১৯ আগস্ট ২০১৯

অবশেষে আলোর মুখ দেখছে ডাকসু নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন

ডাকসু নির্বাচনের দিন সকালে ভোট শুরুর আগেই বস্তাভর্তি সিলমারা (x চিহ্নিত) ব্যালট উদ্ধারের পর সেগুলো নিয়ে কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীদের বিক্ষোভ - ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে কারচুপি তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসি ও নানান অভিযোগের পর অবশেষে প্রকাশ হতে যাচ্ছে প্রতিবেদন। নির্বাচনকালীন কুয়েত মৈত্রী হল, রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও পরবর্তীতে এক প্রার্থীর অভিযোগ পত্র জমা দেয়ার পর প্রায় দু’মাসের দিকে রিপোর্ট প্রকাশ করছে যাচ্ছে তদন্ত কমিটি।

বিষয়টি নয়া দিগন্ত অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত রিপোর্টটি লিখতে সময় লেগেছে। এখন সব কিছু প্রস্তুত। আগামী মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে আমরা প্রতিবেদন প্রকাশ করবো।

বস্তা ভর্তি সিল মারা ব্যালট উদ্ধারের পর বস্তা ও ব্যালট নিয়ে কুয়েত মৈত্রী
হলের ছাত্রীদের বিক্ষোভ (১১ মার্চ, ২০১৯)

 

এদিকে ২৮ বছর পর গেল ১১ মার্চ ডাকসু ও ১৮টি হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ ব্যতীত অন্য পাঁচটি প্যানেল। এই নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলনে তারা। পরে ঘোষিত ফলাফলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় পাঁচটি প্যানেল।

পরে ঘোষিত ফলাফলে ডাকসুতে মোট ২৬টি পদের মধ্যে ২৩টি পদে জিতে সংখ্যগরিষ্ঠতা পায় সরকার সমর্থক ছাত্রলীগ। আর নির্বাচন বর্জন করলেও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল থেকে নুরুল হক নুর ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। আর সমাজসেবা সম্পাদক পদে জয়ী হন একই প্যানেলের আখতার হোসেন।

কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগে ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবিতে ঢাবি
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ (১২ মার্চ, ২০১৯)

 

এদিকে ডাকসু নির্বাচনের পরপরই কয়েকজন শিক্ষার্থী পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করে। পাশাপাশি একই দাবিতে বিভিন্ন প্যানেল ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু করে। এসময় তারা ঢাবি প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি করেন। দাবিগুলো হচ্ছে- জালিয়াতির ডাকসু নির্বাচন বাতিল করতে হবে; পুনরায় তফসিল ঘোষণা করতে হবে; নির্বাচনের সাথে জড়িত রির্টানিং কর্মকর্তাসহ ভিসির পদত্যাগ করতে হবে; শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগগুলো তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন প্রদানের জন্য ২১ মার্চ ভিসি সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও দিন-সপ্তাহ পেরিয়ে দু’মাসের মাথায় আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে তদন্ত প্রতিবেদন।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্দিষ্ট অভিযোগের কথা বললে নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের কথা জানিয়ে তদন্ত কমিটির কাছে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেল থেকে জিএস প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। নির্বাচনে ৫০৯ প্রার্থীর মধ্যে তিনিই একমাত্র প্রার্থী যে অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগ পত্র জমা দেন।

এদিকে স্বতন্ত্র জোটের ভিপি প্রার্থী অরণি সামন্তি খান বলেন, প্রশাসনের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। আমরা চাই প্রতিবেদনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রতিফলন ঘটুক। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রশাসন স্বীকার করে নিক যে নির্বাচনে প্রকৃতপক্ষে কারচুপি-অনিয়ম হয়েছে।

এ বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, তদন্ত কমিটি গঠিত হওয়ার পরে তারা আমাকে ডেকেছিলেন। প্রায় দু’ঘণ্টা যাবত কথা হয়েছে কমিটির সাথে। অনেক ক্ষেত্রেই কমিটি আমার করা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। কমিটি এক রকম স্বীকারই করে নিয়েছিল যে, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। এখন যেহেতু প্রতিবেদন প্রকাশ করছে- আমরা চাই আমাদের করা অভিযোগ স্বীকার করে নিক ঢাবি প্রশাসন। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করবে।

রাশেদ খাঁন আরো বলেন, প্রশাসন যদি অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে পুনরায় ডাকসু নির্বাচন না দেয়, তাহলে আমি আইনের আশ্রয় নিব।


আরো সংবাদ