২২ আগস্ট ২০১৯
শীর্ষ খেলাপিদের ঋণ দিতে আবারো তোড়জোড়

তারা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে?

-

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘ দিন ধরে চলা একটি বিরাট সমস্যার নাম খেলাপি ঋণ। এতে যারা জড়িত তারা অত্যন্ত ক্ষমতাশালী। সে কারণে সরকার যায় সরকার আসে, তবুও খেলাপি ঋণগ্রহীতারা বহাল তবিয়তে থাকে সব সময়। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, এমন হাঁকডাক মাঝে মধ্যে শোনা গেলেও কোনো সরকারই তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। বরং এসব ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে প্রতিটি সরকার বরাবর লালন-পালনকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এখন দেশের শীর্ষ খেলাপিদের আবার নতুন করে ঋণ দেয়ার ব্যাপারে তোড়জোড় চলছে।
একটি জাতীয় পত্রিকার খবরে জানা যায়, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে একটি ট্রেক্সটাইল মিলের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক রফতানির নামে অর্থ পাচার করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব কারণে ছয় বছর আগেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে জনতা ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং প্রতিষ্ঠানটির মালিককে বিপুল ঋণ দিয়েছে জনতা ব্যাংক। ফলে ২০১৩ সালের ১০৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন তার ঋণের পরিমাণ এক হাজার ২৩৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যার বড় অংশই খেলাপি। এর পরও নতুন করে একই মালিকের প্রতিষ্ঠানকে এলসির মাধ্যমে আরো ৭৫১ কোটি টাকার ঋণসুবিধা দেয়ার তোড়জোড় করছে একই ব্যাংক।
ক্রিসেন্ট, অ্যাননটেক্স, বিসমিল্লাহসহ কয়েকটি গ্রুপের জালিয়াতির কারণে আর্থিক খাতে আলোচিত হচ্ছে জনতা ব্যাংকের নাম। একক গ্রাহকের ঋণসীমা অতিক্রম, ভুয়া রফতানি বিল তৈরিসহ নানা অনিয়ম করে এসব প্রতিষ্ঠানের নেয়া ১০ হাজার ৩১২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাননটেক্সের খেলাপি ঋণ ছয় হাজার ২০০ কোটি টাকা; ক্রিসেন্ট গ্রুপের খেলাপি ঋণ তিন হাজার ৫৭২ কোটি টাকা এবং বিসমিল্লাহ গ্রুপের খেলাপি ঋণ ৫৪০ কোটি টাকা। এসব কারণে ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ এখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক জনতায়। গত মার্চ মাস শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। তা ছাড়া, ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ চার হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা।
জানা গেছে, আলোচ্য কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস যে গ্রুপের প্রতিষ্ঠান, একই গ্রুপের মালিকানায় রয়েছে ডেনিম টেক্সটাইল মিলস ও ফার্টিলাইজার অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা এক হাজার ২৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ২২ কোটি টাকাই খেলাপি। বিদ্যমান ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালার বাইরে ‘বিশেষ বিবেচনা’য় ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে, প্রতিষ্ঠানটির ঋণ আট বছর মেয়াদে নিয়মিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি চেয়েছে জনতা ব্যাংক। এর পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের আলোকে গত ২৮ জুলাই এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে নানা অনিয়মে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন গ্রহণ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণসীমা অতিক্রম করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
আমরা মনে করি, ঋণখেলাপিদের জন্য কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দেয়া হলে খেলাপি ঋণের অপসংস্কৃতি দেশ থেকে অপসারণ করা যাবে না। এ জন্য দায়ী ব্যক্তিরা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। তাই এ প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।


আরো সংবাদ