২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
প্রজ্ঞাপন জারি

বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি টাকা রাখলে বেশি সুদ

বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি টাকা রাখলে বেশি সুদ - ছবি : সংগৃহীত

সরকারি টাকা বেসরকারি ব্যাংকে রাখলে বেশি সুদ দেয়া হবে। সুদহার নির্দিষ্ট করে সরকারের নিজস্ব অর্থের ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখার বিধান এবং সুদ হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকের সুদহার বেঁধে দেয়ার পর আমানতকারীদের সবাই যাতে সরকারি ব্যাংকের দিকে ঝুঁকে না পড়ে তা ঠেকাতে বেসরকারি ব্যাংকে ডিপোজিটে মুনাফা আধা শতাংশ বেশি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখলে সর্বোচ্চ সুদ পাওয়া যাবে ৬ শতাংশ। আর এই অর্থ যদি সরকারি ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখা হয় তাহলে সর্বোচ্চ সুদ মিলবে সাড়ে ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বেসরকারি ব্যাংকে সুদ বেশি আধা শতাংশ।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, এডিপি এবং পরিচালন বাজেটের আওতায় প্রাপ্ত অর্থ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির নিজস্ব তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবসায় নিয়োজিত বেসরকারি ব্যাংক অথবা অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সে পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে উল্লিখিত উৎসগুলোর উদ্বৃত্ত অর্থ সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ সুদহারে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকে এবং মোট উদ্বৃত্ত অর্থের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদহারে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে মেয়াদি আমানত রাখা যাবে।

তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ তহবিলের র্অথ (প্রভিডেন্ট ফান্ড), পেনশন তহবিলের অর্থ এবং এন্ডাউমেন্ট ফান্ডের অর্থের আওতাবহির্ভূত থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল সরকারের নিজস্ব অর্থের ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখার বিধান রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে ওই প্রজ্ঞাপনে আমানত রাখার ওপর সুদের হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। এমনকি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে সুদের পার্থক্যও রাখা হয়নি। নতুন প্রজ্ঞাপনে এগুলো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

২০১৮ সালের ২ এপ্রিলের আগে সরকারি অর্থের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থের ২০ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অর্থের ২৫ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার বিধান ছিল।
প্রসঙ্গত আগামী ১ এপ্রিল থেকে সব ধরনের ব্যাংকঋণে সুদহার সর্বোচ্চ নয় শতাংশ এবং আমানতে সুদহার সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ব্যাংকে সরকারি আমানত রাখতে হবে এবং এর সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। এই বাস্তবতায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হলো।


আরো সংবাদ