১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯
অকার্যকর ডাকসু

দ্বন্দ্বের অবসান জরুরি

-

বহু প্রত্যাশা নিয়ে চলতি বছরের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল বর্তমান ডাকসুর নির্বাচন। বিতর্কিত হলেও এই নির্বাচনের পথ ধরেই শেষ পর্যন্ত গঠিত হয় বর্তমান ডাকসু। গত ১১ সেপ্টেম্বর পূর্ণ হয়েছে এর ছয় মাস মেয়াদ। এক বছর মেয়াদি ডাকসুর মেয়াদ বাকি আছে মাত্র ছয় মাস। এরই মধ্যে পেরিয়ে যাওয়া ছয় মাস ডাকসু ছিল অনেকটা অকার্যকর। অথচ এই ডাকসু বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম। অনেকেই ডাকসুকে অভিহিত করে থাকেন বাংলাদেশের ‘সেকেন্ড পার্লামেন্ট’ হিসেবে। কিন্তু সেই ডাকসু আজ সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের অপরাজনীতির শিকার। মূলত এ কারণেই ডাকসু অচল-নিষ্ক্রিয়।
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দু’টি প্যানেল ছিল। সাধারণ ছাত্রদের ভোটে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর ভিপি নির্বাচিত হন। অপর দিকে জিএস নির্বাচিত হন ছাত্রলীগের নেতা গোলাম রব্বানি। এ ছাড়া বিভিন্ন হল সংসদে সাধারণ ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্যানেল নির্বাচিত হলেও মূলত এবার ডাকসুতে ছাত্রলীগের সংখ্যাধিক্য রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে নির্বাচনসম্পর্কিত যে বিতর্ক সূচনাতেই ছিল, তার জের আজো চলছে, সে কারণে ডাকসু কার্যকর হতে পারছে না।
ডাকসু নির্বাচনে উভয় প্যানেলের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসঙ্কট, ‘গণরুম-গেস্টরুম’ প্রথা উচ্ছেদ, অছাত্র-বহিরাগত বিতাড়ন, সান্ধ্যকালীন বাণিজ্যিক কোর্স বন্ধ, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, পরিবহন সমস্যার সমাধান, ক্যান্টিনে খাবারের মান বাড়ানো, সাতটি কলেজের অন্তর্ভুক্তি বাতিল, ক্যাম্পাসে বাইরের যান চলাচল বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নে বড় কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাকসুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্রলীগের সাথে কোটা-বিরোধী আন্দোলনের দ্বন্দ্ব বিরূপ প্রভাব ফেলেছে ডাকসুর কার্যক্রমে। ভিপি নুরুল হক নূরের সাথে জিএস গোলাম রব্বানির মানসিক দূরত্ব অনেক বেশি। শীর্ষ দুই নেতৃত্বের এ দ্বন্দ্বে ডাকসুর কার্যক্রমে চলছে মূলত স্থবিরতা; কোনো ইস্যুতেই তারা একমত হতে পারছেন না।
ছাত্রলীগ গণরুম-গেস্টরুম প্রথা উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেয়নি, বরং তা বহাল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। একটি ইংরেজি দৈনিকের খবরে জানা যায়, ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের ছাত্রদের ডরমিটরির চারটি কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। এসব রুমে বসবাসরত দ্বিতীয় বর্ষের ৩২ জন ছাত্র ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রব্বানিকে ‘প্রটোকল’ দিতে মধুর ক্যান্টিনে যেতে অস্বীকার করেছিলেন। এ অভিযোগে তাদের কক্ষগুলোতে তালা লাগিয়ে দেন হল শাখার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, ছাত্রলীগ গণরুম-গেস্টরুম প্রথা উচ্ছেদে মোটেও আন্তরিক নয়। বলতে হয়Ñ নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি লোকদেখানো বৈ আর কিছু নয়।
সাধারণ ছাত্ররা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রলীগের অসহযোগিতা এবং ভিপি-জিএস দ্বন্দ্বের ফলে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও ডাকসু তেমন কোনো সফলতা দেখাতে পারছে না। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি উদ্যোগ নেয়া হলেও সত্যিকারের উন্নয়নমূলক তেমন কোনো কার্যক্রমে নেই ডাকসু।
আমরা মনে করি, ছাত্রলীগ ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠন হওয়ায় ছাত্রলীগেরই উচিত ডাকসু আরো কার্যকর করে তোলার ব্যাপারে কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে নির্বাচিত সদস্যদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় আন্তরিক হওয়া। কিন্তু তা হচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান হয়। এ কারণে ডাকসুর আজকের এই অচলাবস্থা। আমরা আশা করব, সব বিতর্ক পেছনে ফেলে ভিপি নুরুল হক এবং জিএস গোলাম রব্বানি একসাথে মিলে কাজ করে ডাকসুকে কার্যকর করে তুলবেন। এটাই সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সবার চাওয়া।


আরো সংবাদ