২৫ জানুয়ারি ২০২০
বালিশ, পর্দা ও বইয়ের পর চেয়ারকাণ্ড!

দুর্নীতি উন্নয়নের বড় প্রতিবন্ধক

-

দেশের প্রধান প্রবেশদ্বারতুল্য ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দু’টি প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের আধুনিকায়ন প্রকল্পের জন্য কেনাকাটার প্রস্তাবে অস্বাভাবিক রকম অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। এই বিমানবন্দরকে বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর আওতায় টার্মিনাল ভবনে যাত্রীদের বসার জন্য সংযুক্ত তিন সিটের একটি লাউঞ্জ চেয়ারের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং সংযুক্ত দুই সিটের অন্য একটি চেয়ারের দাম প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে, আলোচ্য প্রকল্প প্রস্তাবে নানা ধরনের আরো অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তাই এটাকে সংশোধনের প্রয়োজনে ফেরত দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেছেন, ‘কারো গাফিলতিকে ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ঠিকাদারদের নিবিড়ভাবে তদারক করতে হবে। প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করতে হবে ঘন ঘন। এত কিছুর পরও সমস্যা থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ বাংলাদেশ বিমানের সাবেক এমডি ড. এম এ মোমেন বলেন, ‘এটা নিঃসন্দেহ যে, শাহজালাল বিমানবন্দরের সেবার মান বিশ্বের অন্য সব বিমানবন্দরের চেয়ে কম। এখানে দুর্নীতি ও অনিয়ম একটা বড় সমস্যা। তাই এ ক্ষেত্রেও সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো প্রয়োজন।’
বাস্তবতা হলো, দীর্ঘ দিন ধরে অন্তত একটি বিশ্বমানের বিমানবন্দর এই দেশের জন্য জরুরি হলেও আমাদের রাজধানীর ‘আন্তর্জাতিক’ বিমানবন্দরটি আধুনিকতা ও প্রযুক্তির দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে আছে আজো। এ কারণে ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষে আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল তৈরি করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ১৪ নভেম্বর এই প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে আলোচনাকালে মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তারা প্রকল্প প্রস্তাবের অস্বাভাবিক ব্যয়সমেত বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন। দেখা গেছে, এই প্রস্তাবে সংযুক্ত চেয়ার ছাড়াও কিউবেল্টের দামও ধরা হয়েছে অস্বাভাবিক রকম বেশি। টাইলসের পরিবর্তে শুধু গ্রানাইটের প্রস্তাব দেয়া হয়নি, এর দামও ধরা হয়েছে খুব বেশি। তাই গ্রানাইট পাথর নয়, টাইলসই ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। তদুপরি, ফলস সিলিংয়ের দাম নিয়েও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সন্দেহ করেছে। এ ছাড়া, সাইট অফিস নির্মাণের ক্ষেত্রেও পিডব্লিউডি’র মূল্যতালিকা প্রযোজ্য হলেও, এ প্রকল্পে তা করা হয়নি। উল্লিখিত বৈঠকে ফলস সিলিং উপকরণের দর ও মান এবং মাটি কাটা ও সরানোর দর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটির ব্যয় বহনের কথা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২-এর জুন পর্যন্ত এর বাস্তবায়নের মেয়াদ। এর অধীনে রয়েছে শাহজালাল বিমানবন্দর টার্মিনাল ১ ও ২-এর পূর্ত, যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি। তখন বিমানবন্দরের শীতাপত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ‘বিশ্বমানের হবে’ বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এ দিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় আর্থিক ছাড়পত্র দিয়েছে ২৭ অক্টোবর।
বাংলাদেশে যে দুর্নীতি বাড়ছে এবং তা এখন জীবনের সব ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত, এটা কারো পক্ষে অস্বীকার করা কিংবা লুকানোর কোনো উপায় নেই। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘বালিশকাণ্ড’ এবং ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ প্রকল্পের ‘পর্দাকাণ্ড’ ও ‘বইকাণ্ড’ ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়ম, তথা রাষ্ট্রীয় অর্থ লুণ্ঠনের সাম্প্রতিক নজির। স্বীকার করতে হবে, দুর্নীতির দৃষ্টান্ত নিত্যদিন স্থাপিত হচ্ছে এবং এসব ঘটনার নগণ্য সংখ্যকই প্রকাশ পাচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের আলোচ্য প্রকল্পের উল্লিখিত দুর্নীতির বিষয় এখনো ঘটতে পারেনি, কারণ তার বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। তবে দুর্নীতির মহীরুহ উৎপাটনের জন্য এর সব উৎস বন্ধ এবং যাবতীয় সম্ভাবনা নির্মূল করা জরুরি।
দেশে যে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে, দুর্নীতি অব্যাহত থাকলে তা মারাত্মকভাবে বিঘিœত হবে। তাই দুর্নীতির মূলোচ্ছেদই সময়ের দাবি।

 


আরো সংবাদ

পাইলটকে দেখে নেয়ার হুমকি বিমানযাত্রীর আশুলিয়ায় ৩ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে কর্মচারীকে হত্যা চকবাজারে তাপসের পক্ষে প্রচারণা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অ্যাকাউন্টিংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : পরিকল্পনামন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ইকুয়েডরের ভাইস মিনিস্টারের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা সিটি নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীকে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির সমর্থন সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়তে চান মুফতি আতাউর ঢাকাবাসীর পিঠা ও বাকরখানী উৎসব অনুষ্ঠিত বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়ি ও ক্যাম্পে আ’লীগ প্রার্থীর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ভালো আর্থিক প্রতিবেদনই দিতে পারে ভালো আইপিওর নিশ্চয়তা বেতন বৈষম্য নিরসনসহ ৮ দফা দাবি সরকারি চাকুরেদের

সকল