১৮ আগস্ট ২০১৯

‘রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে’

-

রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নৃশংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ককে বিবেচনায় নেয়া হবে না। আইসিসির তদন্ত দল কোনো ধরনের জাতীয় বিতর্কে জড়াবে না।

ঢাকা সফররত আইসিসির উপকৌঁসুলি জেমস স্টুয়ার্ট গতকাল রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি গত মঙ্গলবার ঢাকা এসে পৌঁছায়। তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সাথে বৈঠক করেছেন। প্রতিনিধি দলটি জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করবে। রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলতে তারা কক্সবাজার যাবেন।

জেমস স্টুয়ার্ট বলেন, আমাদের ম্যান্ডেট পরিষ্কারভাবেই আইনি। আইসিসি বা কৌঁসুলির দফতরের রাজনৈতিক ভূমিকা পালনের সুযোগ নেই। আইসিসি একটি স্থায়ী ও স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠান। আদালতের অনুমতি পেলে আমরা কঠোর আইনি কাঠামোর মধ্যে কাজ করব।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা আর মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে রাখাইন থেকে তাড়িয়ে দেয়ার প্রাথমিক আলামত পেয়েছে আইসিসির তথ্যানুসন্ধান দল। এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করতে আন্তর্জাতিক এ আদালতের অনুমতি চেয়েছেন আইসিসির কৌঁসুলি ফেতু বেনসুদা। রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে মানবতা বিরোধী অপরাধ হয়েছে কী না তা নিয়ে আইনি মত চেয়ে দিতে গত বছরের ৯ এপ্রিল প্রাক-শুনানি আদালতে আবেদন জানান ফেতু বেনসুদা। আইসিসির অনুরোধে সাড়া দিয়ে একই বছরের জুনে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ পাঠায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রোম সনদে সই করলেও মিয়ানমার তা করেনি। এ কারণে দেশটি রোহিঙ্গা বিতাড়নে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে আইসিসির কাছে কোনো পর্যবেক্ষণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আইসিসির কৌঁসুলি ফেতু বেনসুদা প্রাক-বিচারিক আদালতের শুনানিতে বলেছেন, রোহিঙ্গারা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। যেহেতু মিয়ানমারের সংখ্যালঘু ওই জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে গেছে এবং বাংলাদেশ রোম সনদে সই করেছে, তাই এ নিয়ে আইসিসির তদন্তের এখতিয়ার আছে।

জাতিসঙ্ঘের সত্যানুসন্ধানী দল গত বছর সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, গণধর্ষণ ও বর্বরতা চালানোর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ পরিচালনার অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংসহ ছয় জেনারেলকে আইসিসিতে বিচারের সুপারিশ করা হয়েছিল।


আরো সংবাদ