২৫ জানুয়ারি ২০২০
কমছে না শিশুমৃত্যুর হার

কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢিলেমি

-

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বর্তমান সময়ের শিশুরা সুস্থ-সবলভাবে গড়ে উঠলেই সামনের দিনগুলোতে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি কাক্সিক্ষত মানের হওয়া সম্ভব। এ কারণে শিশুমৃত্যুর হার একটি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও জীবনমানের সূচক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু আমাদের দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুমৃত্যুর হার কমছে না, বরং একটি জায়গায় থমকে আছে। অথচ অতীতে শিশুমৃত্যুর হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি নবজাতকের মৃত্যু হয়, বাংলাদেশ এখনো সেই তালিকায় আছে। বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে দুই লাখ ৪১ হাজার মারা যায় প্রথম মাস পুরো হওয়ার আগেই। ২০১৬ সালে সেটি নেমে আসে ৬২ হাজারে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে এসে দেশে এক হাজার নবজাতক জন্ম নিলে ৩০টি মারা যাচ্ছে বয়স ২৮ দিন হওয়ার আগেই। পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল ২৮। এক বা পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের পরিস্থিতিও ভালো নয়। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৭-২০১৮ (বিডিএইচএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে প্রতি হাজার নবজাতকের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১২ জনে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ জনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। বিডিএইচএসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে ধারাবাহিকভাবে এক বছর বয়সী শিশুর মৃত্যুহার কমে এলেও গত পাঁচ বছরে তা থমকে আছে। ২০১৪ সালে এক বছর বয়সী শিশুর মৃত্যুহার ছিল ৩৮। এখনো তাই।
জনসচেতনতার অভাবে দেশে গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সময়ে ঝরে যায় অনেক মা ও শিশুর প্রাণ। আধুনিক সমাজব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভরতার দিকে দেশ এগিয়ে গেলেও কিছু মানুষের মনে পুষে রাখা কুসংস্কার ও নেতিবাচক ধ্যানধারণার জন্য গ্রামাঞ্চলে মা ও শিশুমৃত্যুর হার কমছে না। একই সাথে দেশে কোটি কোটি শিশু দুর্বল এবং রুগ্ণ হয়ে বেড়ে উঠছে। এরা অপুষ্টির শিকার। অপুষ্টি অনেক সময়ই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, বুদ্ধিবৃত্তির সম্পূর্ণ স্ফুরণ না হওয়ায় শিশুর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলোর বিকাশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার বিষয়ে যখন থেকে কাজ শুরু করে, তখন প্রচার এবং শিশুর মৃত্যুর কারণগুলো চিহ্নিত করে জোরালো নজরদারি ছিল। শুরুতে নিয়মিত ও জোরালোভাবে কাজটি যথাযথ আনজাম দেয়ায় দ্রুত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দিকে এগিয়ে যায় আমাদের দেশ। শিশুমৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে, নবজাতক মৃত্যুর বড় কারণ ছিল চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান প্রসব। প্রশিক্ষণহীন দাইয়ের মাধ্যমে বাসায় সুরক্ষিত নয়, এমন পরিবেশে শিশু জন্মের কারণে প্রথম ২৮ দিনের যে সমস্যাগুলো শিশুরা ভোগ করে, সেগুলো কমানো সম্ভব হচ্ছিল না। ২০১০ সালের পর সরকার নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেয়। ফলে বাড়িতে শিশু প্রসব অর্ধেকে নেমে আসে। একসময় দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, ডায়রিয়াজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, পুষ্টি কর্মসূচি শিশুস্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। কৃমিনাশক কর্মসূচি, ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি শিশুদের অবস্থার উন্নতি করেছে। অন্য দিকে নিরাপদ প্রসব কর্মসূচি, প্রসব-পরবর্তী সেবা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবÑ এসবও শিশুমৃত্যু কমিয়েছে। শিশুমৃত্যুর হার কমাতে দাতব্যপ্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর কার্যক্রমও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বর্তমানে এসব কার্যক্রম সঙ্কুচিত হয়ে এসেছে।
শিশুমৃত্যুর হারা কমাতে গৎবাঁধা সেবা দিলে অবস্থার পরিবর্তন হবে না। সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি মান বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। গর্ভবতীর প্রসবপূর্ব সেবা বাড়ালে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব বাড়ালে নবজাতকের মৃত্যুহার কমবে। এ ছাড়া সমাজ ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে মানসিকতার পরিবর্তন এবং সচেতনতাও কমাতে পারে শিশুমৃত্যুর হার।

 

 


আরো সংবাদ

‘মনে হচ্ছে যেন পৃথিবীর শেষ দিন’, ভাইরাস আতঙ্কে চীন অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ভিসা দেয়া বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসে কেউটে-কালাচে আতঙ্ক ইস্তাম্বুলে ভয়াবহ ভূমিকম্প, নিহত ১৮ পাইলটকে দেখে নেয়ার হুমকি বিমানযাত্রীর আশুলিয়ায় ৩ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে কর্মচারীকে হত্যা চকবাজারে তাপসের পক্ষে প্রচারণা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অ্যাকাউন্টিংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : পরিকল্পনামন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ইকুয়েডরের ভাইস মিনিস্টারের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা সিটি নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীকে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির সমর্থন সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়তে চান মুফতি আতাউর

সকল