১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তুরস্কের তিন সিটি মেয়রকে বরখাস্ত, রাজনীতিতে মৃদু উত্তেজনা

-

গত ১৯ আগষ্ট পূর্ব তুরস্কের কুর্দিশ অধ্যুষিত ভান, দিয়ারবাকির ও মার্দিন প্রদেশের সিটি মেয়রদের বরখাস্ত করে সেখানে প্রাদেশিক প্রশাসকের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই জনপ্রতিনিধিরা তুরস্কের সংবিধানের ১২৭ নং ধারার নিয়মনীতি লংঘন করায় তারা স্বপদে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলেছেন। সদ্য বরখাস্তকৃত তিন মেয়র হলেন ভান প্রদেশের মেয়র বেদিয়া ওজগোকচে, মার্দিন প্রদেশের মেয়র আহমেদ তুর্ক ও দিয়ারবাকির প্রদেশের মেয়র সেলচুক মিজরাকলি। এই তিনজন ছিলেন কুর্দিশ জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল এইচডিপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধি। 

তুরস্কের সকল সিটি কর্পোরেশন স্বাধীনভাবে অভ্যন্তরীণ কাজ করতে পারায় সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ থাকে না। সরকারের অভিযোগ এই তিন মেয়র কুর্দিশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পিকেকের চার শতাধিক তালিকাভুক্ত সদস্যকে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছে। প্রজাতান্ত্রিক তুরস্কের সকল সরকার প্রধানরা তুরষ্কের অখন্ডতা ধরে রাখতে এই অঞ্চলে বিদ্রোহী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পিকেকের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে। এই তিন সিটি মেয়রের নতুন নিয়োগের কারণে এই অঞ্চলে সরকারের নিয়মিত অপারেশনে সমস্যা হচ্ছিলো। 

তিন মেয়রের বিরুদ্ধেই গত কয়েক দশকে পিকেকের সাথে সম্পর্কের কারণে মামলা হয়েছিলো। গত ৩১ মার্চ নির্বাচনে তারা বিজয়ী হওয়ার পর কয়েক মাসে সন্ত্রাসীদের সাথে নিহত পুলিশ ও সেনা সদস্যদের সাথে না থেকে তারা পিকেকের সদস্যদের সহযোগিতা করে আসছিলো। এমনকি মৃত্যুবরণকারী সরকারী কর্মকর্তাদের পরিবর্তে এই মেয়ররা নিহত সন্ত্রাসীদের জানাযায় উপস্থিত হওয়া, তাদের পরিবারের সাথে সাক্ষাত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার অভিযোগ এসেছে৷

দিয়ারবাকির সিটি মেয়র সেলচুক মিজরাকলি ৬ জন নিহত সন্ত্রাসী পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এবং জানাযায় অংশ নেয়। এছাড়াও তিনি নিহত সন্ত্রাসীদের নামে বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করেন। গত ১০ আগষ্ট তার নেতৃত্বে নিহত বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের কবরে ফুল দেয় এবং কবর উন্নয়নে অর্থ প্রদান, আহত সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন ভিআইপি হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করে। দিয়ারবাকির মেয়র বিভিন্ন সময় পিকেকের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ ওযালানের ছবিসহ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। 

সরকারের এই সিদ্ধান্তে জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি সাধুবাদ জানালেও সরকার বিরোধী অধিকাংশ দল সরকারের সমালোচনা করছে। এমনকি একে পার্টির সাবেক দুই নেতা তুরষ্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ গুল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দাউতউলু সমালোচনা করেন। একে পার্টির সাবেক এই নেতারা আলাদা প্লাটফর্ম থেকে নতুন দল গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। 

তুরস্ক সরকার সিরিয়ানদের নিজ দেশে পুনর্বাসনের জন্য তুরষ্কের সীমান্ত এলাকায় ‘সেফ সিকিউরিটি  জোন’ তৈরির জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই কাজের প্রতিবন্ধক হিসেবে পিকেকে এবং সীমান্ত এলাকার এই মেয়রদের মনে করে আসছিলো। তাই তাদের সন্ত্রাসীদের সাথে সম্পৃক্ততার পূর্বের বিভিন্ন মামলা এবং সাম্প্রতিক কর্মকান্ডগুলোকে সংবিধান লংঘন হিসেবে অবিহিত করে তাদের বরখাস্ত করে সরকার সীমান্ত এলাকায় নিরাপদ জোন এবং সিরিয়ান পুনর্বাসনের কাজ এগিয়ে নিতে চায়।

 


আরো সংবাদ