১৭ অক্টোবর ২০১৯
ট্রেনের অগ্রিম টিকিট

কমলাপুরে যাত্রীদের ভিড় বাকি চার কাউন্টার ফাঁকা

দুই কাউন্টারে দুই চিত্র, (বামে) কমলাপুরে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাড়িয়ে ক্লান্ত যাত্রীরা। (ডানে) ফুলবাড়িয়া কাউন্টারে নেই ভিড় - ছবি : নয়া দিগন্ত

কমলাপুরে ভিড় থাকলেও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির অন্য চারটি স্পটে যাত্রী পাচ্ছে না রেলওয়ে। বৃহম্পতিবার নগরীর পাঁচটি স্পটের টিকিট বিক্রির কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র। বিশেষ করে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াতে বেশি আগ্রহী থাকার কারণেই মূলত এই অঞ্চলের যাত্রীরা ভিড় করছেন কমলাপুরে।

রেলের পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য অগ্রিম টিকিট দেয়া হচেছ কমলাপুর থেকে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির জন্য বাকি চারটি স্পট হচ্ছে বিমানবন্দর, বনানী, তেজগাঁ এবং ফুলবাড়িয়ার রেলওয়ের পুরাতন ভবন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রথমবারের মতো এ বছরই ট্রেনের বিভিন্ন গন্তব্যের জন্য নগরীতে পৃথক পৃথক স্থান থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সে অনুযায়ী কমলাপুর থেকে দেয়া হচ্ছে রেলের পশ্চিমাঞ্চল তথা রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের যাত্রীদের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট । অর্থাৎ যেসব ট্রেন যমুনা সেতু পার হয়ে ওপারে যাবে সেগুলোরই অগ্রিম টিকিট দেয়া হচেছ ঢাকার কমলাপুর থেকে। বিমানবন্দর কাউন্টার থেকে দেয়া হচেছ চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী রুটের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। তেজগাঁ থেকে দেয়া হচ্ছে ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী আন্তঃনগর সব ট্রেনের টিকিট। বনানী থেকে দেয়া হচেছ নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জগামী ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। আর ফুলবাড়িয়ার পুরাতন রেল ভবন থেকে দেয়া হচ্ছে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় বনানীর টিকিট কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল এখানে অগ্রিম টিকিট কিনতে তেমন কোন ভিড় নেই। যাত্রীদের চাপ কম থাকায় কারো মাঝে নেই কোন ব্যস্ততাও। মহিলা কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছেন সুমন মিয়া। এই প্রতিবেদককে তিনি জানালেন, এখান থেকে নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জগামী ট্রেনের অগ্রিম টিকিট দেয়া হচ্ছে। এই রুটে ট্রেনের সংখ্যাও কম, মাত্র দুটি। যাত্রীদের চাপও কম।

তিনি আরো জানালেন, প্রথম দিন ওই কাউন্টার থেকে মাত্র ৬ জন মহিলা টিকিট কিনেছেন। আর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত মাত্র একটি টিকিট কিনেছেন এক মহিলা যাত্রী। পুরুষ টিকিট কাউন্টারের চিত্রও প্রায় একই রকম। বুধবার বিক্রি হয়েছে দেড়শ টিকিট আর বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫৭টি টিকিট।

একই অবস্থা তেজগাঁও টিকিট বিক্রি কেন্দ্রেও। এখান থেকে দেয়া হচ্ছে ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। যারা আসছেন তারা প্রায় সবাই সহজে এবং কম সময়ে নিজ নিজ গন্তব্যের টিকিট কিনতে পারছেন। টিকিট কিনতে আসা সালাম নামের এক ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেল, তারা এবার খুব কম সময়ে এবং দীর্ঘ সময় লাইনে না দাঁড়িয়েই টিকিট কিনতে পারছেন। তিনি থাকেন রামপুরা এলকায়। প্রতিবারের ন্যায় এবার ঈদেও পরিবার নিয়ে বাড়ি যাবেন।

ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেল ভবন থেকে দেয়া হচ্ছে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। এখানে তেমন ভিড় নেই। যারা টিকিট কিনতে আসছেন তারা কমবেশি আধা ঘন্টার মধ্যেই টিকিট কিনতে পারছেন। আবুল কালাম আজাদ নামে এক ক্রেতা এসেছেন সেগুনবাগিচা থেকে । তিনি পরিবার নিয়ে যাবেন সিলেটে। মাত্র ১৩/১৪ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট হাতে পেয়ে যেন তিনি নিজেই আশ্চর্য হয়ে গেছেন।

এদিকে কমলাপুরে টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় অনেক বেশি। খুব ভোরবেলা থেকেই অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকেন অগ্রিম টিকিট কেনার জন্য। কমলাপুর রেলওয়ের ষ্টেশন মাষ্টার আমিনুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান, যাত্রীদের চাপ বেশি তাই এখানে ভিড়ও একটু বেশি। তবে এবার নগরীতে পাঁচটি আলাদা আলাদা কাউন্টার করায় অন্য বছরের তুলনায় চাপ অনেক কমেছে। এতে যাত্রী এবং আমাদের জন্যও সুবিধা হয়েছে। তিনি আরো জানান, এবছর অর্ধেক টিকিট মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেয়ায় ক্রেতারা ঘরে বসেই টিকিট কিনতে পারছেন। তাদেরকে কোন কাউন্টারেই যেতে হচ্ছে না। তিনি আরো জানান কমলাপুর থেকে পশ্চিমাঞ্চলগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রির জন্য ১২ হাজার টার্গেট নিয়েছি আমরা।


আরো সংবাদ