২৬ জুন ২০১৯

উচ্চমাধ্যমিকের ক্লাস শুরুর আগে নতুন বই পাওয়া নিয়ে সংশয়

উচ্চমাধ্যমিকের ক্লাস শুরুর আগে নতুন বই পাওয়া নিয়ে সংশয় - সংগৃহীত

আর মাত্র ২৭ দিন পর (১ জুলাই ১৯) শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ক্লাস। গতকাল পর্যন্ত একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক বাংলা, বাংলা সহপাঠ, ইংরেজি বই মুদ্রণ ও প্রকাশ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও সঙ্কটের অবসান হয়নি। ফলে ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের নতুন বই পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সময়মতো নতুন বই না পেলে, নকল বই বাজারে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এদিকে, এনসিটিবি বই তিনটি মুদ্রণকারীদের কাছে মুদ্রণের স্বত্ব দিয়ে কোটি কোটি টাকার রয়্যালিটি আদায় করে। এনসিটিবি মুদ্রাকর ও প্রকাশকদের কাছ থেকে যে কোটি কোটি টাকার রয়্যালিটি আয় করত, তা থেকে বঞ্চিত হবে এবং শিক্ষার্থীরা নকল বই কিনতে বাধ্য হবে। 

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা (বাণিজ্য) ও মানবিক শাখার সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক উপর্যুক্ত তিনটি বই ছাপা ও বিতরণ-বিক্রয়ের জন্য সময়মতো টেন্ডার আহ্বান করলেও সারা দেশের মাত্র চারটি মুদ্রণ-বিপণন প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয়। ২১ প্যাকেজে ৩০ লাখের বেশি বই মুদ্রণের জন্য টেন্ডার জমা দেয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান নানা জটিলতার দোহাই দিয়ে অপরাগতা প্রকাশ করে টেন্ডারে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে। সর্বশেষে অগ্রণী প্রিন্টার্স নামের চৌমুহনীর (নোয়াখালী) একটি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটিবি পুরো কাজ দিতে রাজি করায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কাজ করতে চাইলেও নানা শর্তারোপ করে এনসিটিবিকে। তাদের শর্তের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বইয়ের বর্তমান কাভার পেইজ পরিবর্তন করতে হবে। এনসিটিবি তাতেও রাজি হয়। তবে, গোল বেধেছে অন্য জায়গায়। যে প্রতিষ্ঠানকে উচ্চমাধ্যমিকের তিনটি বই ছাপার জন্য কার্যাদেশ দিতে চায় তারা গতকাল ৩ জুন পর্যন্ত এনসিটিবিকে সিকিউরিটি মানি এবং রয়্যালিটির টাকা জমা দেয়নি। ফলে এনসিটিবি এ প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিতে পারছে না। 
এ ছাড়াও অভিযোগ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটির আড়ালে রেখা পাবলিকেশন বিগত বছরগুলোতে নোট-গাইড ছাপিয়ে বাজারজাত করে আসছে। এর চাইতে বড় সমস্যা হচ্ছে, অগ্রণী প্রিন্টার্স এককভাবে ৩০ লাখের বেশি বই ছাপার মতো যোগ্যতা ও অবকাঠামো নেই। তাদের একটি মাত্র মেশিন রয়েছে মুদ্রণের জন্য। ফলে আগামী ২৭ দিনের মধ্যে সিকিউরিটি মানি এবং রয়্যালিটির টাকা জমা দিয়ে কার্যাদেশ পাওয়ার পর বই ছাপা শেষ করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এনসিটিবির একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শেষ কার্য দিবসেও ওই প্রতিষ্ঠানটি সিকিউরিটি মানি এবং রয়্যালিটির টাকা জমা দেয়নি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটির কারণে আগামী ৯ জুনের আগে সরকারি অফিস-আদালত খুলছে না। সে সময় টাকা জমা দিলেই কেবল এনসিটিবি ওই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দিতে পারে। 
এরূপ নানা যদির ফাঁদে এবারের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক তিন বইয়ের মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিতরণ আটকে আছে। এরই সুযোগ নেবে নকল বইয়ের মুদ্রাকর ও প্রকাশকরা বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশীয় মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতারা। তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বই সময়মতো দেয়া না গেলে নকল বই বাজারে প্রবেশ করবে। এটি গত কয়েক বছর ধরে মুদ্রণ শিল্প সমিতি ঠেকিয়ে রেখেছিল কিন্তু এনসিটিবির বিমাতাসুলভ আচরণের কারণেই দেশীয় মুদ্রণকারীরা এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কারণ এনসিটিবি বারবারই দেশীয় মুদ্রণকারীদের নানাভাবে হয়রানি করতে উঠে পড়ে লেগে আছে। তারা দেশের বাইরেই বই ছাপার জন্য বেশি উৎসাহী, আগ্রহী। সেখানেই এনসিটিবির বর্তমান কর্মকর্তারা তাদের লাভের অঙ্ক দেখেন। 

নতুন (২০১৮-১৯) শিক্ষাবর্ষ (১ জুলাই ১৯) শুরুর আগে বই পাওয়া নিয়ে সংশয় এবং নকল বই বাজারে পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, বই ছাপাতে লাগবে মাত্র আট থেকে ১০ দিন। বই বিতরণ ও বাজাতজাতকরণের দায়িত্ব টেন্ডারের শর্তানুসারে মুদ্রণকারীদের। ফলে সমস্যা হবে না। নকল বই শিক্ষার্থীরা কিনবে কেন? পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, এর দায় এনসিটিবি নেবে না। নতুন বই পেলে শিক্ষার্থীরা নতুন বই ছুঁবেও না।


আরো সংবাদ