১৭ নভেম্বর ২০১৯
অতিরিক্ত সচিব পদে ভারসাম্যহীন পদোন্নতি

এ প্রবণতা বাঞ্ছনীয় নয়

-

বাংলাদেশে এখন সব কিছুতেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টিই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কোথাও নিয়ম-নীতির বালাই নেই। বিভিন্ন পর্যায়ের সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছেছে। ফলে প্রশাসন একধরনের ভারসাম্যহীনতার মুখে।
একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে জানা যায়, উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে চাহিদা না থাকলেও পদোন্নতির ধারা থামছেই না। প্রশাসনের এই তিনটি পদের বিপরীতে বর্তমানে কয়েক গুণ বেশি কর্মকর্তা রয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক রয়েছেন অতিরিক্ত সচিব পদে। তাদের সংখ্যা অনুমোদিত সংখ্যার চার গুণ। এর পরও এই পদে আরো নতুন পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলছে। নতুন পদোন্নতি ঘোষিত হলে তাদের সংখ্যা অনুমোদিত সংখ্যার ৬ থেকে ৭ গুণে পৌঁছতে পারে। এতে প্রশাসনে ভারসাম্যহীনতার মাত্রা আরো বেড়ে যেতে পারে।
‘পিরামিড আকৃতির প্রশাসন’ হিসেবে প্রশাসনের নিচের স্তরের সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে উপরের স্তরে স্বল্পসংখ্যক কর্মকর্তা থাকার কথা। বাস্তবে সচিব পদ ছাড়া প্রশাসনের সব পদেই উল্টো অবস্থা বিরাজ করছে। অর্থাৎ যেখানে কর্মকর্তার সংখ্যা বেশি থাকার কথা, সেখানে রয়েছে কম। যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে রয়েছে বেশি।
জানা গেছে, প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদিত পদ ১২২টি, আর বর্তমানে সেখানে আছেন ৪৫৮ জন। যুগ্ম সচিবের অনুমোদিত পদ ৩৮৮টি, বর্তমানে আছেন ৮৪১ জন। উপসচিবের পদসংখ্যা যেখানে এক হাজার ৩৩০টি, সেখানে কর্মরত আছেন এক হাজার ৭০০ জন। কিন্তু এর পরই নিচের স্তরের দু’টি পদে দেখা যায় উল্টো চিত্র। সিনিয়র সহকারী সচিবের অনুমোদিত পদ দুই হাজার ১৩১টি, অথচ সেখানে কর্মরত আছেন এক হাজার ৫২৭ জন। সহকারী সচিবের অনুমোদিত পদসংখ্যা এক হাজার ৯৩৭, কর্মরত এক হাজার ৫৬৯ জন। তবে প্রশাসনের মধ্যে সচিব পদে সব সময়ই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। বর্তমানে সচিব ও সচিব মর্যাদায় কর্মরত আছেন ৮২ জন। একটি সূত্রমতে, অতিরিক্ত সচিব পদে প্রয়োজনের তুলনায় চার গুণ কর্মরত থাকার পরও এ পদে নতুন করে শিগগিরই পদোন্নতির ঘোষণা আসছে। তখন এ পদে কর্মকর্তা সংখ্যা দাঁড়াবে ৭০০ জনের মতো। অভিজ্ঞ জনদের অভিমত, এ পদে প্রয়োজনের তুলনায় ৭ গুণ কর্মকর্তা থাকাটা প্রশাসনে একটি অস্বাভাবিক ভারসাম্যহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। তা ছাড়া এই পদোন্নতির পর পরবর্তী পদগুলোতেও পদোন্নতির প্রশ্ন উঠে আসবে। যুগ্ম সচিব পদে ইতোমধ্যে ৪০০ জনের মতো বেশি কর্মরত রয়েছেন।
নিচের পদ খালি রেখে উপরের পদে অতিরিক্ত কর্মকর্তা থাকলে প্রশাসনে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হবে। আমরা দেখেছি, প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে এক পদে ৮-১০ বছর পর্যন্ত পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডারে পদ না থাকলেও পদোন্নতি পেয়ে উপরে উঠে যান কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে অন্যান্য খাতের চাকুরেদের মধ্যে ক্ষোভ কাজ করছে। কিন্তু সরকার এ ক্ষোভ নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পদোন্নতি সাধারণত জনস্বার্থে হলেও আমাদের দেশে কতটুকু জনস্বার্থে হয় তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য ক্ষমতাসীনরা এ ধরনের অনেক পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। এ কারণেও এই ভারসাম্যহীন পদোন্নতির প্রবণতা আমাদের দেশে চলছে। এসব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নইলে দেশে কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব হবে না।

 


আরো সংবাদ