২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলাপি ঋণ আদায় সরকারি ৬ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা এবার ৩ হাজার কোটি টাকা

খেলাপি ঋণ আদায় সরকারি ৬ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা এবার ৩ হাজার কোটি টাকা - ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংককে চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার ১০৭ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলোর ব্যর্থতার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এবারের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ থেকে ৪০২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। 

ব্যাংকগুলোর সাথে পৃথকভাবে সম্পাদিত ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি’র আওতায় এ পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল। দু’একটি ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ আদায়ের পরিমাণ ‘চলতি মানের নিচে’ বা সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

গত অর্থবছরে ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৮০ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫৫ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলো আদায় করেছে ১ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা ও প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। 

এ দিকে, এবারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সোনালী ব্যাংককে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা (শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ১০০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ২০০ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ৭১০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে জনতা ব্যাংককে ৮৫০ কোটি টাকা (শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ৮০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৫০ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ৫৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অবলোপনকৃত ঋণ থেকে আদায় করেছে মাত্র ২৭ কোটি টাকা। 

চলতি অর্থবছরে অগ্রণী ব্যাংককে ৪৮০ কোটি টাকা (শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ৪০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৮০ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৫০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ৩০৯ কোটি টাকা। 
চলতি অর্থবছরে রূপালী ব্যাংককে ২৮৫ কোটি টাকা (শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ২৫০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৩৫ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। 
চলতি অর্থবছরে বেসিক ব্যাংককে ১৫৭ কোটি টাকা (শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ১৫৫ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ২ কোটি টাকা) আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করতে পেরেছে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরে বিডিবিএল ব্যাংককে ১৩৫ কোটি টাকা (শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে ১০০ কোটি টাকা ও অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৩৫ কোটি টাকা) খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি আদায় করেছে ৯৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় আমরা কয়েক বছর ধরে রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে থাকি। এ মূল্যায়ন প্রতি তিন মাস পর পর করা হয়েছে। এবার ব্যাংকগুলোকে যে টার্গেট দেয়া হয়েছে তার মূল্যায়ন আমরা আগামী মাসে করব।


আরো সংবাদ