১৬ জুন ২০১৯
ঢাকার গণপরিবহনে অব্যাহত নৈরাজ্য

সহ্যের সীমা পেরিয়ে যাচ্ছে

-

রাজধানীর গণপরিবহনের ক্ষেত্রে নৈরাজ্য নিয়ে লেখালেখি কম হয়নি। এই নৈরাজ্য দূর করার বা নিদেনপক্ষে রোধ করার মতো কেউ আছে বলে মনে হয় না। যারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে আছেন তাদের যে এসব বিষয়ে মনোযোগ নেই তা বোঝা যায় নৈরাজ্যের অবসান না হওয়া থেকে।
রাজধানীতে গণপরিবহনে যাত্রীদের যে কী দুর্বিষহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে; তারই একটি খণ্ডচিত্র উঠে এসেছে কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, চলতি রমজানে ঢাকায় গণপরিবহনের ৯৫ শতাংশ যাত্রী প্রতিদিনের যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ যাত্রী চলন্ত বাসেই ওঠানামা করতে বাধ্য হন। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেও ৩৬ শতাংশ যাত্রীকে দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। ইফতারের আগ মুহূর্তে যানজট ও গণপরিবহন সঙ্কটে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অফিস করে ইফতার সামনে রেখে দ্রুত ঘরে ফিরতে ইচ্ছুক যাত্রীদের টার্গেট করে নগরীতে চলাচলকারী প্রায় সব বাস এখন রাতারাতি ‘সিটিং সার্ভিস’। এসব বাস বিশেষত ইফতারের সময় যাত্রীদের ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দ্রুত গন্তব্যে যাত্রা করে। ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের প্রায় ৯৭ শতাংশ সিটিং সার্ভিসের নামে দরজা বন্ধ করে যাতায়াত করছে। এতে নগরীর মাঝপথের বিভিন্ন স্টপেজের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাসগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে ৯৮ শতাংশ যাত্রী।
অভিযোগ অনেকগুলো। কোনোটারই আশু অবসানের কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রীদের এসব ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। যাত্রী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা রমজানের শুরু থেকে যাত্রীসাধারণের কর্মস্থলে যাতায়াত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। নগরীর এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সরেজমিন অবস্থান, পর্যবেক্ষণ এবং যাত্রীদের সাথে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, হয়রানির শিকার হলেও অভিযোগ কোথায় করতে হয় জানেন না ৯৩ শতাংশ যাত্রী। তবে ৯০ শতাংশ যাত্রী মনে করেন, কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না বলেই তারা অভিযোগ করেন না। গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন ৯০ শতাংশ যাত্রী। আর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার ৯৮ শতাংশ যাত্রী।
সিএনজির ভাড়া প্রসঙ্গে বলা হয়, নগরীতে চলাচলকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশার শতভাগই চুক্তিতে চলাচল করছে। এতে মিটারের প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীদের নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে রাজি হন না ৯৩ শতাংশ অটোরিকশা চালক। অনেকটা কাকতালীয়ভাবে অটোরিকশা চালকের পছন্দের গন্তব্যের সাথে মিলে গেলে যেতে রাজি হন তারা। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গণপরিবহন নৈরাজ্যে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে রাইড শেয়ারিংয়ের নামে চলাচল করা মোটরবাইকগুলো। নগরজুড়ে দেখা গেছে, বিকেল ৪টার পর থেকে অ্যাপের পরিবর্তে মৌখিক চুক্তিতে তিন থেকে চারগুণ অতিরিক্ত ভাড়ায় এগুলো যাত্রী বহন করছে।
যারা দায়িত্বে আছেন তাদের জবাবদিহির কোনো ব্যবস্থা নেই। জনগণের পক্ষে কথা বলার কেউ কোথাও নেই। সংসদে এসব জনভোগান্তির বিষয় উত্থাপনের প্রয়োজন মনে করা হয় না। কিন্তু জনগণ যে তিমিরে সেই তিমিরেই থেকে যায়। তাদের ভাগ্যের চাকা গণপরিবহনের চাকার মতো ঘোরে না। অনেকের মতে, কোথাও একটা বড় ঝাঁকুনি হয়তো দরকার এই অচলায়তনের ভিত নাড়িয়ে দেয়ার জন্য।


আরো সংবাদ