২২ আগস্ট ২০১৯
প্রাইভেট-কোচিং ছাড়াই জিপিএ ৫

উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় দিনমজুর রুবেল

বিদ্যুৎহীন বাড়িতে হারিকেনের আলোয় পড়ালেখা করে জিপিএ ৫ পেয়েছে সে - নয়া দিগন্ত

প্রাইভেট বা কোচিং না করে শুধুমাত্র নিয়মিত ক্লাশ করেই ভাল ফলাফলের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মেধাবী রুবেল হোসেন। একবেলা দিনমজুরের হাড়ভাঙ্গা কাজ আর অন্যবেলা ক্লাশ করেও চলতি বছর নাটোরের বাগাতিপাড়ার তকিনগর আইডিয়াল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনি জিপিএ ৫ পেয়েছেন।

কিন্তু ভাল ফলাফল করেও শুধুমাত্র অর্থাভাবের কারনে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় রয়েছেন রুবেল। শনিবার উপজেলার তকিনগর মাঠে হলুদ ক্ষেতে দিনমজুরের কাজের সময় কথা হয় তার সাথে।

তিনি জানালেন, তার বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার কামারহাটী গ্রামে। তিনি নানা আবুল কালামের বাড়ি বাগাতিপাড়ার তকিনগর গ্রামে থেকে পড়ালেখা করেন। অভাব অনটনের সংসারে সকালে ক্লাশ করে বিকালে এক বেলা মাঠে শ্রমিকের কাজ করে পড়া-লেখা করেছেন। সেই জমানো টাকা এবং শিক্ষকদের সহায়তায় কলেজ থেকে উপবৃত্তির টাকা দিয়ে বই পত্র খাতা কলম কিনতেন রুবেল। বিদ্যুৎহীন বাড়িতে হারিকেনের আলোয় পড়ালেখা করে একই প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি শাখার কম্পিউটার ট্রেডে এসএসসি পরীক্ষাও জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন। এবার কারিগরি বিএম শাখার হিসাবরক্ষণ ট্রেড থেকে জিপিএ ৫ পেলেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ে অনার্স পড়তে চান। কিন্তু টাকার অভাবে ভর্তির জন্যও কোন কোচিং করতে পারেননি তিনি।

এদিকে দিনমজুর বাবা এনামুল হকের একার পক্ষে সংসারের খরচের পাশাপাশি ছোট বোন ইমা খাতুন ও রুবেলের পড়া-লেখার খরচ জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। তবে কি দরিদ্রতার কারনেই নষ্ট হয়ে যাবে এক মেধাবীর উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের ইচ্ছা? এমন প্রশ্ন তার মা সাবিনা বেগমের। এদিকে কলেজের হিসাবরক্ষণ ট্রেডের শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, রুবেল অত্যান্ত মেধাবী ছাত্র। সুযোগ পেলে জীবনে অনেক বড় কিছু করতে পারবে সে।


আরো সংবাদ