১৭ নভেম্বর ২০১৯
পাঁচ বছরে অবৈধ সংযোগ ৫ লাখ

গ্যাস চুরি বন্ধ হচ্ছে না

-

জ্বালানি গ্যাস চুরি বাংলাদেশে চলছে অব্যাহতভাবে। বিষয়টি গণমাধ্যমে আলোচিত হলে মাঝে মধ্যেই চালানো হয় এর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অভিযান। কিন্তু এতে কার্যত কোনো সাফল্য আসছে না।
বাসাবাড়িতে বৈধভাবে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে দীর্ঘ দিন। এর পরও বন্ধ হয়নি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া। জানা যায়, রাজধানী এবং আশপাশের কয়েকটি জেলায় লাখ লাখ বাসায় রয়েছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ। বৈধভাবে গ্যাস সংযোগ না পেয়ে গ্রাহকরা অবৈধ সংযোগ নিতে তৎপর হয়ে ওঠেন। আর এতে সহায়তা করছেন একশ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারী।
বাংলাদেশে গ্যাস বিতরণের কাজে নিয়োজিত সবচেয়ে বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে তিতাস গ্যাস কোম্পানি। তারা নিয়মিতভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের কাজটি পরিচালনা করে থাকে। গত এক বছরে কোম্পানিটি এক লাখের বেশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং প্রায় ৫০০ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন উচ্ছেদ করেছে। তবে বেশির ভাগ এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র আবার অবৈধ লাইন দিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো: মোস্তফা কামাল অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে একমত পোষণ করে একটি দৈনিককে জানান, ‘অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযানের পরও একটি মহল রাতের আঁধারে আবার সংযোগ দিচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা খবর পাই।’ এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে তিনি কার্যত তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কথাই প্রকাশ করলেন। গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণের দায়িত্বে থাকলেও কোম্পানি আজ পর্যন্ত এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি, যার মাধ্যমে গ্যাসের এই মহাচুরি বন্ধ করা যায়। মনে হয়, কোম্পানির কর্মকর্তারা ধরেই নিয়েছেন এই অপকর্মকে মেনে নিয়েই তাদের চলতে হবে। এলাকার নাম উল্লেখ না করে এক অভিযান প্রসঙ্গে তিতাসের এমডি বলেছেন, সম্প্রতি তাদের একটি টিম অবৈধ গ্যাস লাইন কেটেছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের বাসা ছিল। পরে আমরা তাদের বোঝাতে সক্ষম হই, তারা যে বাসায় থাকছেন সেখানকার গ্যাস সংযোগ অবৈধ। এরপর তারা তিতাসের লোকজনকে ছেড়ে দেন।
গ্যাসের অবৈধ সংযোগ এতটাই ব্যাপক যে, বিদ্যমান লোকবল দিয়ে সব সময় সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের কাজ চালানো যায় না। এটা অনস্বীকার্য, গ্যাস বিচ্ছিন্নকরণের অভিযান চললেও রাতারাতি সংযোগ আবার যেভাবে দেয়া হচ্ছে, তা কমানো যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে কার্যকর উপায় উদ্ভাবন করা দরকার। নইলে এই চুরির প্রবণতা দিন দিন আরো বাড়বে। এসব অবৈধ সংযোগের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দেশে রয়েছে জ্বালানি গ্যাস উৎপাদনে নানা সঙ্কট। এর ফলে নতুন বাসাবাড়িগুলো গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন করে ঘরবাড়িতে আর গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে না। ফলে অনেকে রান্নার কাজে এখন বোতলজাত এলপি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম) ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি, রাজধানীসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরকারকে গ্যাস চুরি বন্ধ করার একটি কার্যকর উপায় অবশ্যই অবিলম্বে বের করতে হবে। লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে গ্যাস চুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। গ্যাস চুরি মূলত চলে অসৎ ও স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায়। এদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণও জরুরি হয়ে পড়েছে।

 


আরো সংবাদ