১৮ অক্টোবর ২০১৯
সড়ক শৃঙ্খলায় আদালতের নির্দেশ

বেঁধে দেয়া সময়ে বাস্তবায়ন জরুরি

-

সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়। ঈদের আগে ও পড়ে এ প্রবণতা বেড়ে যায়। সড়কপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে কিছু উদ্যোগ যে নেয়া হয় না, তা নয়। তবে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। প্রকৃতপক্ষে সব সময় লোকদেখানো প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন ছিল দীর্ঘমেয়াদি বা টেকসই পদক্ষেপ নেয়া। এখন পর্যন্ত সে রকম কিছু দৃশ্যমান নয়। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। আগের মতোই বিশৃঙ্খল অবস্থা বিদ্যমান। এতে করে প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে বহু প্রাণ।
গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তোপের মুখে পড়ে সরকার। সেই আন্দোলন ছিল অভূতপূর্ব। তখন আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নিলেও সেগুলো বাস্তবায়নে তেমন উদ্যোগ নেই। আর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চলতি বছর এপ্রিলে সরকারের কাছে ১১১টি সুপারিশ উপস্থাপন করে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল। সেগুলোর ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাস্তবায়নের বিষয়ে যে উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন ছিল, তা নেই। সুপারিশমালার কিছু ২০১৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা। চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করার যোগ্য এবং সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ২০২৪ সালের মধ্যে ১১১টি সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা। এসব বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা কমানো ও সড়কের শৃঙ্খলা অনেকাংশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এমন প্রেক্ষাপটে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার উচ্চ আদালত একটি রায়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ওই সব নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিবাদিদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন আদালত।
নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি কোম্পানির অধীনে গণপরিবহনে মাসিক বেতনের ভিত্তিতে চালক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে ট্রিপ ও দৈনিক ভিত্তিতে চালক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশও দেয়া হয়েছে। রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হাসানের ক্ষতিপূরণ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়। হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়েছে, বাস কোম্পানি ও চালকদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দূর করতে বিদ্যমান সব বাস কোম্পানিকে একটি কোম্পানির অধীনে আনতে হবে। সব মহানগরে জোন বা লাইনভিত্তিক বাসরুট ফ্রাঞ্চাইজ করতে হবে। যেখানে সব গাড়িকে একটি কোম্পানির অধীনে নিয়ে একেকটি রুটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের বাস সার্ভিস চালু করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার সময় চালকদের দৃষ্টিশক্তি ও ডোপ টেস্ট করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিআরটিএ-কে। পাশাপাশি মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রতিটি ক্রসিংয়ে ও বাস স্টপেজে চালকেরা বেপরোয়া গণপরিবহন চালাচ্ছেন কি না তা নজরদারি করতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া যত্রতত্র বাসে যাত্রী না তোলা, চলন্ত অবস্থায় বাসের দরজা বন্ধ রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা সংরক্ষিত ও আবাসিক এলাকার সামনে অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনের হর্ন না বাজাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে রায়ে।
আমরা মনে করি, উচ্চ আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হলে, তা হবে আদালত অবমাননার শামিল। এই নির্দেশনা প্রতিপালনে সরকার আর কোনো গাফিলতি করবে না বলে সবার প্রত্যাশা। বড় কথা হচ্ছে, যেকোনো উপায়েই হোক সড়কে শৃঙ্খলা দেখতে চান দেশবাসী।


আরো সংবাদ