২৫ জানুয়ারি ২০২০
দেশে ২ কোটি হতদরিদ্র

ভয়াবহ পুষ্টিহীনতার শিকার

-

দেশে কমপক্ষে দুই কোটি হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে, যারা ভয়াবহ পুষ্টিহীনতার শিকার। গত ১০ বছরে এ ধরনের হতদরিদ্র পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা বেড়েছে সাত লাখ। ২০১৭ সালের বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লিখিত হয়েছে। অপর দিকে, ২০১৮ সালে প্রকাশিত পরিকল্পনা কমিশনের অনুমিত হিসাব মতে, দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ১৩ শতাংশ হচ্ছে হতদরিদ্র, যাদের সংখ্যা মোটামুটি দুই কোটি। অপর দিকে আরো ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ লোক অর্থাৎ এক কোটি ৫৫ লাখ লোক দরিদ্র শ্রেণীর। এই দুই শ্রেণীর লোকরাই কমবেশি পুষ্টিহীনতার শিকার। এই দুই শ্রেণীর দরিদ্র তথা দেশের চার কোটি মানুষকে পুষ্টিহীনতার বৃত্ত থেকে বের করে আনতে না পারলে এরা জাতির জন্য স্থায়ী বোঝায় পরিণত হবে। এ উপলব্ধি আমাদের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কতটুকু আছে সেটি একটা প্রশ্ন।
দারিেেদ্র্যর কারণে দুই কোটি হতদরিদ্র মানুষের সক্ষমতা নেই প্রতিদিন এক হাজার ৮০৫ ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার কেনার। অপর দিকে, আরো এক কোটি ৫৫ লাখ দরিদ্র মানুষ প্রতিদিন জোগাড় করতে পারে না দুই হাজার ১২২ ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার। জাতিসঙ্গের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) দেয়া হিসাব মতে, বাংলাদেশে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ গড়ে দুই হাজার ৪৩০ ক্যালরি গ্রহণ করে।
‘খাদ্য ও পুষ্টি সব নাগরিকের জন্য’ এই লক্ষ্য পূরণের জন্য আন্দোলনকারী দেশের ‘রাইট টু ফুড বাংলাদেশ’ নামের একটি নেটওয়ার্ক গত পরশু ঢাকায় দাবি জানায় : সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এটি একটি যথার্থ দাবি। কারণ, দেশের জনগণকে পুষ্টিহীন রেখে কোনো জাতিই তার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না। পুষ্টিহীন মানুষ তার নিজের পরিবারের ও জাতির কাছে এক বোঝা। তাকে পরনির্ভরশীলতার ভাগ্য বরণ করতে হয়। পুষ্টিহীন মানুষের অপর অর্থ কর্মহীন মানুষ। আর দারিদ্র্য হচ্ছে পুষ্টিহীনতার মূল কারণ।
দারিদ্র্য সরাসরি মানুষের খাবার তালিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে দেশের জনগোষ্ঠীর ব্যাপক একটি অংশ আজ পুষ্টিহীনতার শিকার। বিভিন্ন জরিপ সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরে ‘রাইট টু ফুড’ নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক কানিজ ফাতেমা তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেনÑ দেশের কমপক্ষে ৪৪ শতাংশ নারী রক্তশূন্যতায় ভোগে, ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু জন্ম নেয় গড় ওজনের চেয়ে কম ওজন নিয়ে, ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ শিশু হয় রোগা-পাতলা।
অথচ আমাদের সংবিধান ও খাদ্যনীতিতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সব নাগরিকের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি। তাই সংবিধান ও খাদ্যনীতির আলোকে সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে এর জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারত, নেপাল ও আরো কয়েকটি দেশ এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আমরা যখন ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছি, তখন সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার দাবিটি যথার্থ এবং এটিই চূড়ান্ত সময় এ সম্পর্কিত আমাদের যাবতীয় ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার। আশা করি, আমাদের নীতিনির্ধারকরা গুরুত্বের সাথে এই দাবিটি নিয়ে ভাববেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।


আরো সংবাদ

পাইলটকে দেখে নেয়ার হুমকি বিমানযাত্রীর আশুলিয়ায় ৩ তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে কর্মচারীকে হত্যা চকবাজারে তাপসের পক্ষে প্রচারণা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অ্যাকাউন্টিংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : পরিকল্পনামন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ইকুয়েডরের ভাইস মিনিস্টারের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা সিটি নির্বাচনে আ’লীগ প্রার্থীকে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির সমর্থন সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়তে চান মুফতি আতাউর ঢাকাবাসীর পিঠা ও বাকরখানী উৎসব অনুষ্ঠিত বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়ি ও ক্যাম্পে আ’লীগ প্রার্থীর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ভালো আর্থিক প্রতিবেদনই দিতে পারে ভালো আইপিওর নিশ্চয়তা বেতন বৈষম্য নিরসনসহ ৮ দফা দাবি সরকারি চাকুরেদের

সকল