১১ ডিসেম্বর ২০১৯

বশির আহমেদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে গাইলেন তারা

-

একুশে পদকপ্রাপ্ত ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের প্রয়াত বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদের আশিতম জন্মবার্ষিকী আগামী ১৮ নভেম্বর। আশিতম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সুযোগ্য উত্তরসূরি দুই সন্তান হোমায়রা বশির ও রাজা বশিরের উদ্যোগে আগামী ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘বশির আহমেদ সম্মাননা ২০১৯’-এর আয়োজন করা হয়েছে। তার জন্মবার্ষিকীতে তার শীর্ষ বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের প্রথিতযশা সঙ্গীতশিল্পী কনকচাঁপা ও হোমায়রা বশির, রাজা বশির গুরুর প্রতি গুরুদক্ষিণামূলক একটি বিষয়ভিত্তিক গান গেয়েছেন। গানের শিরোনাম হচ্ছে ‘তোমার উপমা তুমি’। গানটি লিখেছেন এনামুল হক অপু। গানটির সুর সঙ্গীত করেছেন রাজা বশির। গেল ১০ নভেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বশির আহমেদের বাসায় ‘সারগাম সাউন্ড স্টেশন’-এ তারা তিনজন এই গানে কণ্ঠ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক মইনুল ইসলাম খান। বলা যায়, সেই ছোট্ট বয়সে বশির আহমেদের কাছেই গানে হাতেখড়ি কনকচাঁপার। টানা এক যুগ তার কাছেই গানে তালিম নিয়েছিলেন তিনি। কনকচাঁপা এতটাই মেধাবী ছিলেন যে বশির আহমেদ তাকে টেপরেকর্ডার বলে অভিহিত করতেন। ওস্তাদকে নিয়ে গান গাওয়া প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, গানটির যেদিন ভয়েস দিলাম সেদিন সারাটি দিনই আমি মিশ্র এক অনুভূতির মধ্য দিয়ে পার করেছি। বারবারই শুধু মনের ভেতর অনুশোচনা হচ্ছিল ওস্তাদজি বেঁচে থাকতে কেন এমন একটি গান করা হলো না। তার জীবদ্দশায় এমন একটি গান হলে তিনি নিশ্চয়ই ভীষণ খুশি হতেন। রাজা বশির জন্মগতভাবে একজন শিল্পী। যে কারণে বাবাকে নিয়ে তার এই থিম সংটি যতটা চমৎকার হওয়ার ঠিক যেন তাই হয়েছে। আমার স্বামীও ছিলেন গানটির রেকর্ডিংয়ের সময়, তিনিও রাজার সুরসঙ্গীতে মুগ্ধ হয়েছেন। সত্যি বলতে কী, আমার ওস্তাদজি শুধু আমার ওস্তাদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার জীবনদর্শন। এমন একটি কাজের সাথে আমাকে সম্পৃক্ত রাখার জন্য হোমায়রা এবং রাজাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’ হোমায়রা বশির বলেন, ‘সত্যি বলতে কী, গুরু শিষ্যের ভাবনা থেকেই রাজা এবং আমার মাথায় এমন একটি গানের উদ্ভাবন। কনক আপাকে যখন গানটির প্রস্তাব করেছি তখন তিনি শুধু আফসোসই করলেন, সেইতো হলো, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেল। তার পরও সান্ত¡না বা ভালোলাগা এই যে, আব্বাকে নিয়ে এমন একটি কাজ করতে পেরেছি। আমি গানটি শুনলেই প্রতিটি মুহূর্তে শিহরিত হয়ে উঠছি। বারবার মনে হয় আব্বা বুঝি পাশেই আছেন। তিনি বেঁচে থাকলে আজ কী যে খুশি হতেন তা ভাষায় প্রকাশের নয়।’ রাজা বশির বলেন, ‘আব্বাকে নিয়ে সম্মাননা অনুষ্ঠান, আব্বাকে নিয়ে গান সবকিছুর মধ্যে আব্বা আম্মাকে খুব মিস করছি। আমি আব্বার চেয়ে আম্মাকে একটু বেশিই মিস করছি, কারণ আমার কাজে আম্মা পদে পদে হয়তো বলতেনÑ এটা হয়নি ওটা হয়নি। মিস করেছি আমার স্ত্রী রুনাকে। দেশে থাকলে সেও হয়তো আমার পাশে থেকে সহযোগিতা করত।’ এরই মধ্যে রাজার নির্দেশনাতেই গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের দিন তা প্রদর্শিত হবে এবং সারগাম সাউন্ড স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাবে। উল্লেখ্য, হোমায়রা ও রাজার পাশে থেকে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও রাজার ভাগ্নে সারগাম। বশির আহমেদের বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে পিঞ্জর খুলে দিয়েছি, অনেক সাধের ময়না আমার, মানুষের গান আমি শুনিয়ে যাব, ডেকো না আমারে তুমি কাছে ডেকো না, সজনীগো ভালোবেসে এত জ¦ালা, আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো ইত্যাদি।
ছবি : আলিফ হোসেন রিফাত


আরো সংবাদ