২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বার্লিনে ধর্মবিদ্বেষের শিকার ৩ মুসলিম তরুণী

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইসলামবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন তিন মুসলিম তরুণী। দুইটি পৃথক ঘটনায় তারা এ হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে সেখানকার পুলিশ।


আক্রান্তদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতের দিকে বার্লিনের মারজান শহরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি এসে সিরিয়ার দুই তরুণীর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারী ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই তরুণীর মুখে বারংবার ঘুষি মারতে থাকে। এ ঘটনায় উভয় তরুণী গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।


অন্য ঘটনায় হিজাব পরার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে এক নারী ১২ বছর বয়সী এক মেয়ের ওপর হামলা চালায়। আক্রান্ত মেয়েটি জানায়, ওই নারী তার হিজাব খুলে ফেলার এবং সুই দিয়ে তাকে আঘাত হানার চেষ্টা চালায়। ওই মেয়েটি জানায়, পুলিশ এসে পড়ায় কারণে পালিয়ে যাওয়ার আগে ওই মহিলা তাকে পিপার স্প্রে দিয়ে হামলা চালানোরও হুমকি দেয়।


জার্মান পুলিশ উভয় ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে।


জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সাথে সহনশীল আচরণ করলেও সেখানকার অনেক মানুষই অভিবাসী ও মুসলিম বিরোধী। তারা সুযোগ পেলেই মুসলিম অভিবাসীদের ওপর হামলা চালায়।


সূত্র : ডেইলি সাবাহ

 

আরো পড়ুন : ইহুদিবিদ্বেষে মহা সঙ্কটে জার্মানি

নয়া দিগন্ত অনলাইন
২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২১

ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষকে জার্মানির বড় সঙ্কট বলে মনে করছেন ইউরোপের অর্ধেকের বেশি জনগণ৷ ইউরোপীয় কমিশনের এক জরিপে সম্প্রতি এই তথ্য উঠে আসে৷


মঙ্গলবার প্রকাশিত সেই জরিপে বলা হয়, জার্মানির ও ফ্রান্সে নতুন করে ইহুদি বিদ্বেষ মাথা চাড়া দিচ্ছে৷ ইউরোপের পশ্চিমাদেশগুলো এই বিষয়ে জোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইতোমধ্যে৷


জরিপটিতে দেখা যায় জার্মানির ৬৬ শতাংশ লোক মনে করেন ইহুদি বিদ্বেষ তার দেশের একটি বড় সমস্যা৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫০ শতাংশ লোক এটিকে সমস্যা বলে মনে করছেন৷ ৪০-এর নিচের বয়সিদের একাংশ এটিকে শুধু জার্মানির নয় গোটা ইউরোপের সমস্যা বলে মনে করছেন৷


২৯ শতাংশ জার্মান এটিকে সমস্যা বলেই মনে করছেন না৷ ৫ শতাংশ জার্মান এ বিষয়ে কিচ্ছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন৷ অন্যদিকে জরিপে অংশ নেওয়া ইউরোপের অন্যদেশগুলোর জনগণর ৫০ শতাংশ ইহুদিবিদ্বেষকে বড় করে দেখছেন৷ কিন্তু ৪৩ শতাংশ এটিকে সমস্যা বলে মনে করছেন না৷


জরিপটি প্রকাশের সময় ইউরোপীয় কমিশন প্রাপ্তফলকে ‘মানবিক আচরণের ঘাটতি' বলে আখ্যা দেয়৷ ইউরোব্যারোমিটার নামে সেই জরিপ প্রকাশের সময় টুইটে কমিশন জানায়, এটি দুঃখজনক যে গোটা ইউরোপের জনগণের মস্তিষ্কে ইহুদি বিদ্বেষের মতো কুৎসিত একটি বিষয় এখনও সযতনে লালিত হচ্ছে৷ এমন সময় এই সমীক্ষাটি পাওয়া গেল, যখন ঘৃণাকে রাজনীতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়৷ তবে বিবৃতিতে এও বলা হয় যে, ইহুদিবিদ্বেষের পাশাপাশি এই আচরণ বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ এটিকে আশাব্যঞ্জক বলে দাবি করা হয় সেই বিবৃতিতে৷


২০১৫ সাল থেকে জার্মানিতে ইহুদিবিদ্বেষ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে৷ ২০১৮ সালেই এক সিরিয়ান আশ্রয়প্রার্থীকে দেখা গেছে ক্রুদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তির ওপর আঘাত করছেন এবং তাকে আরবী ভাষায় ইহুদি বলে সম্বোধন করছেন৷


জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ইসরাইলের টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাতকারেও ইহুদিবিদ্বেষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে স্বীকার করেন৷


তবে জার্মান সরকার ইতোমোধ্যে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের চেষ্টায় নানা প্রকল্প নিয়েছে৷ তারই অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে ফেলিক্স ক্লেইনকে জার্মানির ইহুদিবিষয়ক কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে৷ কমিশনটি বিদ্বেষের শিকার এমন ইহুদিদের অভিযোগ দাখিল করার জন্য একটি ওয়েবসাইট উন্মুক্ত করেছে৷


ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ