২২ নভেম্বর ২০১৯
কয়লাচালিত ৩০ বিদ্যুৎ কারখানা

বাংলাদেশের জন্য কার্বন বোমা

-

বাংলাদেশে আগামী ২০৩১ সাল নাগাদ চালু হতে পারে ৩০টি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। আর একবার তা চালু হলে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে এর নিজস্ব সৃষ্টি এসব কার্বন বোমা। তা ছাড়া, এসব বিদ্যুৎ প্রকল্প দেশটিকে ঠেলে দিতে পারে বাণিজ্য ঘাটতিতে। কারণ, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোদমে চালু হলে বাংলাদেশকে আমদানি করতে হবে বছরে ২০০ কোটি ডলারের, টাকার হিসাবে ১৭ হাজার কোটি টাকার কয়লা। এসব কথা বলা হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রিপোর্টে।
'Choked by Coal : The Carbon Catastrophe in Bangladesh' শীর্ষক এই রিপোর্টটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ‘ওয়ার্ক ফোর্স’, যা কাজ করে পরিবেশগত টেকসই অর্থনীতি সমস্যাবলি নিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 350.org, যা কাজ করে ফসিল জ্বালানির ব্যবহার অবসানে।
রিপোর্টের সহপ্রকাশক হিসেবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ (ডব্লিউকেবি) এই রিপোর্ট প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়।
রিপোর্টে বলা হয়, দেশে অধিক হারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের ফলে পরিবেশে বিপর্যয় নেমে আসবে। রিপোর্টে আরো জানানো হয়, দেশে নতুন করে চালু হচ্ছে আরো, ২৯টি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে চারটি হবে ঢাকার পাশে। এ ছাড়া বরিশালে চালু হবে আটটি; চট্টগ্রাম, রংপুরের দিনাজপুরে দু’টি করে এবং কক্সবাজারে রয়েছে এমন আরো ১০টি প্রকল্প। এ ২৯টির মধ্যে একটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। বাকিগুলো ২০৩১ সালের মধ্যে চালু হবে। রিপোর্টে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলা হয়, এসব কয়লাচালিত বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হলে বাংলাদেশে নেমে আসবে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়।
এ ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করে রিপোর্টে সুপারিশ রাখা হয়Ñ কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডেভেলপারদের এসব কয়লা-বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে এবং তাদের উচিত দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি তৈরির পেছনে মূলধন বিনিয়োগ করা।
আমরা মনে করি, বাংলাদেশে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। কারণ, বিশ্বব্যাপী কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন অচল বলে বিবেচিত হচ্ছে। আর সেখানে আমরা কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে চলেছি। আমরা ভাবছি না, এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবেশের ওপর কতটুকু পড়বে, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫২৫ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন একমাত্র কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লার ছাই পড়া পুকুরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সংক্রমিত করেছে কূপের পানি ও সেচের পানিকে। এসব পানিতে পাওয়া গেছে অতিরিক্ত মাত্রায় ভারী বিষাক্ত ধাতু। এতে সিসার মাত্রা বিশ্বব্যাংকের খাবার পানি প্রমিত মাত্রার তুলনা ৩৫-৩৯.৫ গুণ বেশি রয়েছে। অপর দিকে ক্রোমিয়ামের মাত্রা প্রমিত মাত্রার তুলনায় ৮.০২৫-১৮.৬৭৫ গুণ বেশি।
যদি বাকি ২৯টি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়, তবে বিদ্যুৎচালিত কয়লা উৎপাদনের ক্ষমতা ৬৩ গুণ বাড়বে। তখন এগুলো বছরে উৎপাদন করবে সাড়ে ১১ কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড। তখন দেশে কার্বন-ডাই-অক্সাইড উৎপাদনের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে। অতএব, অবিলম্বে আমাদের উচিত এসব কয়লা-বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র প্রকল্পগুলো বাতিল করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ভাবা। নইলে আমাদের তৈরি থাকতে হবে উল্লিখিত ‘কার্বন বোমা’র শিকারে পরিণত হওয়ার জন্য।


আরো সংবাদ