১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

সৌদিতে নারীকর্মী প্রেরণ : অ্যাপ্রুভাল নিতে হবে বাংলাদেশ দূতাবাসের

-

নারীকর্মীদের সৌদি আরবে পাঠানোর পর তিন মাস পর্যন্ত দায় বহন করতো রিক্রুটিং এজেন্সি। এখন থেকে নারীকর্মীরা যতদিন সৌদি আরবে থাকবেন, তার দায়-দায়িত্ব সৌদি ও বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিকে নিতে হবে। শুধু তাই নয়। আগে শুধু বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়-দায়িত্ব বহন করতে হতো।এখন থেকে সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও যাতে বাংলাদেশের কাছে দায়বদ্ধ থাকে সেজন্য একটি নির্দেশনা জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা।তিনি আরো বলেন, সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে আমাদের দূতাবাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকে, সে ব্যাপারে একটি নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছি।

অতিসম্প্রতি সৌদি আরবের সাথে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান তিনি। আজ সোমবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরব সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সচিব সেলিম রেজা। গত ২৭ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সৌদির শ্রম ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে তৃতীয় জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা এবং সৌদির পক্ষে শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট মন্ত্রী জাবের আব্দুর রহমান আল মাহমুদ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সৌদি প্রতিনিধি দলে শ্রম মন্ত্রণালয় ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওই সভায় নেয়া আরো সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে-নারীকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এ সংক্রান্ত আইটি প্ল্যাটফর্ম মোসানেদে কর্মীর বিস্তারিত ঠিকানা, সৌদি ও বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি এবং নিয়োগকর্তার পূর্ণ যোগাযোগের ঠিকানা, নারীকর্মীর নিয়োগকর্তা পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্যাদি, নারীকর্মীর আগমনের তারিখ এবং নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তরের তারিখ, প্রত্যাবর্তনকারী গৃহকর্মীর ‘এক্সিট’ সংক্রান্ত তথ্যাদি সন্নিবেশিত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রবাসী কল্যাণ সচিব জানান, ইতোমধ্যে নিয়োগকর্তা পরিবর্তন, নতুন চুক্তি নবায়ন ও এক্সিট সংক্রান্ত তথ্যাদি ছাড়া অন্যান্য তথ্যাদি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট তথ্যাদি হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া সৌদি কর্তৃপক্ষ মোসানেদ সিস্টেমে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি ‘অ্যাপ্রুভাল উইন্ডো’ স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যেসব নারীকর্মী কাজ ছেড়ে পলাতক রয়েছেন, তাদের পুলিশ কোনোভাবেই নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে না। নারীকর্মী যতদিন কর্মরত থাকবেন, ততদিন তার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ ও সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। যেসব নারীকর্মী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, তারা প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তাদের আবাসন ও অন্যান্য দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। নারীকর্মীরা কর্মকাল পূর্ণ করলে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বহন করবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে। যদি নারীকর্মী মেয়াদ শেষে কাজ করতে চান তাহলে অবশ্যই চুক্তি নবায়ন করতে হবে এবং এ নবায়ন বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। চুক্তি নবায়নের পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এ সংক্রান্ত তথ্যাদি মোসানেদে আপলোড করবে।

এছাড়া, কোনও বিপদগ্রস্ত নারীকর্মীর সুরক্ষার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সৌদি ডিপার্টমেন্ট অব প্রোটেকশন অ্যান্ড সাপোর্ট দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সংশ্লিষ্ট শ্রম কল্যাণ উইং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সৌদি আরবের সাথে একটি সাধারণ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচিত হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এ বিষয়টি এখনো পরীক্ষাধীন রয়েছে এবং আগামী জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

আদালতে মামলা করার পদ্ধতি আরো সহজ করার বিষয়ে দু’পক্ষ একমত হয়। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে শিগগিরই জানাবে। সব কর্মী যাতে চুক্তির কপি পেতে পারেন, এ লক্ষ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের বিদ্যমান স্বাস্থ্য বীমা পর্যাপ্ত নয়। অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্য বীমা করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কোম্পানি/নিয়োগকর্তাদের বাধ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলেও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সেলিম রেজা বলেন, ‘সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো যাতে আমাদের দূতাবাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকে, সে ব্যাপারে একটি নির্দেশনা জারি করতে যাচ্ছি। আমাদের দেশ থেকে এখন যে নারীকর্মীরা যাচ্ছে, তাতে দূতাবাসের কোনও অ্যাপ্রুভাল সিস্টেম বর্তমানে নেই। কিন্তু আমরা মিটিংয়ে বলেছি, ‘মোসানেদ’ সিস্টেমে দূতাবাসকেও একটা অ্যাপ্রুভাল উইন্ডো দিতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। তবে যেহেতু এটা একটি টেকনিক্যাল ব্যাপার, তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি রাস্তা বের করবে বলে জানিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং আমরা যার যার সাইড থেকে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথা আলোচনা করেছি। আমাদের এখন যে নীতিমালা আছে, তা সংশোধন করছি। তাতে রিক্রুটমেন্ট সিস্টেমে আমরা একটি বড় ধরনের পরিবর্তন করবো। এটা আমরা শিগগিরই করবো, সৌদি কর্তৃপক্ষও তাদের সিস্টেম রিফর্ম করবে যাতে আরও সুসঙ্গত হয়।

এছাড়া ভিসা ট্রেডিংয়ের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান সচিব। তিনি বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে তাদের সাইড থেকেও ভিসা ট্রেডিংয়ের মতো কাজ হয়। আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের রাষ্ট্রদূত এবং আমি বিষয়টি তুলে ধরেছি। তারা বলেছে তাদের পক্ষ থেকে এটা বন্ধে পদক্ষেপ নেবে। এই বিষয়ে আমরা যৌথভাবে কাজ করবো।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএমইটির ডিজি শামসুল আলম, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, অতিরিক্ত সচিব মো. নাজীবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন, যুগ্ম সচিব জাহিদ হোসেন, যুগ্ম সচিব মো. সারোয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ