১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ডেঙ্গু বিস্তারে কি ছাদ বাগানের সম্পর্ক আছে

ডেঙ্গু বিস্তারে কি ছাদ বাগানের সম্পর্ক আছে - ছবি : সংগৃহীত

ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত রোগের কারণে মানুষের যে প্রাণহানি ঘটছে বা অসুস্থ হয়ে পড়ছে সেজন্য কোনো অবস্থাতেই ছাদ বাগান দায়ী নয়। এর কারণ প্রথমত এডিস মশা পানিতে ডিম পাড়ে না তা গবেষণায় প্রমাণিত। দ্বিতীয়ত ছাদ বাগানের কোনো গাছের পাত্রে একাধারে ৩-৫ দিন পানি জমে থাকেনা, থাকলে গাছই মারা যাবে। তাই নগরীর জীববৈচিত্র্য ও উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখা ছাদ বাগান এডিস মশার জন্য দায়ী নয়। এজন্য ছাদ বাগান ধ্বংস নয় বরং প্রয়োজন এর সম্প্রসারণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা।

বুধবার পবা’র সেমিনার কক্ষে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বাংলাদেশ গ্রিন রুফ মুভমেন্ট-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ : ছাদবাগান ও পরিবেশ সুরক্ষা’-শীর্ষক অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান-এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রিণ রুফ মুভমেন্ট-এর সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো: গোলাম হায়দার। বক্তব্য রাখেন, পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো. আব্দুস সোবহান, সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, বাংলাদেশ গ্রীণ রুফ মুভমেন্ট-এর সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ, সদস্য মুশহেদা খানম, নুসরাত পলি, মাসুম রেজা, জামিল সিদ্দিক, বাংলাদেশ প্ল্যাট নার্সারিমেন সোসাইটি’র সভাপতি মো. মেসবাহ উদ্দিন, এসো বাগান করি-এর সদস্য জাহিদ হাসান, পবা’র সদস্য রাজিয়া সামাদ, দিনা খাদিজা, মো. ইলিয়াস হায়দার, কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, হিলের সভাপতি জেবুন নেসা, বিসিএইচআরডি চেয়ারম্যান মাহাবুব হক।

এতে পরিবেশবাদিরা বলেন, যেসকল (বাড়ীওয়ালা, ফ্ল্যাট মালিক সমিতি) এই ডেঙ্গুকে কেন্দ্র করে সবুজায়নে বাধা সৃষ্টি করছে, ছরিয়ে দিচ্ছে মিথ্যা আতংক, তাদের বিরদ্ধে সরকারীভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হোক এবং সামাজিক ভাবে তাদেরকে বয়কট করার ব্যবস্থা করা হোক।

বক্তারা বলেন, ঢাকাসহ সারা দেশে সবুজায়ন আর অক্সিজেনের জোগান দিতে বারান্দা বা ছাদবাগান করার জন্য উৎসাহ উদ্দীপনা দেয়া হয়েছিল সিটি কর্পোরেশন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। কিন্তু এখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ছাদ বাগান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যা কোনো ভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। কেননা আমরা সকলে জানি পরিবেশ রক্ষায় সবুজায়নের ভূমিকা অপরিসীম। ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে সবুজ শূন্য হয়ে পড়েছে নগর, ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে নগরের উষ্ণতা, অতিপ্রয়োজনীয় নানা ধরনের কীট-পতঙ্গ, প্রজাপতি, পশু-পাখি শূন্য হয়ে পড়ছে নগর। প্রাণ বৈচিত্র আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। মানুষ নানাবিধ রোগ বালাইয়ে জড়াজীর্ন অর্থাৎ পরিবেশ বিপর্যস্ত।

শুধু তাই নয়, যে হারে নগরায়ন হচ্ছে এই হারে বৃদ্ধি পেলে তথ্য মতে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে সকল মানুষই কোন না কোন নগরে বসবাস করবে অর্থাৎ ভবিষ্যৎ নগরের তথা সারা দেশের পরিবেশে প্রাণীকুলের সুস্থতার সহিত জীবন-যাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সারা দেশের সমগ্র নগরগুলোর ছাদ বাগান হবে বিশাল সবুজের কৃষি ক্ষেত্র, অক্সিজেনের ফ্যাক্টরী, তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধে অন্যতম হাতিয়ার, নিরাপদ ফল-মূল, শাক-সবজির যোগান দাতা। কৃষি মাত্রিক বাংলাদেশের কৃষিকে আধুনিক কৃষিতে পরিণত করে টিকিয়ে রাখার প্রধান ক্ষেত্র। বিশাল এক কর্মসংস্থানের কারখানা, প্রাণবৈচিত্র রক্ষার অন্যতম নিয়ামক। অবক্ষয়গামী সমাজকে সুস্থ, নিরোগ, জীবনমুখী, পরিশ্রমী মানবিক সমাজ গড়ার প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষিত কৃষি ও কৃষক গড়ার ইনিষ্টিটিউট, গবেষণা কেন্দ্র।


আরো সংবাদ