২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেশে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়ছে : ড. মোশাররফ হোসেন

দেশে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়ছে : ড. মোশাররফ হোসেন - ছবি : নয়া দিগন্ত

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এম সাইফুর রহমানের মত স্ট্যাটাসের একজন নেতা আন্দোলন সংগ্রামের সময় বাসায় থেকে নির্দেশনা দেবেন আর অন্যরা রাস্তায় আন্দোলন করবে, পুলিশ ফেস করবে এটাই স্বাভাবিক ছিলো। তার মতো রাজনৈতিকের কাছে আমরা এমনটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় এমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই যেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ওনার স্ট্যাটাস থেকে উনি সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে সব সময় রাজপথে ছিলেন এটা একটি বিরল ঘটনা। স্বাধীনতার পরে মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য, বাণিজ্য উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রী হয়ে আসা এম সাইফুর রহমান রাস্তায় নেমে রাজনীতি করবেন, পুলিশের টিয়ারশেলের সম্মুখীন হবেন এটা তার মতো রাজনীতিবিদের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এম সাইফুর রহমানের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী কামাল ইবনে ইউসুফ, শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে সাইফুর রহমানকে নিয়ে বলতে গেলে বলা শেষ হবে না। সাইফুর রহমান সাহেব যখন ভ্যাট প্রথা চালু করার কথা বললেন তখন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে ছিল। আওয়ালীগ তখন হরতাল করেছিল কিন্তু তখন অনেকেই বলেছিলেন যে একজন সাহসী অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভ্যাট চালু করার সাহস করেছিলেন। আজকে ভালো করে চিন্তা করে দেখুন বাংলাদেশের অর্থনীতি ওই ভ্যাটের উপর নির্ভর করে। আজকে যে বাজেট হয় সে বাজেটের টাকা তো জনগণের কাছ থেকে আসে। এম সাইফুর রহমান ও আমরাতো একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির উপর ভ্যাট আরোপ করেছিলাম। কিন্তু আজকে যারা সরকার চালাচ্ছে তারা বুঝতে পেরেছে বাজেটের পরিধি বৃদ্ধি করতে হলে ভ্যাটকে কিভাবে সম্প্রসারণ করা যায় যা বাংলাদেশের মানুষ হারে হারে টের পাচ্ছে। আজকে দেশের সর্বনিম্ন যে গরীব মানুষটি সেও ভ্যাটের আওতায় চলে গেছেন। যে আওয়ামী লীগ ভ্যাট প্রচলনের বিরুদ্ধে হরতাল করেছিলো তারাই ভ্যাট সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়ে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষকে ও ভ্যাটের আওতায় নিয়ে এসেছেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পোশাক শিল্প নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার সফল বাস্তবায়ন করেছিলেন এম সাইফুর রহমান। তিনি এমন কিছু পদ্ধতি বের করলেন যে পদ্ধতির মাধ্যমে তখনকার যারা উদ্যোক্তা বেশি টাকা মালিক নয়, অল্প টাকা দিয়ে তাদের সহযোগিতা করা। তখন যারা ছোট করে গার্মেন্টস শুরু করেছিলাম তারা এখন বড় শিল্পপতি। আজকে আমাদের অর্থনৈতিক এর দ্বিতীয় একটি ক্ষেত্র গার্মেন্টস।

তিনি বলেন, এই যে বিদেশ থেকে রেমিটেন্স আসছে সেটাও কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাইফুর রহমানের পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে। যেগুলো আজকে আমাদের ইকোনমিক লাইফ লাইন। তিনি বলেন, জাতীয় সার্থে সাইফুর রহমান প্রয়োজনে শক্ত হয়েছেন এবং এর কারণে তিনি কিছু ক্ষেত্রে সমালোচিত হয়েছেন। সাইফুর রহমানকে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ এর ভক্ত বলা হত। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে এইচএমপিএইচপি একটি প্রজেক্ট ছিলো বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলো এখানে ফাইন্যান্স করবে। প্রথমেই প্রস্তাব হলো ২০ মিলিয়ন কনসালটেন্সির মাধ্যমে এই প্রজেক্টের পুরো প্রোগ্রামটা তৈরি করবে বিদেশীরা। আমি অর্থমন্ত্রীর কাছে গিয়ে বললাম আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ও সক্ষমতা আমাদের এক্সপার্টরা ভালো বুঝবে না বিদেশিরা ভালো বুঝবে। প্রথমদিকে বিশ্বব্যাংক কোনো সংস্থা আমাদের ফাইন্যান্স করবে না। তিনি আমাকে বললেন, আমি তাদেরকে নিয়ে একটি মিটিং ডাকি আপনি আসেন। সেখানে আমি তাদের হয়ে আপনাকে কথা বলবো, আপনি আপনার যুক্তিগুলো ভালোভাবে উপস্থাপন করবেন। আমি সেখানে সেটাই করেছিলাম এবং তারা আমাদের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হয়েছিল।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, যেকোনো দেশের ধনিক শ্রেণীর যারা থাকে তারা চায় সুবিধা ভোগ করার মাধ্যমে তাদের অর্থ-সম্পদ আরো বৃদ্ধি করতে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও দেশের শীর্ষ ধনীদের কাউকে অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে এরকম নজীর নেই। কারণ ধনী ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বেশি দেখেন। কিন্তু বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যবসায়ীকে অর্থমন্ত্রী বানানো হয়েছে। ফলে আমরা লক্ষ্য করেছি কোটি কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হলেও বড় ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে কিন্তু মাসিক পাঁচ হাজার টাকা কিস্তি দিতে না পারায় কৃষকদের জেল খাটতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুনেছি বর্তমান অর্থমন্ত্রী বলেছেন হলমার্কে আবার সুযোগ দেয়া হবে। অর্থাৎ লুটেরাদের আবার জনগণের টাকা লুট করতে সুযোগ করে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দেশে বৈষম্যের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন গরীব ও সর্বোচ্চ ধনীর সাথে বৈষম্যের পার্থক্য ১৪৩ গুন। যা আগে ছিল ৩০ গুন।


আরো সংবাদ