২২ নভেম্বর ২০১৯

ইসির প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন মালয়েশিয়ায় শুরু

ইসির প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন মালয়েশিয়ায় শুরু - ছবি : সংগৃহীত

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে প্রথমবারের মতো নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন।

মন্ত্রী ইমরান কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং সিইসি হুদা রাজধানীর নির্বাচন ভবন থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এছাড়া, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী ও কবিতা খানম, ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম নির্বাচন ভবনে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম ও অন্য কর্মকর্তারা কুয়ালালামপুর হাইকমিশনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে (www.services.nidw.gov.bd) আবেদন করতে হবে।

ইসি শিগগিরই সৌদি আরব, দুবাই, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে একই কার্যক্রম শুরু করবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া:

পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা দিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক জানান, ভোটার হতে আগ্রহী প্রবাসীদের প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে এবং ছয়টি নথি জমা দিতে হবে।

ছয় নথি হলো- পাসপোর্টের ফটোকপি, আবেদনকারীকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করতে পারা একজন প্রবাসী বাংলাদেশির পাসপোর্টের ফটোকপি, বাংলাদেশে থাকা রক্তের সম্পর্কের যেকোনো আত্মীয়ের নাম, মোবাইল ফোন নম্বর ও এনআইডি নম্বর, বাংলাদেশের কোথাও থেকে ভোটার হননি এমন বক্তব্য থাকা হলফনামা, বিদেশি পাসপোর্টধারী হলে দ্বৈত নাগরিকত্বের ফটোকপি বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনের প্রত্যয়নপত্র।

আবেদন পাওয়ার পর কমিশন তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবে। রোহিঙ্গাসহ বিদেশিদের ভোটার তালিকায় আসা রোধ করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তথ্য যাচাইয়ের পর ইসি সেগুলো আবার বিদেশে পাঠিয়ে দেবে যাতে প্রবাসীদের আঙুলের ছাপ ও চোখের ছবি নিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা যায়। দ্বৈত ভোটার হওয়া রোধ করার জন্য এনআইডি তথ্যভাণ্ডারে অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এএফআইএস) ব্যবহার করা হবে।

সব প্রক্রিয়া শেষ করে কমিশন বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের স্মার্ট এনআইডি কার্ড সরবরাহ করবে বলে ইসি কর্মকর্তারা বলছেন।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ২৬ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৯ জন বাংলাদেশি কাজের জন্য বিদেশে গেছেন। বেশিরভাগ প্রবাসী বাংলাদেশির গন্তব্য হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও বাহরাইন। সূত্র : ইউএনবি


আরো সংবাদ