১৮ আগস্ট ২০১৯

মহাসমাবেশ উপলক্ষে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতির সংবাদ সম্মেলন

-

মানসম্পন্ন বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের এমপিওভুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে মহাসমাবেশ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শিক্ষক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান।

নজরুল ইসলাম খান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৯২ সালে সর্বপ্রথম ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে বেসরকারি টিটি কলেজের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সাল থেকে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্তি নিয়ে প্রায় ১০৪টি বেসরকারি টিটি কলেজ ১৪টি সরকারি টিটি কলেজের ন্যায় একই কোর্স কারিকুলাম ও অভিন্ন একাডেমিক ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিএড প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। বর্তমানে ৭১টি বেসরকারি টিটি কলেজ বিএড প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এসব কলেজ থেকে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদান করছে।

তিনি বলেন, আমরা জানি বর্তমান সরকার উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে মানসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের কোনো বিকল্প নাই। গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা-প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে না পারলে এফডিজি-৪ অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। শিক্ষার এমন একটি গুরুত্বপূণ সেক্টর বিগত ২৭ বছরেও সরকারের কোন সুনজরে আসেনি। অথচ এসব কলেজ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক (প্রায় ২ লাখ) প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকারের আর্থিক কোনো সহযোগিতা ছাড়াই উদ্যোক্তাদের একক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় সংগ্রাম করে টিকে আছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় আমরা যাদেরকে ট্রেনিং দিচ্ছি তাদের এমপিও দেয়া হচ্ছে কিন্তু আজো বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে কর্মরত শিক্ষকদের শিক্ষকবৃন্দকে এমপিও দেয়া হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রশিক্ষকগণ বছরের পর বছর নামমাত্র বেতন কিংবা বিনা বেতনে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন।

বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষকগণ দেশ-বিদেশের ট্রেনিং থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শিক্ষকরাই যদি পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ট্রেনিং না পান তবে তারা উন্নত প্রশিক্ষক হবেন কিভাবে? আমাদের বেসরকারি টির্চাস ট্রেনিং কলেজগুলোর শিক্ষকদের মাঝে এখনো কাক্সিক্ষতমানের ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি। কারণ আমাদের শিক্ষকগণ আজও তথ্য-প্রযুক্তির উপর কোনো ট্রেনিং পায়নি এবং কলেজগুলোতে ল্যাব কিংবা পাঠদানের জন্য কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, সরকারের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বান্তবায়নে শিক্ষকরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি ও বেসরকারি কলেজেগুলোতে অভিন্ন কারিকুলাম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আকাশ-পাতাল বৈষম্য বিরাজ করছে। যার কারণে উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, বেসরকারি টিটিসি প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরেও সরকারের কোনোরূপ আর্থিক সুবিধা আমরা পাইনি। তাই অনতিবিলম্বে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করে পাঁচ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দাবি আদায়ের লক্ষে আগামী ২০ জুলাই ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মহাসমাবেশ সফল করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রফেসর ফাতেমা খাতুন, অধ্যাপক রমজান আলী, ইমরানুজ্জামান আল মুজাহিদ ফকির, শিলা বার্ণাডেট গমেজ, আবদুস সামাদ, মো: বাবুল হোসেন, মো: আবুল হোসেন, শাহিদা আক্তার, সাদিয়া আফরোজ, সুলতানা সাজিদা ইয়াসমিন, মো: হুমায়ুন কবির, ফাতেমা খাতুন, জয়নাল আবেদীন, মো: রনজু শেখ, হামিদা আক্তার, রুবিনা আক্তার, রাহাতুল আবকা, আবুল খায়ের মুকুল, হোসনে আরা বেগম, রওশন আরা, মো: কলিম উল্লাহ, কালী পদ রায়, কামরুজ্জামান, আবদুর রউফ তপাদার, শানজিদা শাহনাজ পারভীন. এবিএম আবদুস সোবহান, আবদুল হালিম, মো: আলী প্রমুখ।


আরো সংবাদ