২৩ আগস্ট ২০১৯

আবারো বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার বাজারে আনার উদ্যোগ

আবারো বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার বাজারে আনার উদ্যোগ - ছবি : সংগৃহীত

আবারো বাংলাদেশে পরিচালিত বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও এই কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে আনা সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারের সময় এসব কোম্পানিকে অনুরোধ করা হয়েছে যেন দেশের পুঁজিবাজারে তাদের শেয়ারের কিছু অংশ অবমুক্ত করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন আবার এই প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার বাজারে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হবে। এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করা হবে বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক সূত্র জানায়, এসব কোম্পানিতে সরকারেরও শেয়ার রয়েছে। সেই শেয়ার থেকেও কিছু শেয়ার পুঁজিবাজারে ছেড়ে দেবে সরকার। তাও সফল হয়নি, না বহুজাতিক কোম্পানির নিজস্ব শেয়ার, না সেসব কোম্পানিতে থাকা সরকারি শেয়ার, কোনোটাই পুঁজিবাজারে ছাড়া সম্ভব হয়নি। আমরা যখন এ্ই কথা তাদের বলেছি, তারা বলেছে, শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে বাধ্য করা হলে তারা এ দেশে করা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেবে। তাই শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন আবার আমরা তাদের শেয়ার বাজারে ছাড়ার জন্য অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে অন্যতর প্রধান দুই বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার ও অ্যাভেন্টিস-এ সরকারের শেয়ার রয়েছে যথাক্রমে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং ৪৫ শতাংশ ৩৬ শতাংশ। এই কোম্পানি দুটোকে দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়ার জন্য বেশ কয়েকবার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই অনুরোধে কোনোরূপ সাড়া দেয়নি। 

জানা গেছে, ২০০৫ সালে সর্বপ্রথম ২৬টি কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এই কোম্পানিগুলোতে সরকারের শেয়ারও ছিল। এখানে ইউনিলিভার ও অ্যাভেন্টিস কোম্পানিও ছিল। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই কোম্পানিতে সরকারের অংশ শেয়ার থেকে পাঁচ ভাগ শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে। অন্যদিকে কোম্পানি দুটোকে অনুরোধ করা হয়, তারা যেন নিজ শেয়ারের অংশ থেকে আরো পাঁচ ভাগ শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা আর সম্ভব হয়নি। কারণ যখন কোম্পানিগুলোকে শেয়ার ছাড়ার অনুরোধ করা হয়েছে, তখনই তারা এ বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। 
বিদেশী এই কোম্পানিগুলো যে শুধু শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছে তাই নয়, তারা এও প্রস্তাব দিয়েছে, সরকার প্রয়োজন বোধ করলেও কোম্পানিতে থাকা সরকারি অংশের শেয়ার পুঁজিবাজারে নয়, তাদের কাছে বিক্রি করে দিতে পারে। 

এর আগে সামরিক বাহিনী সমর্থনপুষ্ট গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার বাজারে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তা সফলতার মুখ দেখেনি। এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানির অসহযোগিতায় তা আর সম্ভব হয়নি। তিনি এটিকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। 

উল্লেখ্য অ্যাংলো-ডাচ কোম্পানি হিসেবে খ্যাত ইউনিলিভারের ১৯৬৪ সাল থেকে এ দেশে ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছে। আগে এই কোম্পানির নাম ছিল লিভার ব্রাদার্স লিমিটেড। ২০০৪ সালে নাম পরিবর্তন করে এটি হয়, ইউনিলিভার। কোম্পানিটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানেও ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছে। এই দু’দেশেরর শেয়ার বাজারে তাদের অংশগ্রহণ থাকলেও ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশে।


আরো সংবাদ