১৪ নভেম্বর ২০১৯
নিরাপদে ঘরে ফেরা ও পশুর হাট

ঈদ আনন্দ ম্লান করে দেয়

-

ঈদ মওসুমে সারা দেশে একটা হুলস্থুল পড়ে যায়। নানা ধরনের বিপদ-আপদ ও অসুবিধা মোকাবেলা করে মানুষ তার ঈদ আনন্দ ভোগ করে নেয়ার চেষ্টা করে। কোরবানির ঈদে বাড়ি ফেরার পাশাপাশি গরুর হাট নিয়ে সারা দেশে একটা বিরাট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। দূরযাত্রার পথচারী ছাড়াও সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েন রাজধানীর ঢাকার গরুর হাটের আশপাশের মানুষ। বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো নিয়মকানুন সেভাবে কার্যকর না থাকায় এমন দুর্ভোগে মানুষের কষ্টের অন্ত থাকে না। আছে গরু ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতার ভোগান্তি, উৎপাত রয়েছে চাঁদাবাজির। ঘরমুখো মানুষেরা দুর্ভোগের শিকার হন সড়ক-মহাসড়কে। ভাঙাচোরা সড়কের পাশাপাশি গরুর হাট এ দুর্ভোগের কারণ।
রাজধানীসহ বড় বড় শহর থেকে ঘরমুখো মানুষ রাস্তায় যানজটে দুর্ভোগে পড়েন। দেশের বিপুল অংশজুড়ে এবার ঈদের আগে বন্যা হয়েছে। এর ফলে দেশের সড়ক-মহাসড়কও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ভাঙাচোরা এই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এর সাথে যোগ হয়েছে কোরবানির পশু বহনকারী বড় বড় ট্রাক। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের অবস্থা আরো খারাপ করে ফেলছে গবাদিপশু বহনকারী এসব ট্রাক। সময়মতো সংস্কার করতে পারলে অনেক সড়কের অবস্থা ভালো করা যেত। শেষ মুহূর্তে সড়ক সংস্কারের কাজ হচ্ছে প্রতিবারের মতো। এ ধরনের সংস্কারে সরকারি কোষাগারের অর্থ খরচ হয়। অনেকে এই কাজে লাভবানও হন। কিন্তু বাস্তবে সড়কের স্থায়ী উন্নতি হয় না। ইট-বালু দিয়ে সাময়িকভাবে সারানো রাস্তা সামান্য বৃষ্টিতে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
কোরবানির পশুবাজার বিশৃঙ্খলার অন্যতম কারণ। এর ইজারা দেয়া নিয়ে শুরু হয় বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে মহড়া। ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র বিরোধে অনেক সময় লাশও পড়ে। এর ওপর রয়েছে প্রভাবশালীদের যত্রতত্র হাট বসানো। রাস্তার ওপর হাট বসিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে তারা। রাজধানীর পশুর হাটগুলো যান চলাচল ব্যবস্থাকে বিশৃঙ্খল করে দেয়। এসব হাটের লক্ষ্যে শত শত ট্রাক রাজধানীর সরু রাস্তা দখল করে নেয়। ঠিক হাটের আশপাশে পশুবাহী ট্রাকের কারণে সাধারণ যানবাহন চলা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজধানীতে হাট বলতে যেগুলোকে ইন্ডিকেট করা হচ্ছে, এগুলোকে আসলে হাট বলা যায় কি না তা নিয়ে ভাবনার দরকার আছে। নামমাত্র সামান্য কিছু মাঠ বা খালি জায়গা হয়তো রয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগ বাজার রাস্তার ওপরই বসে। কমলাপুর ও গোপীবাগ কোরবানির পশুর হাটের কথা ধরা যাক। জনবসতি-দোকানপাটের মধ্যে রাস্তা ও কানাগলিতে গরুর বাজার বসেছে। মূলত বেশ ক’টি সরু গলি ব্লক হয়ে বিরাট এলাকায় প্রভাবশালীরা বসিয়েছে এ বাজার। ঢাকার সাথে চট্টগ্রামের দিকে বের হওয়ার মূল সড়কপথটি রয়েছে এখানে। পশুর হাটের কারণে দূরপাল্লার যোগাযোগ কঠিন হয়ে ওঠে কোরবানির ঈদের আগের কয়েকটি দিন। এ ছাড়া রাজধানীর অন্য হাটগুলোও মূল হাটের পাশাপাশি রাস্তা দখল করেই হয়। মানুষের চলাচল নির্বিঘœ করতে হলে এ ধরনের হাট নিয়ে ভাবতে হবে কর্তৃপক্ষকে।
ঈদ ঘিরে মানুষের অনেক আয়োজন। সে আয়োজন ম্লান করে দেয় যাতায়াতের ভোগান্তি। সেটি ঢাকা হোক কিংবা দেশের যেকোনো জায়গায়। সড়ক ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে দেশে। কিন্তু যাতায়াত নিয়ে মানুষের ভোগান্তি এখনো কমানো যায়নি। মানুষকে স্বস্তি দিতে হলে কোরবানির পশুর হাট নিয়েও ভাবতে হবে। সড়ক-মহাসড়কের ওপর হাট বসানো যাবে না। হাট বসাতে হলে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখতে হবে।

 


আরো সংবাদ