২১ নভেম্বর ২০১৯
ঢাকা শহরে সাবওয়ে প্রকল্প

শুরুর আগেই শত কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি

শুরু হওয়ার আগেই প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয় বাড়ছে ঢাকা শহরে সাবওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের। এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং প্রাথমিক নকশা প্রণয়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা; কিন্তু এখন এই ব্যয় ৪০ ভাগ বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩০৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রাথমিক নকশা প্রণয়নের কাজটি করবে স্পেনের ‘টেকনিকা ওয়াই প্রোয়েক্টস এস এস। দরবৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আজ বুধবার অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১ জুলাই অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সাবওয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং প্রাথমিক নকশা প্রণয়নের জন্য স্পেনের এই প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়। সে অনুযায়ী একই বছর ২ জুলাই কোম্পানির সাথে এই কাজের জন্য ২১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ‘ইনসেপশন রিপোর্ট’ এবং ২০১৯ সালের ৩০ মে ইনটেরিম (অন্তর্বর্তীকালীন) রিপোর্ট দাখিল করে।

এই রিপোর্টের ওপর মতামত গ্রহণের জন্য ২০১৯ সালের ৯ মে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে আরএসটিপিতে প্রস্তাবিত এমআরটি-১ থেকে ৬ এর অ্যালাইনমেন্ট ভিত্তিতে ঢাকা শহরকে (শুধু মাত্র রাজউক এরিয়া) সাবওয়ে দ্বারা কানেক্ট করতে ২৩৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সাবওয়ে/এমআরটি নির্মাণ করা প্রয়োজন হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করে।

প্রসঙ্গত, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে ৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সাবওয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং প্রাথমিক নকশা প্রণয়নের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

পরে ঢাকা সাবওয়ে সমীক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) এবং প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির (পিএসসি) বৈঠকে সাবওয়ে নির্মাণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে ঢাকা শহরে সাবওয়ের পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক অর্থাৎ ২৩৮ কিলোমিটার বা সমপরিমাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সূত্র জানায়, অতিরিক্ত কাজের জন্য বিদ্যমান পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দু’টি প্রস্তাব দাখিল করে প্রথম প্রস্তাবে বলা হয়, ৯০ কিলোমিটার সাবওয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন এবং অতিরিক্ত ১৪৮ কিলোমিটার সাবওয়ের কাজের প্রাক্কলিত মূল্য চাওয়া হয় ৩৪০ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার টাকা; যা মূল চুক্তির ২১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪১ হাজার টাকার চেয়ে ৬২ শতাংশ বেশি।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়, ৯০ কিলোমিটার সাবওয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন এবং অতিরিক্ত ১৪৮ কিলোমিটার সাবওয়ের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার টাকা। যা মূল চুক্তির চেয়ে ১১১ শতাংশ বেশি। এরপর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব ৫০ শতাংশের নিচে করার জন্য বলা হয়।

কিন্তু পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কমিটির প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিকল্প-২ প্রস্তাব বাদ দিয়ে বিকল্প-১ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিস্তারিত আলোচনা করে কমিটি বিকল্প-১ এর আর্থিক প্রস্তাব আরো কমিয়ে দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পরে ৩১৬ কোটি ৭ লাখ টাকার প্রস্তাব দাখিল করে, যা মূল চুক্তির ৪৪ শতাংশ বেশি।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সংশোধিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে কর্তৃপক্ষ প্রথম প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। এতে চুক্তি মূল্য ২১৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪১ হাজার টাকার সাথে অতিরিক্ত কাজের জন্য ৮৮ কোটি ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকার ভেরিয়েশন যুক্ত হবে।

এতে সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং প্রাথমিক নকশা প্রণয়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩০৭ কোটি ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং প্রাথমিক নকশা প্রণয়নের কাজ ২০২১ সালের ৩১ মার্চ শেষ হবে বলে জানা গেছে।


আরো সংবাদ