১৯ অক্টোবর ২০১৯

বুয়েটের সর্বত্র শিক্ষার্থী নির্যাতনের কাহিনী

বুয়েটের সর্বত্র শিক্ষার্থী নির্যাতনের কাহিনী - ছবি : সংগৃহীত

শুধু শেরেবাংলা হলেই নয়, বুয়েটের অন্যান্য হলেও সাধারণ ছাত্র নির্যাতন চলে আসছে। দীর্ঘ দিন ধরেই বুয়েটে এই নির্যাতন কালচার চলে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ কথা জেনেও কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়নি বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি ওয়েব সাইট চালু করেছেন। যেখানে শত শত শিক্ষার্থী তাদের করুণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে গত ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পিটিয়ে হত্যা করে মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে। তিনি ওই হলের ১০১১ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা ছিলেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধরে নিয়ে রাতভর পিটিয়ে হত্যা করে আবরারকে। এই ঘটনায় আবরারের বাবা বাদি হয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার থেকে বাদ পড়ে যায় অমিত সাহা, যার নেতৃত্বে প্রথমে ডেকে নেয়া হয় আবরারকে। যে রুমে আবরারকে হত্যা করা হয় ওই রুমটির বাসিন্দাও অমিত সাহা। তাকে গতকাল রাজধানীর সবুজ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বুয়েট ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, শুধু শেরেবাংলা হলেই নয়, বুয়েটের প্রতিটি বাঁকে রয়েছে নির্যাতন ও হয়রানির কাহিনী; সাধারণ শিক্ষার্থীরা যেখানে কথায় কথায় র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন। সন্দেহ হলেই যাদের মোবাইল, ল্যাপটপ, পিসি তল্লাশি হতো। ছাত্রলীগের কথার অবাধ্য হলেই তাদের ওপর নানা অজুহাতে নেমে আসত নির্যাতন। কখনো পলিটিক্যাল রুমে নিয়ে, কখনো গেস্ট রুমে নিয়ে নির্যাতন করা হতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বুয়েট ক্যাম্পাসে দীর্ঘ দিন ধরেই ছাত্রলীগের বাইরে অন্যান্য ছাত্রসংগঠন তেমন সক্রিয় নয়, যে কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই ছিল ছাত্রলীগের টার্গেট।

শিক্ষার্থীরা কে কোথায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এমন তথ্য সংগ্রহের জন্য কিছু শিক্ষার্থী একটি ওয়েব সাইট চালু করেছিল; কিন্তু ছাত্রলীগের হুম-ি ধমকিতে ওই ওয়েব সাইট বন্ধ করতে বাধ্য হয় আয়োজকেরা। এই ওয়েব পেজটি আবারো চালু করেছে শিক্ষার্থীরা। মরঃৎবঢ়ড়ৎঃং.পড়স নামের এই সাইটে নিজের নাম গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারছেন নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা। এর আগে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের চালু করা ওয়েব পেজটি গত বুধবার বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে শিক্ষার্থীরা পেজটি চালু করেছিল। পুরনো পেজে গত দুই বছরে ১০৩টি অভিযোগ করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। সিএসই বিভাগের তৈরি ওই পেজটিতে আসা অভিযোগগুলো প্রশাসনকে জানানো হলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আবরার হত্যার পর ওই পেজে তিন শ’র মতো অভিযোগ এসেছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুয়েটের এক শিক্ষার্থী গতকাল বলেন, বুয়েটের নির্যাতনের এই ধারা তো নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন চলে আসছে। অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন যারা গোপনেও মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। নীরবেই তারা নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হতো না। অপর এক শিক্ষার্থী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব আমলে নিত না বলেই আবরারের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর নির্মম পরিণতি ঘটেছে


আরো সংবাদ