০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করায় গাম্বিয়াকে ঢাকার অভিনন্দন

গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মামাদুয়া টাঙ্গারার সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন - ফাইল ছবি

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে পশ্চিম আফ্রিকান দেশ গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মামলা দায়ের করায় গাম্বিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একে আবদুল মোমেন বলেন,‘আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। এটি ওআইসির সিদ্ধান্ত,এটি একটি ভালো খবর যে,ওআইসি কিছু দায়িত্ব নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ওআইসি এই উদ্যোগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে,‘আমরা এতে খুশি’।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়,‘অতিদ্রুত মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের গণহত্যার অভিযোগে সোমবার দিনের প্রথমভাগে গাম্বিয়া হেগে অবস্থিত আইসিজেতে এই মামলা দায়ের করে।’

আফ্রিকান দেশটি বলেছে, ৫৭ সদস্যের ওআইসি’র পক্ষ থেকে তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে এই মামলা দায়ের করেছে। জাতিসংঘ সমর্থিত এটি হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়া ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র, মিয়ানমারসহ এই তিনদেশই ১৯৪৮ জেনোসাইট কনভেনশনে স্বাক্ষরদাতা।
এতে বলা হয়েছে কোন দেশই গণহত্যায় যুক্ত হতে পারবে না, শুধু তাই নয় কোন দেশ গণহত্যা সংঘটিত করলে স্বাক্ষরদাতা সব দেশ তা প্রতিরোধ করবে এবং তাকে শাস্তির মুখোমুখি করবে।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি’র রিপোর্টে বলা হয়,রক্তাক্ত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে গণহত্যা সংঘঠিত করায় জাতিসংঘ জেনোসাইট কনভেনশনের আওতায় মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করেছে গাম্বিয়া। এই অভিযানের কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

গাম্বিয়ার বিচার মন্ত্রী আবুবাকার তামবাদুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রয়টার্সসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়,‘জেনোসাইট কনভেনশনের অধীনে আমরা আইসিজেতে অভিযোগ দায়ের করেছি,আমাদের লক্ষ্য নিজের দেশের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত করার জন্য মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো।’

তামবাদুর বর্তমানে হেগে অবস্থান করছেন, এখানে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন,‘এটি আমাদের প্রজন্মের জন্য একটি লজ্জাজনক ঘটনা এবং আমাদের নিজের চোখে এই গণহত্যা দেখেও আমরা কিছুই করতে পারছি না।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন,এই মামলা প্রত্যাবাসন শুরু এবং তাদের জনগণকে পুনঃএকত্রীকরণে মিয়ানমারের ওপর আরো চাপ তৈরি করবে।

তিনি বলেন,‘আমি মনে করি তাদের জনগণের প্রত্যাবাসনের জন্য এটি সর্বোচ্চ সময় যা তারা আগেই আমাদের সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিল।মায়ানমার বারবার আমাদের বলেছে,তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে তবে তারা তা বাস্তবায়ন করেনি।’

মোমেন বলেন,‘ঢাকা কোন ‘বিবাদে’ যায়নি তবে আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি যাতে তারা তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে।’

ওআইসি চলতি বছরের মার্চে একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, আইসিজেতে অভিযোগ দায়েরের জন্য গাম্বিয়াকে দায়িত্ব প্রদানে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এ মামলা দায়ের করা হলো। এই পদক্ষেপ নিতে গাম্বিয়া দেশটির আইনজীবিদের সমন্বয়ে মন্ত্রীপর্যায়ের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে। তারা এই মামলা সম্পর্কে এক বিবৃতিতে বলেছে,তারা এই মুহূর্তে মিয়ানমারের গণহত্যা বন্ধের জরুরি ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক আদালতে আবেদন জানিয়েছে।

জাতিসংঘের নেতৃত্বে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের দাখিল করা চূড়ান্ত রিপোর্টে ‘মায়ানমারে গণহত্যার গুরুতর অভিযোগ আনার একমাস পরে গাম্বিয়া এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) ডেপুটি প্রসিকিউটরের বাংলাদেশ সফরের প্রেক্ষাপটে আইসিসি’র প্রসিকিউশন অফিস চলতি বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত করার জন্য বিশ্ব আদালতের অনুমতি কামনা করে।

ডেপুটি প্রসিকিউটর জেমস স্টুওয়ার্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, আইসিসি হচ্ছে শেষ আশ্রয়স্থল। কোথাও এ ধরনের কোন অপরাধের তদন্ত ও বিচার না হলে তখন আমরা এগিয়ে আসতে পারি। তদন্তের দায়িত্ব পেলে আমরা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যথাযথভাবে কাজ করবো।
আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকদের মতে আইসিজে বিবাদমান দেশগুলোর মধ্যে বিবাদ নিষ্পত্তি করে এবং আইসিসি দোষী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে। উভয় সংস্থা জেনেভায় অবস্থিত।

অনেক আন্তর্জাতিক অধিকার গ্রুপ গাম্বিয়ার এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তারা আশা করছে যে, আগামী মাসে আইসিসি’তে এর প্রভিশনাল পদক্ষেপ সম্পর্কিত প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র : বাসস।


আরো সংবাদ