১৮ অক্টোবর ২০১৯
বিপন্ন ভৈরব, মৃতপ্রায় করতোয়া

নদী হত্যা বন্ধ করতে হবে

-

এখন শেষ বর্ষায় নদ-নদী পানিতে পরিপূর্ণ এবং এ সময়ে নদীদূষণের মাত্রা কমে আসে স্বাভাবিকভাবে। তবুও দেশের নদ-নদীর দখল-দূষণসহ বিপন্ন দশার অবসান হয়নি। সোমবার নয়া দিগন্তসহ দু’টি জাতীয় দৈনিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান নদ ভৈরব এবং উত্তরাঞ্চলের সুপ্রাচীন নদী করতোয়ার দুর্দশার ওপর সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। যশোর শহর ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত। অপরিকল্পিত অর্ধশতাধিক ব্রিজ-কালভার্টের কারণে ছোট হয়ে আসছে এই গুরুত্বপূর্ণ স্রোতস্বিনীর খাত। আর সারা বছর নানাভাবে দখল-দূষণ তো আছেই। এ দিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলের সুদীর্ঘ করতোয়া নদীটি বিভিন্ন স্থানে দখল আর দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যেমনÑ সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় করতোয়া প্রায় মরে গেছে দখল-দূষণের তাণ্ডবে। অথচ এর নামটির অর্থ ‘খরস্রোতা’ বলে কথিত আছে।
একটি সহযোগী পত্রিকার যশোর সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ব্রিজ-কালভার্ট পরিকল্পিতভাবে স্থাপন না করায় অতীতের প্রমত্তা ভৈরব অপ্রশস্ত হয়ে পড়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এখন নদীটির ড্রেজিং চললেও তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এসব ব্রিজ-কালভার্টের কারণে। এত দিনে কর্তৃপক্ষের বোধোদয় ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভৈরব নদের ওপরে নির্মিত এ ধরনের স্থাপনাগুলো ভেঙে নতুন করে তৈরি করার প্রস্তাব পাঠিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। পাউবো সূত্র জানায়, অপরিকল্পিত ব্রিজ-কালভার্ট সদর উপজেলায় ৩৪টি, চৌগাছায় ১৬টি এবং ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলায় একটি। এগুলোর কারণে নদীর স্রোতের গতি এবং খাতের প্রস্থ, দুটোই কমে যাচ্ছে। ভৈরব নদ যশোর শহরে দেড় শ’ মিটার এবং শহরের বাইরে তার দ্বিগুণ প্রশস্ত। অথচ এই শহরের প্রাণকেন্দ্র, দড়াটানায় ভৈরবের ওপর মাত্র ২০ মিটার দৈর্ঘ্যরে ব্রিজ বানানো হয়েছে। সদর উপজেলার রাজারহাট কচুয়া ব্রিজটির দৈর্ঘ্য মাত্র ১২ মিটার আর প্রস্থ সাড়ে তিন মিটারের মতো। ফলে একটি ছোট গাড়ি এবং রিকশা পর্যন্ত পাশাপাশি চলতে পারে না। একই অবস্থা ঘোপ, ঝুমঝুমপুর, হৈবতপুর, খয়েরতলা, মথুরাপুর, নীলগঞ্জ, রূপদিয়া, লিচুতলা, বসুন্দিয়া প্রভৃতি স্থানে ভৈরবের ওপর নির্মিত ব্রিজগুলোর। জানা যায়, বিগত আশির দশকেও খুলনা থেকে ভৈরব নদের মাধ্যমে যশোরের দিকে বড় মালবাহী কার্গো চলাচল করত। এখন সেসব জায়গায় হেঁটেই নদী পার হওয়া যায়। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ভৈরব আগে আড়াই শ’-তিন শ’ ফুট চওড়া ছিল। অপরিকল্পিত ব্রিজ ও কালভার্টের দরুন পলি জমে এবং দখলের ফলে নদীটি অনেক সঙ্কীর্ণ হয়ে গেছে।
এ দিকে, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত, করতোয়া নদী দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে এবং নানাভাবে এর দূষণ থামছে না। বিশেষত সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ এলাকায় পানির অভাবে করতোয়ায় নেই প্রবাহ; তদুপরি চলছে জবরদখল। যে যেখানে পেরেছে, নদী দখল করে ইচ্ছামতো ভবন নির্মাণ করেছে। এভাবে গড়ে উঠেছে শত শত ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নামে-বেনামে তীর দখল করছে। নদীতীরের ভবনগুলোর ড্রেন দিয়ে বর্জ্য গিয়ে পড়ছে করতোয়ার বুকে। নদীতীরের হাটে আর নৌকা ভিড়তে পারে না পানি ও স্রোতের অভাবে।
এখানে মাত্র দু’টি নদীর করুণ চিত্র তুলে ধরা হলো নমুনা হিসেবে। বাস্তবে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে এবং ছোট-বড়-মাঝারি সব নদীই এখন দখল-দূষণ ও ভরাট-বর্জ্যরে অব্যাহত শিকার। অথচ নদী হত্যার মতো প্রকৃতিবিনাশী এই মারাত্মক আগ্রাসন রোধে কর্তৃপক্ষকে কোনো স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
সব অবৈধ দখল এবং সর্ববিধ দূষণ থেকে নদ নদীকে মুক্ত করার জন্য স্থানীয় সরকারের সহযোগিতায় প্রশাসনের বলিষ্ঠ উদ্যোগ নেয়া অপরিহার্য। মাঝে মধ্যে লোকদেখানো পদক্ষেপ নয়, সব সময়ই নদীপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য কড়া নজরদারি এবং ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়াই জনগণের কাম্য।

 


আরো সংবাদ

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলার শুনানি ৪ নভেম্বর ডিএনসিসির জরিপ কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার দায়ে আটক ১ শিবচরে গণ-উন্নয়ন সমিতির কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জবি ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে মুত্তাকী-জাহিন তোলারাম কলেজে কোথায় টর্চার সেল? ‘দ্বীনকে বিজয়ী করতে সর্বক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে’ বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি মোজাফফরের জামিন বাতিল জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ তিনজনের জামিন শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইউল্যাব স্কুলে আলোচনা জহুর-তনয় আশফাকের স্মরণসভাসিএনসির বিচারককে প্রত্যাহার দাবি আইনজীবী ফোরাম ও বার সম্পাদকের

সকল