২৪ জানুয়ারি ২০২০

বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স বন্ধের নির্দেশ ইউজিসি’র

বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স বন্ধের নির্দেশ ইউজিসি’র - ছবি : সংগৃহীত

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় টাকার বিনিময়ে চলা ‘সান্ধ্য কোর্স’ বন্ধসহ ১৩ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসি বলছে, সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বিধায় এসব কোর্স বন্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়।

আজ বুধবার ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এক নির্দেশনা বা পরামর্শপত্রে এই নির্দেশ দিয়েছে। ইউজিসির ওই নির্দেশনাপত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় নিয়মনীতি মানতে মোট ১৩টি নির্দেশনা বা পরামর্শ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গত সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গণহারে চালু হওয়া সান্ধ্য কোর্সের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। এর দুই দিনের মাথায় ইউজিসি এমন নির্দেশনা দিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউজিসির একজন সদস্য বলেন, এসব নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা।

ইউজিসির ওই নির্দেশনাপত্রে বলা হয়, দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই নতুন বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হচ্ছে। এমনকি পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হচ্ছে। সরকারের আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করে দেয়া হচ্ছে ভূতাপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা। এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে ভিসিরা মেধা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রতিপালন করে যাচ্ছেন। তবু নানা কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মনীতি প্রতিপালনে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, যা কাম্য নয়।

সান্ধ্য কোর্স বন্ধের পরামর্শ ছাড়াও ১৩ দফা নির্দেশনার মধ্যে আরও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অনুষদ, বিভাগ, প্রোগ্রাম বা ইনস্টিটিউট খোলার ক্ষেত্রে ইউজিসির পূর্বানুমোদন, নতুন পদ সৃজনে ইউজিসির পূর্বানুমোদন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং পদোন্নতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সরকারের নিয়মনীতি প্রতিপালন, বিধিবহির্ভূতভাবে ‘সেশন বেনিফিট’ সুবিধা প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিম্নতর গ্রেড থেকে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত না করা।

এ ছাড়া সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করা, ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস নেয়া, শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে হল, অফিস ও ক্যাম্পাসের সর্বত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যৌন হয়রানি, র‍্যাগিং, সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়া, নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু এবং পরীক্ষা নেয়া ও ফল প্রকাশ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ, একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং এসব বিষয়ে প্রয়োজনে ইউজিসির পরামর্শ নেয়া।


আরো সংবাদ