীদের দুর্ভোগ কমাচ্ছে ‘রোড টু মক্কা’

হাজীদের দুর্ভোগ কমাচ্ছে ‘রোড টু মক্কা’ - নয়া দিগন্ত

বিমানবন্দরের নানা ধকল, লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি আর ইমিগ্রেশনের মতো জটিল কাজটিও হাজীদের জন্য সহজ করে দিচ্ছে ধর্মমন্ত্রণালয়ের নতুন প্যাকেজ ‘রোড টু মক্কা’। এবছরই প্রথম হজযাত্রীরা নতুন এই সিস্টেমের সাথে পরিচিত হচ্ছেন। তবে সব হজযাত্রীকে ‘রোড টু মক্কা’ নামের বিশেষ এই সুবিধার আওতায় না আনতে পারলেও আগামীতে আশা করা হচ্ছে সব হজযাত্রী এই সুবিধা পাবেন।

এই বছরই প্রথম চালু করা হয়েছে ‘রোড টু মক্কা’ নামের এই প্যাকেজটি। এই প্যাকেজের আওতায় একজন হজযাত্রী বাংলাদেশ হজ্জক্যাম্প থেকেই তার সৌদির এয়ারপোর্ট তথা জেদ্দার ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতার সব কাজ শেষ করছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে থেকেই তার পাসপোর্টে সৌদির বা হজ্জের সীল লেগে যাচ্ছে। আর এই প্যাকেজের আওতায় একজন হজযাত্রীর লাগেজ নিয়েও কোথাও কোন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে না। বিমান বাংলাদেশের নিজস্ব তত্ত্বাবধানেই প্রত্যেক হাজীর লাগেজ পৌছে যাচ্ছে মক্কায় হাজীদের জন্য নির্ধারিত বাসায়।

আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পের পরিচালক (হজ অফিসার) মো: সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার নয়া দিগন্তকে জানান, রোড টু মক্কা’র আওতায় হজযাত্রীরা যাত্রাপথের নানা ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। বিশেষ করে জেদ্দা এয়ারপোর্টে হাজীদের ইমিগ্রেশন কাজ সম্পন্ন করতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় হতো। কিন্তু এখন সেই কাজটিই বাংলাদেশে থেকেই শেষ করা হচ্ছে। এছাড়া লাগেজ হারানো কিংবা খুঁজে পাওয়ারও কোন ভোগান্তি নেই। তিনি আরো বলেন, রোড টু মক্কা’র আওতায় হাজীরা স্বাচ্ছন্দে এবং কোন প্রকার দুর্ভোগ ছাড়াই মক্কায় যেতে পারছেন।

হজ্জক্যাম্পের পরিচালক আরো জানান, এবছর বাংলাদেশ বিমানের ১২২ টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৬২ হাজার হজযাত্রী রোড টু মক্কা’র আওতায় বিশেষ এই সেবা পাচ্ছেন। আগামীতে আমরা চেষ্টা করবো শতভাগ হজযাত্রীকে এই সেবার আওতায় নিয়ে আসার জন্য। ‘রোড টু মক্কা’ এই সুবিধায় কোন হজযাত্রীরা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হজ অফিসার জানান, কারা এই সুবিধায় আওতায় পড়ছে তা কেউই নির্দিষ্ট করে দিচ্ছেন না। একটি হজ ফ্লাইট থেকে আরেকটি ফ্লাইটের মধ্যে যে সময়ের ব্যবধান এর মধ্যে যে বা যার ফ্লাইট নির্দিষ্ট করা আছে তাদের মধ্য থেকেই কিছু হজযাত্রী এই সুবিধার আওয়ার পড়ছেন। তবে এটা হয়তো এক বা দুবছর। এর পর আমরা সব হজযাত্রীকেই এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে পারবো বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হজ্জ পরিচালনার কার্যক্রম। কোন ধরনের সংকট, জটিলতা ছাড়াই নির্বিঘ্নে সুষ্ঠুভাবে চলছে হজ্জ অপারেশনস-২০১৯। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স হজ্জ অপারেশন-২০১৯ এর কার্যক্রমের আওতায় সোমবার রাত ১২ টা পর্যন্ত সৌদী এয়ারলাইন্স এবং বাংলাদেশের বিমানের মোট ১৪৭ টি ফ্লাইটে ৫৩ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদী আরবে পৌছেছেন। যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন আরো প্রায় সাড়ে ৭৩ হাজার হজযাত্রী। এদের মধ্যে এখনো ভিসা হয়নি ৪৭ হাজার ৭শ’ ৭৫জনের।

চলতি হজ্জ মৌসুমের সকল সম্মানিত হজ্জ যাত্রীদের আবারও যাত্রার ০৮ (আট) ঘন্টা পূর্বে অবশ্যই আশকোনা হজ্জ ক্যাম্পে অবস্থান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বিমান ওয়েবসাইট, মতিঝিল বিমান সেলস অফিস ও আশকোনা হজ্জক্যাম্পে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ