২১ নভেম্বর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের শর্তে পরীক্ষা নিতে রাজি প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের শর্তে পরীক্ষা নিতে রাজি প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা - ছবি : নয়া দিগন্ত

কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে প্রাথমিক শিক্ষক নেতাদের বৈঠক সমাপ্ত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা সচিবকে বেশ কিছু শর্তারোপ করেছেন সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি থেকে সরে আসতে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে শিক্ষক নেতাদের বৈঠক এবং তাতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা বা বেতন গ্রেডের কথা বলবেন, তাতেই রাজী শিক্ষক নেতারা। বৈঠক সম্পর্কে সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, শিক্ষক নেতাদের অলটিমেটাম প্রত্যাহার করে পরীক্ষা নেয়ার কাজে যোগ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অপর দিকে, একাধিক শিক্ষক নেতা বলেন, দাবির ব্যাপারে শিক্ষকরা অনড়। আজ জেলা প্রতিনিধিদের সম্মেলনে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আজ শুক্রবার রাজধানীতে ৬৪ জেলার প্রাথমিক শিক্ষক নেতাদের জরুরি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিতে আলটিমেটামের প্রেক্ষাপটে গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আকরাম আল হোসেনের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠন সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’-এর ২১ নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সচিবের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদির এবং মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত বৈঠক চলে।

বৈঠক সূত্র জানান, বৈঠকে সচিব মো: আকরাম-আল-হোসেন প্রথমেই শিক্ষক নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং পরে কথা বলেন। শিক্ষক নেতাদের সচিব জানান, তিনি অর্থ সচিবের সাথে গতকালই (৭ নভেম্বর) দীর্ঘ বৈঠক করেছেন এবং শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি এবং দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অর্থ সচিব প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল মেনে নিতে রাজি নন। প্রাথমিকের সচিব বলেন, প্রধান শিক্ষকদের ১১ এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩ গ্রেড এবং এর মাঝে সহকারী শিক্ষকদের পদ সৃষ্টি করে তাদের ১২ গ্রেড করার নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থ সচিব। প্রাথমিকের সচিবকে এ অনুসারেই প্রস্তাব পাঠানোর জন্য আগেই যে সম্মতি দিয়েছিলেন, সে অনুসারেই প্রস্তাব করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সচিব জানান। সচিব আসন্ন সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ও আলটিমেটাম প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান শিক্ষক নেতাদের। তিনি সমাপনী পরীক্ষার গুরুত্ব এবং এর সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আবেগ-অনুভূতি বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান শিক্ষক নেতাদের।

শিক্ষক নেতাদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক আনিসুর রহমান, উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামসুদ্দীন মাসুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। শিক্ষক নেতারা তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

সচিবের বক্তব্যের পর শিক্ষক নেতারা বলেন, তাদের দাবি ও দাবির যৌক্তিকতা সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মত না হলে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে শিক্ষক নেতাদের বৈঠকের আয়োজন করার অনুরোধ জানান। সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সহায়তা এবং সাক্ষাতের জন্য প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ পত্রসহ প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন সচিব।

শিক্ষক নেতারা সচিবকে জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ পেলে এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী যদি সহকারী শিক্ষকদের ১৫তম গ্রেড মেনে নেয়ারও কথা বলেন, তাতেও তারা রাজি। কিন্তু শিক্ষক নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা সমাপনী বর্জনের কর্মসূচি থেকে সরেও আসতে পারেন। তবে দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক শিক্ষক প্রতিনিধিদের আজ শুক্রবার জরুরি সম্মেলন হবে রাজধানীতে। সেখানেই পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ও আলটিমেটাম প্রত্যাহারের বিষয় চূড়ান্ত করতে হবে। সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের এবং সচিবের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হবে বলে সচিবকে জানান শিক্ষক নেতারা।

বৈঠক সূত্র জানান, এরপরই কোনো সিদ্ধান্ত ও সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে। সচিব বৈঠকস্থল ত্যাগ করার আগেও শিক্ষক নেতাদের পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এরপরও শিক্ষক নেতারা আরো প্রায় ১ ঘণ্টারও অধিক সময় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। বৈঠকে তুমুল হইচই হয়েছে বলে জানা গে


আরো সংবাদ