১৭ নভেম্বর ২০১৯
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি

দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে

-

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির শিক্ষার যথার্থ পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করা উচিত। মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং এর বিস্তারের ব্যাপারে যারা অবদান রাখতে পারবে, তাদেরই এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। সচেতন মহল থেকে কমিটির লোকেরা এ লক্ষ্যে নির্বাচিত হবেন। আমাদের দেশে এ কমিটি অনেক জায়গায় বিতর্কিত হয়ে গেছে। অনেকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন নিছক নাম-যশ ও খ্যাতির জন্য। তার চেয়ে আরো বেশি ক্ষতিকর দিক হচ্ছে, অনেক অযোগ্য লোক এর মাধ্যমে দুর্নীতি করার সুযোগ খোঁজেন। শিক্ষার জন্য অবদান রাখার পরিবর্তে তারা অন্যায় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য।
স্কুলের জন্য রয়েছে ম্যানেজিং কমিটি। কলেজের জন্য রয়েছে গভর্নিং কমিটি। এ ধরনের কমিটির সাধারণ ১৬টি দায়িত্ব পালন করার কথা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জমি, ভবন, খেলার মাঠ এবং বইপুস্তক, ল্যাবরেটরিসহ প্রয়োজনীয় সব শিক্ষাউপকরণ নিশ্চিতকরণে সাহায্য করা পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব। শিক্ষক নিয়োগ, সাময়িক বরখাস্ত ও অপসারণ করে থাকে এ কমিটি। তারা বাজেট অনুমোদন, বিনা বেতনে অধ্যয়ন মঞ্জুরি এবং ছুটির তালিকা অনুমোদন করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সময়মতো হওয়ার ব্যাপারে তাদের তৎপর থাকতে হয়। এ কাজগুলো ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্ববান ব্যক্তিদের সাথে মিলে শিক্ষকরা করে থাকেন। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে কমিটির প্রভাব রয়েছে। একই সময় তহবিল ব্যবস্থাপনায় রয়েছে কমিটির হাত। এ ক্ষেত্রগুলোতে প্রভাবশালীরা সুযোগ নেন অনেক সময়ে। অনেকে তহবিল তসরুপ করেন। অনেক জায়গায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটি মিলে অন্যায় করে থাকেন। আবার দেখা যায়, মানেজিং কমিটির চাপে পড়ে শিক্ষকরাও অন্যায় করতে বাধ্য হন।
স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটির দুর্নীতি নিয়ে একটি সহযোগী দৈনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গায় পরিচালনা কমিটি শিক্ষার মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। তারা ছাত্রদের কল্যাণে নিজেরা অনুদান নিয়ে এগিয়ে আসছেন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অভাব-অভিযোগ মেটানোর চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তবতা এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে। কমিটির সদস্য বাছাই করার বেলায় ঐতিহ্য বজায় নেই। এখন কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কিংবা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের পছন্দের ব্যক্তিরা। তারা আসলে শিক্ষানুরাগী নন। ফলে তারা অনেক সময় করছেন নানা অনিয়ম-দুর্নীতি। এতে করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ কলুষিত হওয়ার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।
বাংলাদেশের প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান প্রশংসা কুড়িয়েছে। এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সুনাম অর্জন করেছিল। অবশ্য আগের অবস্থা আর বজায় থাকেনি, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রমেই রাজনীতির চর্চা বেড়েছে; কমেছে শিক্ষার মান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ কতটা দূষিত হয়েছে, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আবরার হত্যার পর সেটি এখন প্রমাণিত। সারা দেশের স্কুল-কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অপরাজনীতির প্রভাব পড়ছে। অনেক সময় তারা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠছেন যে, সেখানে শিক্ষার পরিবেশ আর বিদ্যমান থাকছে না। স্কুল-কলেজে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং উন্নত শিক্ষার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির মান রক্ষা করতে হবে। প্রকৃত শিক্ষানুরাগীদের দিয়ে কমিটি গঠন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে উদ্যোগী হতে হবে।


আরো সংবাদ