১৯ মে ২০১৯

সারা দেশে অচল নৌ যোগাযোগ

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে অচল রাজধানীর সদরঘাট নৌবন্দর - নয়া দিগন্ত

১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে দেশজুড়ে বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে নৌপথে পণ্য পরিবহন। বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালসহ নানা ধরনের পণ্য আটকা পড়েছে নদী বন্দরগুলোতে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নৌপথের যাত্রীরা। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। গতকাল অনেক মানুষ টার্মিনালে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। শ্রমিকরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ধর্মঘট চলবে। ধর্মঘটের কারণে রাজধানীর সদরঘাট থেকে ফারহান (টিপু) কোম্পানি ছাড়া আর কোনো নৌযান ছেড়ে যায়নি। বরিশালসহ দেশের অন্যান্য নদীবন্দর থেকেও কোনো নৌযান ছেড়ে আসেনি। মুন্সীগঞ্জ থেকে একটি লঞ্চ সদরঘাটে আসলে তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বেতনভাতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা, নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে সোমবার রাত ১২টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা। নৌযান শ্রমিকদের অন্যান্য সংগঠন এ ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছেÑ নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ, ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস দেয়া ও হয়রানি বন্ধ, নদীর নাব্যতা রক্ষা, নদীতে প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন ইত্যাদি।

গতকাল দিনভর রাজধানীর সদরঘাট থেকে কোনো নৌযান চলাচল করেনি। মুন্সীগঞ্জ থেকে একটি যাত্রীবাহী ছোট লঞ্চ সদরঘাটে আসলে প্রথমে তা ঘাটে ভিড়তে দেয়া হয়নি। এ নিয়ে ধর্মঘটের পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপক্ষ বলেছিল নৌযানটি যখন যাত্রী নিয়ে চলেই এসেছে তখন সেটি ভিড়তে দেয়া হোক। এ নিয়ে ধর্মঘটকারীদের সাথে তাদের বাগি¦তণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। বেলা ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ওই লঞ্চের যাত্রীরা ঘাটে নামতে সক্ষম হন।

এদিকে, সদরঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। শিমুল নামের এক যাত্রী বলেন, ধর্মঘটের কথা তার জানা ছিল না। পরিবারসহ বিকেলে ঘাটে এসে দেখেন লঞ্চ চলাচল করছে না। বেশ কিছু সময় তারা ঘাটেই অবস্থান করে বাসায় ফিরে যান। মাহবুব নামের অপর এক যাত্রী বলেন, লঞ্চ ধর্মঘটের কারণে তাদেরকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তারা লঞ্চে করেই মালামাল আনানেয়া করেন। দু’দিন বন্ধ থাকলেই তাদেরকে মোটা অংকের ক্ষতির শিকার হতে হবে। লঞ্চ না পেয়ে অনেক বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় অনেক পরিবারকে।

সন্ধ্যার পরে ফারহান (টিপু) কোম্পানির ৪-৫ টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে বলে সদরঘাট সূত্র জানায়। এরমধ্যে বরিশালের উদ্দেশে একটি, ঝালকাঠীর একটি এবং ভোলার লঞ্চ রয়েছে। এ লঞ্চগুলোতে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি যাত্রী ওঠানো হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন। এসব লঞ্চের মালিক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু। এ লঞ্চগুলো সদরঘাট ছেড়ে গেলেও ধর্মঘটকারীরা কোনো বাধা দেয়নি।

সদরঘাটে দায়িত্বরত এএসআই আক্তার বলেন, সদরঘাট থেকে বেশির ভাগ লঞ্চই ছাড়েনি। অনেক যাত্রী এসে লঞ্চ না পেয়ে ফিরে গেছেন। মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, মাদারীপুর-শরিয়তপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠী, বরগুনা, খুলনাসহ বিভিন্ন রুটের নৌযান সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায়নি। ওই সব এলাকার অধিকাংশ যাত্রীই নৌযানে চলাচল করেন। 

সদরঘাট সূত্র জানায়, পণ্য পরিবহনকারী নৌযানগুলোর চলাচলও বন্ধ রয়েছে। সারা দেশের ২০ হাজার নৌযানের প্রায় দুই লাখ শ্রমিক এ ধর্মঘট পালন করছেন বলে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা বলেছেন। সাইফুল নামের এক শ্রমিক গতকাল সদরঘাটে বলেছেন, তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে। 

খুলনায় পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ
খুলনা ব্যুরো জানায়, নৌযান শ্রমিকরা সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে খুলনায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন। ফলে খুলনা ও মোংলা সমুদ্র বন্দরের মধ্যে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ধর্মঘটের ফলে মঙ্গলবার খুলনার বিআইডব্লিউটিএর ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাটে এবং রুজভেল্ট জেটিতে অবস্থানরত কোনো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ও বোঝাই করা হয়নি। এমনকি মোংলা বন্দর থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্তও কোনো নৌযান চলাচল করছে না।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, কেন্দ্রের ডাকা ধর্মঘট খুলনা ও মোংলায় সর্বাত্মকভাবে পালন করা হচ্ছে। 

বরিশালে কর্মবিরতিতে নৌযান শ্রমিকরা
বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন নৌযান শ্রমিকরা। মঙ্গলবার রাত ১২টা এক মিনিট থেকে তারা এ কর্মবিরতি শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি আবুল হোসেন। তিনি জানান, বেতন-ভাতা বাড়ানো, নিরাপত্তা ও নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১১ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মবিততি চলবে। সোমবার রাত ১২টার পর থেকে সকল ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানে ধর্মঘট ডেকেছে।

ঢাকায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সাথে আলোচনা করে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।

এদিকে ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে কোনো নৌযান বরিশাল নদীবন্দর ছেড়ে যায়নি। অভ্যন্তরীণ রুটের নৌযানগুলোও মাঝনদীতে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কেউ বিকল্পভাবে যাত্রা করলেও বেশির ভাগ যাত্রীকেই ফিরে যেতে হয়েছে। তবে ঢাকা থেকে সোমবার রাতে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো যথাসময়ে বরিশাল নদীবন্দরে নোঙর করেছে এবং ভায়া রুটের লঞ্চগুলোও বরিশাল হয়ে শেষ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

এদিকে নৌ ধর্মঘট চললেও ঢাকা-বরিশাল রুটে বেশ কয়েকটি কোম্পানি তাদের লঞ্চ চালাবে বলে মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে। তবে মালিকদের এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে লঞ্চ না চালানোর ঘোষণায় অটল রয়েছেন নৌযান শ্রমিকরা।

চাঁদপুরে আটকা পড়েছেন অনেক যাত্রী
চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে চাঁদপুর নৌবন্দর। দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে ট্রেন, বাস ও সিএনজিতে আসা দক্ষিণাঞ্চলের ও ঢাকায় লঞ্চে যাতায়াতকারী যাত্রীরা আটকা পড়েছেন চাঁদপুর নৌ-বন্দরে। অনেক যাত্রী লঞ্চের অপেক্ষা করছেন আবার অনেক যাত্রী ফিরে যাচ্ছেন। এক কথায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের চাঁদপুর আঞ্চলিক সেক্রেটারি মাস্টার মো: রৌশন আলী জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি না মানা হবে ততক্ষণ কর্মবিরতি চলবে।

এদিকে নৌযান শ্রমিক কর্মবিরতির কারণে চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা রুটে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে চাঁদপুর ও পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, নোয়াখালীসহ বেশকিছু জেলার মানুষ বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে, চাঁদপুর-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ নৌরুটে লঞ্চে যাতায়াত করেন। ভোরে চাঁদপুর নৌ টার্মিনালে এসে অনেক মানুষ পড়েছেন বিপাকে।

ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীরা জানান, সকালে নৌমন্ত্রী জানিয়েছেন শ্রমিক কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু চাঁদপুর ঘাটে এসে দেখি ধর্মঘট চলছে। এতে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। আরেক যাত্রী জানিয়েছেন, শ্রমিকরা এভাবে প্রায়ই ধর্মঘট করছেন। সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। এক মহিলা যাত্রী জানান, ধর্মঘটের বিষয়টি আগে জানানো দরকার। হঠাৎ করে এভাবে ধর্মঘট ডাকলে মহিলাদের বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়। 

নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার লঞ্চ
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে লঞ্চঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জসহ কয়েকটি রুটে যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচল করলেও চাঁদপুর, মোহনপুর ও এখলাছপুরসহ অন্যান্য দূরপাল্লার লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। 

লঞ্চের অপেক্ষায় যাত্রীদের কেউ কেউ দুই তিন ঘণ্টা ধরে টার্মিনালে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ধর্মঘটের সমর্থনে লঞ্চঘাটে সারিবদ্ধভাবে কয়েকটি লঞ্চ বেঁধে রাখা হয়েছে। তবে ধর্মঘট পালনকারী কোনো শ্রমিক কর্মচারীকে লঞ্চঘাটে দেখা যায়নি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: বদিউজ্জামান বাদল জানান, শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মালিক সমিতির কাছে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের দাবি উপস্থাপন করা হয়নি।

সমস্যা সমাধানে বিকেলে সদরঘাটে লঞ্চ মালিক কার্যালয়ে লঞ্চ ও নৌযান মালিকদের নিয়ে আলোচনায় বসে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে জনগণের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

সকাল ৮টায় চাঁদপুর যাওয়ার উদ্দেশে লঞ্চঘাটে আসেন এস্কান্দার মিয়া। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কোনো লঞ্চ পাননি তিনি। বিরক্তি নিয়ে তিনি বলেন, সকাল ৮টা থেকে বইয়াই রইছি, যাইতাম পারি না। মুন্সীগঞ্জ, ছটাকির সব লঞ্চ চলে কিন্তু চাঁদপুরের কোনো লঞ্চ চলে না। আরেক যাত্রী বলেন, মোহনপুর যাবো কিন্তু টার্মিনালে এসে দেখি লঞ্চ বন্ধ। এই জন্য যাইতে পারতাছি না। এ দিকে লঞ্চ শ্রমিকরা জানান, বর্তমান বেতনে তাদের সংসার চলে না। বার বার আন্দোলন করে বেতন বৃদ্ধির চুক্তি হলেও মালিকরা মানছেন না। বেঁচে থাকার তাগিদেই এই ধর্মঘট। দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলেও জানান তারা। 

আশুগঞ্জে আটকা পড়েছে শতাধিক কার্গো জাহাজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে আটকা পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য নিয়ে আসা শতাধিক কার্গো জাহাজ। বন্ধ হয়ে গেছে আশুগঞ্জের সাথে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ছয়টি নৌরুটের পাঁচ জেলা সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪ উপজেলার লঞ্চ যোগাযোগ। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লঞ্চযাত্রীদের। বন্ধ হয়ে গেছে নদী বন্দরের সব কার্যক্রম। 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক এ কে এম হাবিবুল্লাহ বাহার জানান, ১১ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। ন্যায্য দাবি না মানা হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। 

পূবাঞ্চলীয় কার্গো মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো: নাজমুল হোসাইন হামদু জানান, ধর্মঘটের কারণে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত জরুরি কাঁচামাল নিয়ে জাহাজ আটকা পড়ায় মালামাল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এ মুহূর্তে জাহাজ বন্ধ থাকলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, দেশব্যাপী নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রামে অলস বসে আছে ২ শতাধিক লাইটারেজ জাহাজ। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল খালাস করে এসব লাইটার জাহাজ নদীপথে বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম শাখার সহসভাপতি নবী আলম জানিয়েছেন, ১১ দফা দাবিতে সব ধরনের পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকেরা।

কর্মবিরতির প্রভাব বহির্নোঙরে পণ্য খালাসে পড়লেও চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটিতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।


আরো সংবাদ